ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিল মিশর ঢাকা-১৫ আসনের উন্নয়ন-জনসেবা নিশ্চিতে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সমন্বয় সভা সমালোচনার ঝড়ে গা ঢাকা দিলেন আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের ‘বিতর্কিত’ রেফারি গত দুই বিশ্বকাপে পেনাল্টি পাওয়ার শীর্ষে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত দুঃসংবাদ, তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পরও মিশরকে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার দিচ্ছে ফিফা যুক্তরাষ্ট্র দলের দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করল ফিফা বিশ্বকাপ কলঙ্কিত হয়েছে, ভিএআরের ভুলে আর্জেন্টিনাকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে ভারী বর্ষণে ঘরের দেয়াল ধসে শিশুর মৃত্যু আগামীর বাংলাদেশে নতুন করে কাউকে শেখ হাসিনা হতে দেব না: সারজিস আলম

শেষ পর্যন্ত দুঃসংবাদ, তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মিসরের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় পেলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টিনার। বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফাও। এবার বিশ্বকাপ চলাকালেই বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

 

আর্থিক লেনদেনে জালিয়াতি, কর ফাঁকি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে সংস্থাটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

 

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা ন্যাসিওনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও স্পন্সরশিপ চুক্তি থেকে আসা বিপুল অর্থ কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর হয়েছে, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসি ও মায়ামির ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করছে এফবিআই। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এএফএর আন্তর্জাতিক স্পন্সরশিপ ও বাণিজ্যিক আয় থেকে আসা কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

বিশেষভাবে নজরে রয়েছে ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি। বিদেশে এএফএর বিপণন আয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল এই প্রতিষ্ঠান। লা নাসিওনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোপন ব্যাংকিং নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এএফএর অন্তত ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ফ্লোরিডার একাধিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারী নেই, এমনকি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমেরও প্রমাণ মেলেনি। মার্কিন তদন্তকারীরা এখন বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যবসা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছেন। তাদের উদ্দেশ্য, এই অর্থ স্থানান্তর অর্থপাচার, অবৈধ অর্থ গোপন বা কর ফাঁকির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এই তদন্ত এমন সময় শুরু হলো, যখন নিজ দেশ আর্জেন্টিনাতেও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে রয়েছে এএফএ। দেশটির কর ও শুল্ক সংস্থা এআরসিএ’র তদন্তের ভিত্তিতে এরই মধ্যে এএফএর সদর দপ্তর, জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্র এবং রেসিং ক্লাব ও সান লরেঞ্জোসহ ১৭টি পেশাদার ক্লাবে একযোগে ৩০টির বেশি অভিযান চালানো হয়েছে।

 

তদন্তে একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগও উঠে এসেছে। এছাড়া পৃথক একটি ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের কর ফাঁকি মামলায় এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন এক আর্জেন্টাইন ফেডারেল বিচারক। ওই মামলায় তাদের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালের শেষ দিকে সাময়িকভাবে বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

 

তবে অর্থপাচার বা আর্থিক জালিয়াতির সব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এএফএ দাবি করে, এসব অভিযোগ ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন সাংবাদিকতামূলক প্রতিবেদ ‘ ছাড়া কিছু নয়।

 

সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা ম্যাচ নিয়ে এবার আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিল মিশর

শেষ পর্যন্ত দুঃসংবাদ, তদন্তের মুখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন

আপডেট সময় ১১:৫২:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

মিসরের বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ে ৩-২ গোলের জয় পেলেও বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না আর্জেন্টিনার। বিশ্বজুড়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছে ফিফাও। এবার বিশ্বকাপ চলাকালেই বড় ধরনের জটিলতায় পড়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

 

আর্থিক লেনদেনে জালিয়াতি, কর ফাঁকি এবং অর্থপাচারের অভিযোগে সংস্থাটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

 

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম লা ন্যাসিওনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আর্জেন্টিনার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও স্পন্সরশিপ চুক্তি থেকে আসা বিপুল অর্থ কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর হয়েছে, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ডিসি ও মায়ামির ফেডারেল প্রসিকিউটরদের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত করছে এফবিআই। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এএফএর আন্তর্জাতিক স্পন্সরশিপ ও বাণিজ্যিক আয় থেকে আসা কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

বিশেষভাবে নজরে রয়েছে ফ্লোরিডাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্যুরপ্রোডএন্টার এলএলসি। বিদেশে এএফএর বিপণন আয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল এই প্রতিষ্ঠান। লা নাসিওনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গোপন ব্যাংকিং নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এএফএর অন্তত ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ফ্লোরিডার একাধিক শেল কোম্পানির মাধ্যমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মচারী নেই, এমনকি উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমেরও প্রমাণ মেলেনি। মার্কিন তদন্তকারীরা এখন বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যবসা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছেন। তাদের উদ্দেশ্য, এই অর্থ স্থানান্তর অর্থপাচার, অবৈধ অর্থ গোপন বা কর ফাঁকির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া।

 

যুক্তরাষ্ট্রের এই তদন্ত এমন সময় শুরু হলো, যখন নিজ দেশ আর্জেন্টিনাতেও দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে রয়েছে এএফএ। দেশটির কর ও শুল্ক সংস্থা এআরসিএ’র তদন্তের ভিত্তিতে এরই মধ্যে এএফএর সদর দপ্তর, জাতীয় দলের অনুশীলন কেন্দ্র এবং রেসিং ক্লাব ও সান লরেঞ্জোসহ ১৭টি পেশাদার ক্লাবে একযোগে ৩০টির বেশি অভিযান চালানো হয়েছে।

 

তদন্তে একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগও উঠে এসেছে। এছাড়া পৃথক একটি ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের কর ফাঁকি মামলায় এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পাবলো তোভিগিনোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছেন এক আর্জেন্টাইন ফেডারেল বিচারক। ওই মামলায় তাদের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং ২০২৫ সালের শেষ দিকে সাময়িকভাবে বিদেশ ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।

 

তবে অর্থপাচার বা আর্থিক জালিয়াতির সব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এএফএ দাবি করে, এসব অভিযোগ ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও ভিত্তিহীন সাংবাদিকতামূলক প্রতিবেদ ‘ ছাড়া কিছু নয়।

 

সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস