ঢাকা , রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত মধ্যরাতে তাসনিম জারার বিস্ফোরক স্ট্যাটাস দ্বিতীয়বার বিয়ের ৪ মাস না যেতে আবারও বিচ্ছেদ, যা বললেন স্ত্রী সাবিকুন্নাহার অস্ত্র কিংবা ছুরি নয়, রক্তভর্তি সিরিঞ্জ নিয়ে ছিনতাই গাজীপুরে পাঁচ খুন: ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভয় ধরাচ্ছে নতুন হান্টাভাইরাস, যা বলছে ডব্লিউএইচও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামবে এনসিপি’ দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল স্কুলশিক্ষার্থী নাহিদের সন্ধান চায় পরিবার পরকীয়ার জেরে যুবককে হত্যা করে পুঁতে রাখলো মাটিতে, দম্পতি আটক

তিতুমীরে হল কমিটি ছাত্রদলের, পদ পাওয়া নেত্রীরাও বলছেন—‘আমরা রাজনীতি চাই না’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি করায় তিন শিক্ষার্থীকে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই সদ্য ঘোষিত ছাত্রদলের হল কমিটির কয়েকজন নেত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তারা হলে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আধিপত্য চান না। একই সঙ্গে তারা নিজেদের পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

সুফিয়া কামাল হল ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করা শিখা আক্তার বলেন, ‘আমি পূর্বে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, এখনও কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। হল কমিটি বা হলের রাজনীতি এসব আমি বুঝি না।’

তিনি বলেন, ‘আগে ছাত্রলীগ হলে আধিপত্য বিস্তার করত। তাই পূর্বের মতো যেন আর কেউ আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক আধিপত্য চাই না। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে চাই।’

একই হলের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ানো নায়িমা নাজনীন বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হবে, তুমি নাম দাও। আমি নিজের ইচ্ছায় নাম দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী রাজনীতি চায় না। তাই আমিও পদত্যাগ করেছি।’

এর আগে গত ৩ মে কলেজের সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণার পর আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা ছাত্রীনিবাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। এ ঘটনার জেরে কলেজ প্রশাসন তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে হলের নারী শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এদিকে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, হলের সিট বাতিলের নোটিশে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তাদের ভাষ্য, নোটিশে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তদন্ত কমিটি তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। এমনকি নির্ধারিত দিনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত না হয়েই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

তিতুমীরে হল কমিটি ছাত্রদলের, পদ পাওয়া নেত্রীরাও বলছেন—‘আমরা রাজনীতি চাই না’

আপডেট সময় ১০:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি করায় তিন শিক্ষার্থীকে আবাসিক হল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই সদ্য ঘোষিত ছাত্রদলের হল কমিটির কয়েকজন নেত্রী প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তারা হলে কোনো ধরনের রাজনৈতিক আধিপত্য চান না। একই সঙ্গে তারা নিজেদের পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

সুফিয়া কামাল হল ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করা শিখা আক্তার বলেন, ‘আমি পূর্বে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, এখনও কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই। হল কমিটি বা হলের রাজনীতি এসব আমি বুঝি না।’

তিনি বলেন, ‘আগে ছাত্রলীগ হলে আধিপত্য বিস্তার করত। তাই পূর্বের মতো যেন আর কেউ আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে, সেজন্য আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। আমরা কোনো রাজনৈতিক আধিপত্য চাই না। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে থাকতে চাই।’

একই হলের ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে সরে দাঁড়ানো নায়িমা নাজনীন বলেন, ‘আমাকে বলা হয়েছিল, ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হবে, তুমি নাম দাও। আমি নিজের ইচ্ছায় নাম দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের হলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী রাজনীতি চায় না। তাই আমিও পদত্যাগ করেছি।’

এর আগে গত ৩ মে কলেজের সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রদলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি ঘোষণার পর আবাসিক নারী শিক্ষার্থীরা ছাত্রীনিবাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। এ ঘটনার জেরে কলেজ প্রশাসন তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করে।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে হলের নারী শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

এদিকে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, কোনো ধরনের সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়াই তিন শিক্ষার্থীর হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, হলের সিট বাতিলের নোটিশে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

তাদের ভাষ্য, নোটিশে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তদন্ত কমিটি তাদের সঙ্গে কোনো কথা বলেনি। এমনকি নির্ধারিত দিনে তদন্ত কমিটির সদস্যরা উপস্থিত না হয়েই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বিক্ষোভ পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ছাত্রী হলে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।