ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বহুমাত্রিক অস্বস্তির নাম। যদিও দেশটি পরাশক্তি নয়, তবে তার কৌশলগত অবস্থান, আঞ্চলিক প্রভাব, সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা এবং ‘অ্যান্টি-ওয়েস্টার্ন’ আদর্শ যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-কৌশলগত পরিকল্পনার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, নিচের বিষয়গুলো ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের চোখে এক সতর্ক দৃষ্টিতে দেখা প্রয়োজনীয় করে তুলেছে:
১. পারমাণবিক কর্মসূচি ও অস্ত্রভীতি
ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ দাবি করলেও পশ্চিমা বিশ্ব আশঙ্কা করে, দেশটি গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে। ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্রে সক্ষম হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য পাল্টে দেবে, যা ইসরায়েলের মতো যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের জন্য সরাসরি হুমকি।
২. আঞ্চলিক শক্তি ও প্রভাব বিস্তার
ইরান সরাসরি লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী এবং সিরিয়ার আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এই সব গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ইরান হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত প্রতিবন্ধক।
৩. হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি নিরাপত্তা
বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তেল সরবরাহ হয় হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে, যেটি ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন। যেকোনো উত্তেজনায় ইরান এই প্রণালি অবরুদ্ধ করতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও মার্কিন অর্থনীতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
৪. নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টিকে থাকা
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বিকল্প বাণিজ্যিক পথ তৈরি করেছে—বিশেষ করে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। এ ছাড়া নিজস্ব উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি চাপ মোকাবিলার কৌশল গড়ে তুলেছে।
৫. বিপ্লবী আদর্শ ও মার্কিনবিরোধী অবস্থান
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকেই ইরান পশ্চিমবিরোধী আদর্শে বিশ্বাসী, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে “শয়তান” আখ্যা দিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবেই প্রচার চালায়। এই আদর্শিক অবস্থান বিশ্বব্যাপী মার্কিনবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।
৬. সাইবার ও ছায়াযুদ্ধের দক্ষতা
ইরান আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে মার্কিন অবকাঠামো এবং ইসরায়েলি সিস্টেমে সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। এটি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।
৭. মিত্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতি হুমকি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র—ইসরায়েল, সৌদি আরব, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বিরোধ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এই উত্তেজনা যে কোনো সময় সরাসরি যুদ্ধের রূপ নিতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াতে হতে পারে।
তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, সিএনএন, বিবিসি, ফরেন অ্যাফেয়ার্স

ডেস্ক রিপোর্ট 





















