ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গরুর মাংস পছন্দের কথা বলে সমালোচনার মুখে বিশ্বজিৎ ১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ না দিলে জরিমানা করবে সিভিল এভিয়েশন স্ত্রীকে নিজের মেয়ে-ভাইঝি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী, পরে বরের টাকা ও গয়না নিয়ে দিতেন চম্পট গৃহবধূর মৃত্যু: মারধরের ভিডিও ভাইকে পাঠিয়ে স্বামী ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও’ নিহত চার সৌদি প্রবাসীর পকেটেই ছিল বাড়ি ফেরার টিকিট রেহানা মরিয়ম নূর আমাদের বোন: ডাকসু ভিপি তিন ছাত্রকে বলাৎকার, মাদরাসা শিক্ষকের কক্ষে মিলল উত্তেজক ওষুধ গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে ‘সাধারণ ক্ষমা’ করে জামায়াত: রাশেদ খাঁন বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা পাটওয়ারী-সিফাত গংদের বক্তব্য ক্রিমিনাল অফেন্স: এ্যানি

স্ত্রীকে নিজের মেয়ে-ভাইঝি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী, পরে বরের টাকা ও গয়না নিয়ে দিতেন চম্পট

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:২২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

স্ত্রীকে কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাইঝি পরিচয় দিয়ে পাত্রপক্ষের কাছে হাজির করতেন স্বামী। পাত্রী পছন্দ হলে বিয়ে, এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই বরের টাকা ও গয়না নিয়ে চম্পট দিতেন স্ত্রী। এমনই অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত এক নববিবাহিত ব্যক্তির অভিযোগে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে, ওই ব্যক্তি তাকে নিজের ভাইঝি পরিচয় দিয়ে এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন বলে নববিবাহিত ওই যুবক অভিযোগ করেছেন। বিয়ের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, ওই নারী আসলে ওই ব্যক্তিরই স্ত্রী। এরপরচাচাশ্বশুরও নববিবাহিত স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে খবর, পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ওই দম্পতি আগেও একই কৌশল ব্যবহার করেছেন। তবে আগে তারা ধরা পড়েননি। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেননি বলে ধারণা পুলিশের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেগঙ্গার ওই মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। পরে ঘটকের মাধ্যমে এক যুবতীর সন্ধান পান তিনি। ছবি দেখে পাত্রী পছন্দ করেন। প্রায় এক মাস আগে একটি মন্দিরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পাত্রীকে আশীর্বাদ করেন ওই পাত্রীর চাচা। কন্যা সম্প্রদানও তিনিই করেন। ওই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, কনে তার একমাত্র ভাইঝি এবং পরিবারে তাদের আর কেউ নেই।

কিন্তু বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই বরের সন্দেহ হয়। খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন, মন্দিরে যাকে বিয়ে করেছেন, তিনি আগেই বিবাহিত। কন্যা সম্প্রদানকারী ওই ব্যক্তিই আসলে যুবতীর স্বামী। শুধু তাই নয়, তাদের দুই মেয়েও রয়েছে। ওই দুই মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে পাঠান। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে অভিযোগকারীও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে পুলিশের দ্বারস্থ হন। দেগঙ্গা থানার পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা পায়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তেরা স্বীকার করেছেন, তারা স্বামীস্ত্রী, চাচাভাইঝি নন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এর আগেও কখনো স্ত্রীকে ভাইঝি, আবার কখনো নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়ে পাত্রপক্ষের সামনে হাজির করেছেন। একাধিকবার স্ত্রীর বিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রতিবারই পাত্রপক্ষের কাছ থেকে টাকা ও গয়না নিয়ে তারা পালিয়ে যেতেন। স্বামীস্ত্রী মিলে পরিকল্পনা করে বেশ কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলেও দাবি পুলিশের। এবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তের জন্য তাদের নিজেদের হেফাজতে নিতে বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গরুর মাংস পছন্দের কথা বলে সমালোচনার মুখে বিশ্বজিৎ

স্ত্রীকে নিজের মেয়ে-ভাইঝি বলে বিয়ে দিতেন স্বামী, পরে বরের টাকা ও গয়না নিয়ে দিতেন চম্পট

আপডেট সময় ০৩:২২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্ত্রীকে কখনো নিজের মেয়ে, আবার কখনো ভাইঝি পরিচয় দিয়ে পাত্রপক্ষের কাছে হাজির করতেন স্বামী। পাত্রী পছন্দ হলে বিয়ে, এরপর কয়েক দিনের মধ্যেই বরের টাকা ও গয়না নিয়ে চম্পট দিতেন স্ত্রী। এমনই অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। শেষ পর্যন্ত এক নববিবাহিত ব্যক্তির অভিযোগে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গায়।

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার বলছে, ওই ব্যক্তি তাকে নিজের ভাইঝি পরিচয় দিয়ে এক যুবতীর সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিলেন বলে নববিবাহিত ওই যুবক অভিযোগ করেছেন। বিয়ের প্রায় এক মাস পর তিনি জানতে পারেন, ওই নারী আসলে ওই ব্যক্তিরই স্ত্রী। এরপরচাচাশ্বশুরও নববিবাহিত স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন তিনি। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে খবর, পাত্রপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ও সোনার গয়না হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে ওই দম্পতি আগেও একই কৌশল ব্যবহার করেছেন। তবে আগে তারা ধরা পড়েননি। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে পুলিশের কাছেও অভিযোগ করেননি বলে ধারণা পুলিশের। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেগঙ্গার ওই মধ্যবয়স্ক ব্যক্তি বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছিলেন। পরে ঘটকের মাধ্যমে এক যুবতীর সন্ধান পান তিনি। ছবি দেখে পাত্রী পছন্দ করেন। প্রায় এক মাস আগে একটি মন্দিরে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় পাত্রীকে আশীর্বাদ করেন ওই পাত্রীর চাচা। কন্যা সম্প্রদানও তিনিই করেন। ওই ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, কনে তার একমাত্র ভাইঝি এবং পরিবারে তাদের আর কেউ নেই।

কিন্তু বিয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই বরের সন্দেহ হয়। খোঁজখবর নিয়ে তিনি জানতে পারেন, মন্দিরে যাকে বিয়ে করেছেন, তিনি আগেই বিবাহিত। কন্যা সম্প্রদানকারী ওই ব্যক্তিই আসলে যুবতীর স্বামী। শুধু তাই নয়, তাদের দুই মেয়েও রয়েছে। ওই দুই মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যরা অভিযুক্ত দম্পতিকে ডেকে পাঠান। তবে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। অন্যদিকে অভিযোগকারীও নিজের অবস্থানে অনড় থেকে পুলিশের দ্বারস্থ হন। দেগঙ্গা থানার পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযোগের সত্যতা পায়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তেরা স্বীকার করেছেন, তারা স্বামীস্ত্রী, চাচাভাইঝি নন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, ওই ব্যক্তি এর আগেও কখনো স্ত্রীকে ভাইঝি, আবার কখনো নিজের মেয়ে পরিচয় দিয়ে পাত্রপক্ষের সামনে হাজির করেছেন। একাধিকবার স্ত্রীর বিয়ে দিয়েছেন তিনি। প্রতিবারই পাত্রপক্ষের কাছ থেকে টাকা ও গয়না নিয়ে তারা পালিয়ে যেতেন। স্বামীস্ত্রী মিলে পরিকল্পনা করে বেশ কয়েকটি পরিবারের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলেও দাবি পুলিশের। এবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তের জন্য তাদের নিজেদের হেফাজতে নিতে বারাসত মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়।