ভবিষ্যতে যেকোনো সম্ভাব্য যুদ্ধ মোকাবিলায় নতুন অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম এবং উন্নত প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সক্ষমতা প্রস্তুত করেছে ইরান। এমন দাবি করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়ি-নিক।
স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সংঘাতে ইরানের প্রস্তুত করা নতুন কিছু ‘চমক’ সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রেই দেখা যাবে। তবে এসব সক্ষমতার বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
রেজা তালায়ি-নিকের দাবি, গত দুই বছরে ইরান দুটি যুদ্ধ, বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। ব্যাপক হামলা ও প্রতিপক্ষের ভারী অগ্নিশক্তির মধ্যেও দেশটির সেনাবাহিনী, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—আইআরজিসি এবং খাতাম আল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের প্রয়োজনীয় সামরিক চাহিদা পূরণ করা হয়েছে।
তার মতে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো ইরানের জন্য ক্ষয়ক্ষতি বয়ে আনলেও একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্প ও প্রযুক্তি খাতে নতুন অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করেছে।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের কৌশলগত মজুত গড়ে তুলেছিল। যুদ্ধ চলাকালেও প্রায় ৯ হাজার ৩০০টি জ্ঞানভিত্তিক ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত ছিল।
ইরানি এই কর্মকর্তার দাবি, এসব প্রতিষ্ঠান দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে। যুদ্ধের পর ইরানের অস্ত্র উৎপাদন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন আরও কয়েকগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন প্রযুক্তিতে নিজেদের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।
রেজা তালায়ি-নিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান এক হাজারের বেশি ধরনের অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদ উৎপাদন করছে। প্রতিরক্ষা খাতে দেশটির স্বনির্ভরতার হার ৯০ শতাংশের বেশি বলেও দাবি করেন তিনি।
তার দাবি, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন শুধু রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং নিজস্ব প্রযুক্তি ও নকশা উদ্ভাবনের সক্ষমতাও অর্জন করেছে।
সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, ওই যুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে বড় ‘চমক’ ছিল দেশটির স্থিতিস্থাপকতা। প্রতিপক্ষ ধারণা করেছিল, যুদ্ধের শুরুতেই ইরানের সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সক্ষমতা ভেঙে পড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
তিনি আরও জানান, ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল এখনো সমন্বিত ও অসমমিত পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামোর মধ্যেই আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া ১২ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ড্রোন প্রতিরোধব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে দাবি করেন রেজা তালায়ি-নিক। তার ভাষ্য, এর ফলে পরবর্তী সংঘাতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সবশেষে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতার ক্ষেত্রে আরও বেশ কিছু ‘চমক’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সময় এলে সেসব সক্ষমতা যুদ্ধক্ষেত্রেই প্রকাশ পাবে।

ডেস্ক রিপোর্ট 























