ঢাকা , শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা বাউফলে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই, প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের হরমুজ নিয়ন্ত্রণ: ক্রিপ্টোতে টোল আদায়, ব্যারেল প্রতি গুনতে হবে ১ ডলার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, ফের খুলছে শ্রমবাজার আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী হেলিকপ্টারে গিয়ে নয়, নিজ কক্ষে বসেই দেখব কোন স্কুলে কী হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী ভোট বর্জন করলেন শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করতে রাশিয়ান দূতাবাসে মাওলানা মামুনুল হক এই সরকারের অধীনে প্রথম নির্বাচনেই কারচুপি-অনিয়ম ঘটছে: পরওয়ার ‘জঙ্গি এমপি’ অপবাদে খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্যের বিশেষ অধিকারের নোটিশ

তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ বিপিসির, কোন গাড়ি কতোটুকু পাবে?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:২২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৩০ বার পড়া হয়েছে

বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এবং অতিরিক্ত মজুদ ও আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনা বন্ধ করতে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) সংস্থাটির এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে এই সীমা ১০ লিটার। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি তেল পাবে।

পরিবহন খাতের জন্য জানানো হয়েছে, পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদের কারণে অনেক গ্রাহকের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।

এতে বলা হয়, কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশে নিয়মিত তেলের চালান আসছে এবং দ্রুতই ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

এদিকে বিকেলে রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই এবং কোনো সংকট তৈরি হবে না। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দুশ্চিন্তা দেখা যাচ্ছে তা মূলত আতঙ্কের কারণে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেলের মূল্যের সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে যতক্ষণ সম্ভব সরকার মূল্য বৃদ্ধি না করার পক্ষেই কাজ করছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। গ্রাহককে পরবর্তীবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে। এছাড়া ডিলাররা বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল তুলতে পারবেন না এবং নিয়মিত বিক্রির তথ্য ডিপোতে দিতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেষ আবদার পূরণ হলো না: পিআইসিইউতে বাবার সামনে পানির জন্য কাঁদতে কাঁদতেই নিভে গেল আকিরা

তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ বিপিসির, কোন গাড়ি কতোটুকু পাবে?

আপডেট সময় ০৭:২২:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

বাজারে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে এবং অতিরিক্ত মজুদ ও আতঙ্কিত হয়ে তেল কেনা বন্ধ করতে তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) সংস্থাটির এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

বিপিসির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন নিতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা প্রাইভেট কারের ক্ষেত্রে এই সীমা ১০ লিটার। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল (এসইউভি) ও মাইক্রোবাস দিনে ২০ থেকে ২৫ লিটার জ্বালানি তেল পাবে।

পরিবহন খাতের জন্য জানানো হয়েছে, পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন নেতিবাচক সংবাদের কারণে অনেক গ্রাহকের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা দেখা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয় নির্দেশনায়।

এতে বলা হয়, কিছু ভোক্তা ও ডিলার প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে দেশে নিয়মিত তেলের চালান আসছে এবং দ্রুতই ‘বাফার স্টক’ গড়ে উঠবে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

এদিকে বিকেলে রাজধানীর একটি ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই এবং কোনো সংকট তৈরি হবে না। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে যে দুশ্চিন্তা দেখা যাচ্ছে তা মূলত আতঙ্কের কারণে।

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেলের মূল্যের সমন্বয় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে যতক্ষণ সম্ভব সরকার মূল্য বৃদ্ধি না করার পক্ষেই কাজ করছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও দাম উল্লেখ করে রসিদ দিতে হবে। গ্রাহককে পরবর্তীবার তেল কেনার সময় আগের রসিদ দেখাতে হবে। এছাড়া ডিলাররা বরাদ্দের চেয়ে বেশি তেল তুলতে পারবেন না এবং নিয়মিত বিক্রির তথ্য ডিপোতে দিতে হবে।