ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কক্সবাজারের ইনানী বনে দেখা মিলল বিরল মেঘলা চিতার, মিলেছে আরও ২১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ছেলেকে কারামুক্তি দেখার তৃষ্ণা রেখেই মারা গেলেন চিন্ময় দাসের মা রুমিন ফারহানার মধ্যে শেখ হাসিনার ছায়া দেখা যায়: রাশেদ খাঁন ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত: সাদিক কায়েম ও সেলিম উদ্দিন চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি, সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় সার পাচ্ছেন না কৃষক ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রের ফাঁদে অন্তঃসত্ত্বা নবম শ্রেণির মাদরাসাছাত্রী! রাজধানীর মহাখালীতে টোবাকো ভবনে ভয়াবহ আগুন নির্বাচনে জয়ী হলে প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের এসএসসির খাতা পুনঃনিরীক্ষণ: নতুন জিপিএ-৫ পেল ৩ হাজার ৭৯ জন ধানমন্ডি-২৭ নম্বর বহুতল ভবনে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৪ ইউনিট

সম্পর্ক আরো ‘মজবুত’ করতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৭৫ বার পড়া হয়েছে

আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকা সফর করবেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক হবে। ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী সফরটি দু’দিনের হলেও কার্যত তিনি ২৪ ঘণ্টার চেয়ে একটু বেশি সময় ঢাকায় অবস্থান করবেন। উভয় পক্ষের বৈঠকে দুই দেশের কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসামুক্ত ভ্রমণবিষয়ক তাৎপর্যপূর্ণ সমঝোতা সই হবে। তা ছাড়া বেশকিছু চুক্তি হওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে ৪ দফা পরিবর্তনের পর নতুন এ তারিখ নির্ধারিত হলো। প্রস্তাবিত সূচি মতে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ আগস্ট তারা বাংলাদেশ সফর করবেন। দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি- একটি সফর নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে এতটা নাটক হয়নি। যদিও ১৩ বছর বাংলাদেশ-পাকিস্তান উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় বন্ধ ছিল। তার আগে হয়েছে টুকটাক।

কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি অর্থাৎ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাস্তবের চেয়ে বেশি প্রদর্শনের চেষ্টা হচ্ছে! যদিও বাইরের প্রচণ্ড সমালোচনা সত্ত্বেও সেগুনবাগিচা আরও ৮-১০টি দেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ওই দেশের সঙ্গে সম্পর্কটা অস্বাভাবিক পর্যায় থেকে ‘স্বাভাবিক’ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন। কোনো অবস্থাতেই সরকারিভাবে প্রদর্শনেচ্ছাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ প্রস্তাবনা মতে, গত ২৭ এপ্রিল ইসহাক দারের ঢাকা আসার কথা ছিল। ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা চরমে উঠার পরিপ্রেক্ষিতে শেষ মুহূর্তে এতে সফরটি স্থগিত করা হয়।

স্মরণ করা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ইসহাক দারের সফর না হলেও গত ১০ মাসে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কমপক্ষে চার দফা বৈঠক হয়েছে। চলতি মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বাংলাদেশ সফর করেছেন। গত এপ্রিলে বাংলাদেশ সফর করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ। সে সময় দুই দেশের মধ্যে ১৫ বছর স্থগিত থাকা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক ফরেন অফিস কনসালটেশন বা এফওসি অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আকাশপথে সংযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃষি খাতে সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শীর্ষ বৈঠকও হয়েছে এরমধ্যে: ওদিকে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এবং ডিসেম্বরে কায়রোতে ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। সেখানে অন্যান্য আলোচনার মধ্যে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর মীমাংসা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বরাতে বলা হয়- অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ‘বিষয়গুলো বারবার আসছে। আসুন, আমরা সামনে এগিয়ে যেতে সেই বিষয়গুলোর ফয়সালা করি।’ তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিষয়গুলো চিরতরে সুরাহা করে ফেলা ভালো হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের ইনানী বনে দেখা মিলল বিরল মেঘলা চিতার, মিলেছে আরও ২১ প্রজাতির বন্যপ্রাণী

সম্পর্ক আরো ‘মজবুত’ করতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১১:৩৩:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

আগামী ২৩ আগস্ট ঢাকা সফর করবেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। সফরকালে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক হবে। ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী সফরটি দু’দিনের হলেও কার্যত তিনি ২৪ ঘণ্টার চেয়ে একটু বেশি সময় ঢাকায় অবস্থান করবেন। উভয় পক্ষের বৈঠকে দুই দেশের কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসামুক্ত ভ্রমণবিষয়ক তাৎপর্যপূর্ণ সমঝোতা সই হবে। তা ছাড়া বেশকিছু চুক্তি হওয়ারও প্রস্তাব রয়েছে।

এদিকে ৪ দফা পরিবর্তনের পর নতুন এ তারিখ নির্ধারিত হলো। প্রস্তাবিত সূচি মতে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ২৩ আগস্ট তারা বাংলাদেশ সফর করবেন। দায়িত্বশীল কূটনৈতিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি- একটি সফর নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে এতটা নাটক হয়নি। যদিও ১৩ বছর বাংলাদেশ-পাকিস্তান উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় বন্ধ ছিল। তার আগে হয়েছে টুকটাক।

কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি অর্থাৎ হাসিনা সরকারের বিদায়ের পর পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বাস্তবের চেয়ে বেশি প্রদর্শনের চেষ্টা হচ্ছে! যদিও বাইরের প্রচণ্ড সমালোচনা সত্ত্বেও সেগুনবাগিচা আরও ৮-১০টি দেশের মতো দক্ষিণ এশিয়ার ওই দেশের সঙ্গে সম্পর্কটা অস্বাভাবিক পর্যায় থেকে ‘স্বাভাবিক’ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছেন। কোনো অবস্থাতেই সরকারিভাবে প্রদর্শনেচ্ছাকে প্রশ্রয় না দেওয়ার পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ প্রস্তাবনা মতে, গত ২৭ এপ্রিল ইসহাক দারের ঢাকা আসার কথা ছিল। ভারতের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা চরমে উঠার পরিপ্রেক্ষিতে শেষ মুহূর্তে এতে সফরটি স্থগিত করা হয়।

স্মরণ করা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ইসহাক দারের সফর না হলেও গত ১০ মাসে নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে কমপক্ষে চার দফা বৈঠক হয়েছে। চলতি মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি বাংলাদেশ সফর করেছেন। গত এপ্রিলে বাংলাদেশ সফর করেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব আমনা বালুচ। সে সময় দুই দেশের মধ্যে ১৫ বছর স্থগিত থাকা পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক ফরেন অফিস কনসালটেশন বা এফওসি অনুষ্ঠিত হয়। পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ওই বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আকাশপথে সংযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃষি খাতে সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

শীর্ষ বৈঠকও হয়েছে এরমধ্যে: ওদিকে গত সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এবং ডিসেম্বরে কায়রোতে ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের। সেখানে অন্যান্য আলোচনার মধ্যে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর মীমাংসা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বরাতে বলা হয়- অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, ‘বিষয়গুলো বারবার আসছে। আসুন, আমরা সামনে এগিয়ে যেতে সেই বিষয়গুলোর ফয়সালা করি।’ তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিষয়গুলো চিরতরে সুরাহা করে ফেলা ভালো হবে।