ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আলজাজিরাকে নিষিদ্ধ করল পাকিস্তান, অভিযোগ ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ ইসরায়েলের সঙ্গে নাৎসি শাসনের তুলনা করা অপরাধ নয়: জার্মানির আদালত শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইনফান্তিনোকে বাঁচাতে ‘সামর্থ্যের শেষ বিন্দু দিয়ে’ চেষ্টা করবেন ট্রাম্প এবার কিউরেটরদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে বিসিবি যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে বাড়ছে ইসরায়েলিদের দেশত্যাগ ‘ওদের গুলি করো’, শেখ হাসিনার নির্দেশ নিয়ে আল জাজিরার ইনভেস্টিগেশন জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার সংগ্রাম শুরু হয়েছে: জামায়াত আমির সেপা সই আজ দক্ষিণ কোরিয়ার, বাংলাদেশের জন্য খুলছে ১১১ সেবা উপখাত বাংলাদেশকে ‘নিজের বাড়ি’ বললেন ব্রাজিল কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোস

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১৬ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। সরকার ও দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং জনসম্পৃক্ততার মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত ছয় মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে কাজের গতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়ানোর মতো বিষয়গুলো মূল্যায়নের আওতায় রাখা হয়েছে। প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তি এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্রেট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা এবং তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। তাই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া পদক্ষেপ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় ভূমিকার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আলজাজিরাকে নিষিদ্ধ করল পাকিস্তান, অভিযোগ ‘হলুদ সাংবাদিকতা’

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

আপডেট সময় ১২:১৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

আগামী ১৬ আগস্ট বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদলের আলোচনা জোরালো হয়েছে। সরকার ও দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং জনসম্পৃক্ততার মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গত ছয় মাসে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে সরকারের ভেতরে ও বাইরে পর্যালোচনা চলছে। বিশেষ করে কাজের গতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা এবং অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়ানোর মতো বিষয়গুলো মূল্যায়নের আওতায় রাখা হয়েছে। প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে ব্যর্থ কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়তে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টন, নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তি এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্রেট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা এবং তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা দলগুলোর মধ্য থেকেও কয়েকজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় মাহমুদুর রহমান মান্না, ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। তাই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া পদক্ষেপ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় ভূমিকার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।