ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাণঘাতী ২০০০টি ক্রুজ মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যে আনছে যুক্তরাষ্ট্র, একটার দাম ১৫ লাখ ডলার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

এবার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেশটি তাদের ভান্ডারে থাকা প্রায় সব কটি অত্যাধুনিকস্টেলথক্ষমতাসম্পন্ন জেএএসএসএমইআর (JASSM-ER) ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ মজুত থেকেও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের কাছাকাছি সরিয়ে আনা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত থেকে একেকটি ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন বা ১৫ লাখ ডলার মূল্যের এই অস্ত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মার্চ মাসের শেষে জারি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘাঁটিসহ অন্যান্য স্থানে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘাঁটিগুলোতে অথবা যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ডে স্থানান্তর করা হবে। এই স্থানান্তরের ফলে যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে যেখানে ২ হাজার ৩০০টি জেএএসএসএমইআরের মজুত ছিল, সেখানে সারা বিশ্বের জন্য মাত্র ৪২৫টি অবশিষ্ট থাকবে। এই পরিমাণ মাত্র ১৭টি বি১বি বোমারু বিমানের একটি মিশনের জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া আরও প্রায় ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ক্ষতির কারণে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী।

জেএএসএসএমইআর বা জয়েন্ট এয়ারটুসারফেস মিসাইলএক্সটেন্ডেড রেঞ্জ ৬০০ মাইলের বেশি দূরত্ব পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। এটি শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কম পাল্লার জেএএসএসএমসহ (২৫০ মাইল রেঞ্জ) যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুতের প্রায় দুইতৃতীয়াংশই এখন ইরান যুদ্ধের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে সংকট দেখা দেয়। বর্তমান উৎপাদন হার অনুযায়ী, ব্যবহৃত এই অস্ত্রগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে। যুক্তরাষ্ট্র এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করছে, যাতে তাদের সেনাদের ঝুঁকি কমানো যায়। তবে এতে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলার জন্য রাখা অস্ত্রের মজুত কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে, যা তাদের সস্তা অস্ত্র ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে গত শুক্রবার একটি মার্কিন এফ১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পরপরই একটি এ১০ ওয়ার্টহগ অ্যাটাক জেট এবং দুটি কমব্যাট সার্চঅ্যান্ডরেসকিউ হেলিকপ্টার ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজারের বেশি জেএএসএসএমইআর ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ধরার অভিযানের সময় ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজার ২০০এর বেশি জেএএসএসএমইআর কেনার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে, তবে বেসলাইন জেএএসএসএমএর উৎপাদন ১০ বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন ২০২৬ সালে ৩৯৬টি দূরপাল্লার ভার্সন তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে লাইনটি পুরোপুরি প্রস্তুত করলে সর্বোচ্চ ৮৬০টি তৈরি করা সম্ভব। এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মেরিন এবং প্যারাট্রুপারসহ স্থলসেনাদের অঞ্চলে মোতায়েন করার ফলে ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খারগ দ্বীপ দখলের জল্পনা বাড়ছে। ট্রাম্প বুধবার রাতে এক ভাষণে বলেছেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।তবে এর মাধ্যমে তিনি ইরানের বেসামরিক নাগরিক, সামরিক বাহিনী নাকি সরকারের ওপর আঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুর শাহ গ্রেপ্তার

প্রাণঘাতী ২০০০টি ক্রুজ মিসাইল মধ্যপ্রাচ্যে আনছে যুক্তরাষ্ট্র, একটার দাম ১৫ লাখ ডলার

আপডেট সময় ১০:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

এবার ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে দেশটি তাদের ভান্ডারে থাকা প্রায় সব কটি অত্যাধুনিকস্টেলথক্ষমতাসম্পন্ন জেএএসএসএমইআর (JASSM-ER) ক্রুজ মিসাইল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ কারণে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য বরাদ্দ মজুত থেকেও এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইরানের কাছাকাছি সরিয়ে আনা হচ্ছে। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মজুত থেকে একেকটি ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন বা ১৫ লাখ ডলার মূল্যের এই অস্ত্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ মার্চ মাসের শেষে জারি করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঘাঁটিসহ অন্যান্য স্থানে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো এখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ঘাঁটিগুলোতে অথবা যুক্তরাজ্যের ফেয়ারফোর্ডে স্থানান্তর করা হবে। এই স্থানান্তরের ফলে যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ে যেখানে ২ হাজার ৩০০টি জেএএসএসএমইআরের মজুত ছিল, সেখানে সারা বিশ্বের জন্য মাত্র ৪২৫টি অবশিষ্ট থাকবে। এই পরিমাণ মাত্র ১৭টি বি১বি বোমারু বিমানের একটি মিশনের জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া আরও প্রায় ৭৫টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা ক্ষতির কারণে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী।

জেএএসএসএমইআর বা জয়েন্ট এয়ারটুসারফেস মিসাইলএক্সটেন্ডেড রেঞ্জ ৬০০ মাইলের বেশি দূরত্ব পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। এটি শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কম পাল্লার জেএএসএসএমসহ (২৫০ মাইল রেঞ্জ) যুক্তরাষ্ট্রের মোট মজুতের প্রায় দুইতৃতীয়াংশই এখন ইরান যুদ্ধের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকেই ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং দূরপাল্লার অস্ত্রের সরবরাহ নিয়ে সংকট দেখা দেয়। বর্তমান উৎপাদন হার অনুযায়ী, ব্যবহৃত এই অস্ত্রগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগবে। যুক্তরাষ্ট্র এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্যবহার করছে, যাতে তাদের সেনাদের ঝুঁকি কমানো যায়। তবে এতে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলার জন্য রাখা অস্ত্রের মজুত কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে যে তারা ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার একটি বড় অংশ ধ্বংস করে দিয়েছে, যা তাদের সস্তা অস্ত্র ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে গত শুক্রবার একটি মার্কিন এফ১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর পরপরই একটি এ১০ ওয়ার্টহগ অ্যাটাক জেট এবং দুটি কমব্যাট সার্চঅ্যান্ডরেসকিউ হেলিকপ্টার ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজারের বেশি জেএএসএসএমইআর ব্যবহার করেছে। এ ছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ধরার অভিযানের সময় ৪৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। ২০০৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজার ২০০এর বেশি জেএএসএসএমইআর কেনার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে, তবে বেসলাইন জেএএসএসএমএর উৎপাদন ১০ বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।

লকহিড মার্টিন কর্পোরেশন ২০২৬ সালে ৩৯৬টি দূরপাল্লার ভার্সন তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে লাইনটি পুরোপুরি প্রস্তুত করলে সর্বোচ্চ ৮৬০টি তৈরি করা সম্ভব। এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পরিকল্পনা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মেরিন এবং প্যারাট্রুপারসহ স্থলসেনাদের অঞ্চলে মোতায়েন করার ফলে ইরানের প্রধান তেল টার্মিনাল খারগ দ্বীপ দখলের জল্পনা বাড়ছে। ট্রাম্প বুধবার রাতে এক ভাষণে বলেছেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।তবে এর মাধ্যমে তিনি ইরানের বেসামরিক নাগরিক, সামরিক বাহিনী নাকি সরকারের ওপর আঘাতের ইঙ্গিত দিয়েছেন তা স্পষ্ট করেননি।