ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বেই বিদায় সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশ দোকানে ডাকাতি: প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার মেসির প্রশংসায় বিনয়ী মেদিনা, বললেন—‘অধিনায়কের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত’ অপারেশন সিঁদুর: নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশ ভারতের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় পাশে থাকবে চীন শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে কমিটি, এক মাসের মধ্যে সুপারিশ সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে এক গ্রাম সোনার আংটি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ইরান

তেল থেকে ডলার, ডলার থেকে গাড়ি–বাইক: শিগ্রই যুদ্ধের ধাক্কা আসছে বাজারে

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • ২০২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, বাংলাদেশ | ০৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

তেলের দাম ও সরবরাহ সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ফিউচার মার্কেটে ক্রুড তেলের দাম বেড়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে, তাই এই অঞ্চলে যদি সামান্য সময়ের জন্যও পরিবহন ব্যাহত হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

অনেক বিশ্লেষক ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার বা তারও বেশি পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়তে শুরু করেছে।

ডলার ও বৈশ্বিক বাজারের প্রতিক্রিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হচ্ছে, যা অনেক উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ডলার শক্তিশালী হওয়ার ফলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে একই পণ্য কিনতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং শিল্প কাঁচামালের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনে চাপ তৈরি হয়, যার প্রভাব ধীরে ধীরে সাধারণ ভোক্তা পণ্যেও পৌঁছে যায়।

গাড়ি ও বাইকের দামে সম্ভাব্য প্রভাব

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব শুধুমাত্র তেল বা পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব ধীরে ধীরে গাড়ি, মোটরসাইকেল ও যন্ত্রাংশ বাজারেও পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোতে এর ফলে সাধারণত দেখা যায়—

  • নতুন গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দাম বৃদ্ধি

  • জ্বালানিসংক্রান্ত যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিং খরচ বাড়া

  • পরিবহন ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি

  • ব্যাংক ঋণ ও ফাইনান্সিং খরচ বাড়ার সম্ভাবনা

বিশেষ করে তেলের দাম বাড়লে গাড়ি উৎপাদন, পরিবহন এবং আমদানির সামগ্রিক ব্যয় বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপ সৃষ্টি করে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দ্রুত কমে না আসে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

তাদের মতে, ভবিষ্যতে যদি তেলের দাম আরও বাড়ে, তাহলে বিভিন্ন পণ্য ও যানবাহনের দামও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই কারণে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য আগাম কেনার সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে লাভজনক হতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের গতিপ্রকৃতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন কতটা স্বাভাবিক থাকে তার ওপর।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ

তেল থেকে ডলার, ডলার থেকে গাড়ি–বাইক: শিগ্রই যুদ্ধের ধাক্কা আসছে বাজারে

আপডেট সময় ০৩:৫৮:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

ঢাকা, বাংলাদেশ | ০৫ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

তেলের দাম ও সরবরাহ সংকট

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক ফিউচার মার্কেটে ক্রুড তেলের দাম বেড়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮২ থেকে ৮৪ মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে, তাই এই অঞ্চলে যদি সামান্য সময়ের জন্যও পরিবহন ব্যাহত হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

অনেক বিশ্লেষক ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় এবং পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার বা তারও বেশি পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।

এর ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও বাড়তে শুরু করেছে।

ডলার ও বৈশ্বিক বাজারের প্রতিক্রিয়া

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হচ্ছে, যা অনেক উন্নয়নশীল দেশের মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ডলার শক্তিশালী হওয়ার ফলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোকে একই পণ্য কিনতে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং শিল্প কাঁচামালের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যাচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনে চাপ তৈরি হয়, যার প্রভাব ধীরে ধীরে সাধারণ ভোক্তা পণ্যেও পৌঁছে যায়।

গাড়ি ও বাইকের দামে সম্ভাব্য প্রভাব

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব শুধুমাত্র তেল বা পরিবহন খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব ধীরে ধীরে গাড়ি, মোটরসাইকেল ও যন্ত্রাংশ বাজারেও পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোতে এর ফলে সাধারণত দেখা যায়—

  • নতুন গাড়ি ও মোটরসাইকেলের দাম বৃদ্ধি

  • জ্বালানিসংক্রান্ত যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিং খরচ বাড়া

  • পরিবহন ও লজিস্টিক খরচ বৃদ্ধি

  • ব্যাংক ঋণ ও ফাইনান্সিং খরচ বাড়ার সম্ভাবনা

বিশেষ করে তেলের দাম বাড়লে গাড়ি উৎপাদন, পরিবহন এবং আমদানির সামগ্রিক ব্যয় বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপরই চাপ সৃষ্টি করে।

ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা দ্রুত কমে না আসে, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

তাদের মতে, ভবিষ্যতে যদি তেলের দাম আরও বাড়ে, তাহলে বিভিন্ন পণ্য ও যানবাহনের দামও ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে পারে। এই কারণে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য আগাম কেনার সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে লাভজনক হতে পারে।

বিশ্ববাজারে তেলের দামের গতিপ্রকৃতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন কতটা স্বাভাবিক থাকে তার ওপর।