ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, নিহত ১ নোয়াখালীতে ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার ১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০ নিজেদের সক্ষমতার সামান্যই ব্যবহার করেছে ইরান, নিচ্ছে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি

তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ বিপিসির, কোন গাড়ি কতোটুকু পাবে?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:২২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৪১ বার পড়া হয়েছে

বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এবং অতিরিক্ত মজুদ ও আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনা বন্ধ করতে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) সংস্থাটির এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে এই সীমা ১০ লিটার। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি তেল পাবে।

পরিবহন খাতের জন্য জানানো হয়েছে, পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদের কারণে অনেক গ্রাহকের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।

এতে বলা হয়, কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশে নিয়মিত তেলের চালান আসছে এবং দ্রুতই ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

এদিকে বিকেলে রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই এবং কোনো সংকট তৈরি হবে না। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দুশ্চিন্তা দেখা যাচ্ছে তা মূলত আতঙ্কের কারণে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেলের মূল্যের সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে যতক্ষণ সম্ভব সরকার মূল্য বৃদ্ধি না করার পক্ষেই কাজ করছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। গ্রাহককে পরবর্তীবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে। এছাড়া ডিলাররা বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল তুলতে পারবেন না এবং নিয়মিত বিক্রির তথ্য ডিপোতে দিতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন করে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-যুক্তরাজ্য, কলকাঠি নাড়ছে ওয়াশিংটন

তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ বিপিসির, কোন গাড়ি কতোটুকু পাবে?

আপডেট সময় ০৭:২২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এবং অতিরিক্ত মজুদ ও আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনা বন্ধ করতে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) সংস্থাটির এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে এই সীমা ১০ লিটার। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি তেল পাবে।

পরিবহন খাতের জন্য জানানো হয়েছে, পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদের কারণে অনেক গ্রাহকের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।

এতে বলা হয়, কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশে নিয়মিত তেলের চালান আসছে এবং দ্রুতই ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

এদিকে বিকেলে রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই এবং কোনো সংকট তৈরি হবে না। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দুশ্চিন্তা দেখা যাচ্ছে তা মূলত আতঙ্কের কারণে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেলের মূল্যের সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে যতক্ষণ সম্ভব সরকার মূল্য বৃদ্ধি না করার পক্ষেই কাজ করছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। গ্রাহককে পরবর্তীবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে। এছাড়া ডিলাররা বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল তুলতে পারবেন না এবং নিয়মিত বিক্রির তথ্য ডিপোতে দিতে হবে।