ঢাকা , শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিকাশ দোকানে ডাকাতি: প্রধান আসামি মামুন গ্রেফতার মেসির প্রশংসায় বিনয়ী মেদিনা, বললেন—‘অধিনায়কের জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত’ অপারেশন সিঁদুর: নিহত সেনাদের তালিকা প্রকাশ ভারতের রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার আলোচনায় পাশে থাকবে চীন শাহজালাল (র.) মাজারের দানের অর্থে স্বচ্ছতা আনতে কমিটি, এক মাসের মধ্যে সুপারিশ সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিলেই মিলবে এক গ্রাম সোনার আংটি, ব্যতিক্রমী উদ্যোগে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিজয় হরমুজ প্রণালি থেকে বছরে ৪০ বিলিয়ন ডলার আয় করবে ইরান নরসিংদীতে কুকুরের গলায় ইট বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা, ভাইরাল ভিডিওতে তোলপাড় মাদক নির্মূলে ব্যবস্থা না নিলে এমপি পদ ছাড়ব, গোলাবাড়িতে ১০ হাজার মানুষ নিয়ে লংমার্চের হুঁশিয়ারি

সম্পদ গোপনের খেলায়ও ‘নাম্বার ওয়ান’ সাকিব আল হাসান!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ৫৯৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সাকিব আল হাসান—যিনি একাধারে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার, আবার একই সঙ্গে নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। মাঠের পারফরম্যান্সে দেশকে যেমন গর্বিত করেছেন, মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডেও প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এবার আলোচনায় এসেছে তার কর ফাঁকি ও সম্পদ গোপনের অভিযোগ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর তদন্ত গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাকিবের নামে ১০৬ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩০ কোটির বেশি কর ফাঁকি দিয়েছেন তিনি বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের এফডিআর, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, বিদেশি টি-২০ লিগ থেকে উপার্জিত অর্থ, এমনকি ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ পুরস্কারের অর্থও কর নথিতে উল্লেখ করেননি সাকিব। বিসিবি ও কিছু বিজ্ঞাপনী চুক্তির আয়ের তথ্য থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন লিগ থেকে পাওয়া বিশাল অঙ্কের অর্থ কর রিটার্নে অনুপস্থিত।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২১-২২ করবর্ষ থেকে সাকিবের এফডিআরের পরিমাণ কমতে থাকে। গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, তিনি অর্থ দেশের বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সাকিবের বাড়ির তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আতিথ্য দেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছিল।

অর্থ ফাঁকির এই ঘটনায় ‘সাকিব আল হাসান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ ও ‘সাকিব আল হাসান ক্যানসার ফাউন্ডেশন’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও কর ফাঁকির সম্ভাবনা তদন্ত করা হচ্ছে।

আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কমিশনার আবদুর রকিব জানিয়েছেন, “সাকিবের কর ফাঁকির বিষয়ে তদন্ত চলছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ করবর্ষ থেকে রিটার্ন দাখিল করছেন সাকিব, তবে ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন এখনো জমা দেননি। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দেশে অবস্থান না করায় এ রিটার্ন দাখিল করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২৩টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে যুক্ত থাকলেও কর নথিতে দেখানো হয়েছে মাত্র ৯টি। অনেক কোম্পানির নিবন্ধন করা হয়েছে এক ঠিকানায়—যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দারা। এছাড়া ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকায় র‌্যাংকন গ্রুপ থেকে কেনা ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্যও গোপন করেছেন তিনি।

রাজনীতিতেও সাকিবের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরে ২০২৩ সালে সংসদ সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেও আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গেই তার নাম জড়িয়ে থাকে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই ক্রিকেটার সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে দেশে ফিরেছিলেন বিসিবির সঙ্গে চুক্তি আলোচনার জন্য। কিন্তু আলোচনা ভেস্তে গেলে তিনি দেশ ছাড়েন।

সাকিবের কর ফাঁকি ও সম্পদ গোপন নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। তবে যে তথ্যগুলো সামনে এসেছে, তাতে একথা স্পষ্ট—মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন সাকিব ছিলেন ‘নাম্বার ওয়ান’, সম্পদ গোপনেও এবার সেই আসনেই বসেছেন তিনি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনজীরকে ফেরাতে ইউএইর জবাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সম্পদ গোপনের খেলায়ও ‘নাম্বার ওয়ান’ সাকিব আল হাসান!

আপডেট সময় ০৮:৫৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র সাকিব আল হাসান—যিনি একাধারে বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার, আবার একই সঙ্গে নানা বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। মাঠের পারফরম্যান্সে দেশকে যেমন গর্বিত করেছেন, মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডেও প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। এবার আলোচনায় এসেছে তার কর ফাঁকি ও সম্পদ গোপনের অভিযোগ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর তদন্ত গোয়েন্দা ইউনিটের অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাকিবের নামে ১০৬ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩০ কোটির বেশি কর ফাঁকি দিয়েছেন তিনি বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের এফডিআর, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, বিদেশি টি-২০ লিগ থেকে উপার্জিত অর্থ, এমনকি ম্যান অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ পুরস্কারের অর্থও কর নথিতে উল্লেখ করেননি সাকিব। বিসিবি ও কিছু বিজ্ঞাপনী চুক্তির আয়ের তথ্য থাকলেও বিশ্বের বিভিন্ন লিগ থেকে পাওয়া বিশাল অঙ্কের অর্থ কর রিটার্নে অনুপস্থিত।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২১-২২ করবর্ষ থেকে সাকিবের এফডিআরের পরিমাণ কমতে থাকে। গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, তিনি অর্থ দেশের বাইরে সরিয়ে নিয়েছেন। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে সাকিবের বাড়ির তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের আতিথ্য দেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছিল।

অর্থ ফাঁকির এই ঘটনায় ‘সাকিব আল হাসান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ ও ‘সাকিব আল হাসান ক্যানসার ফাউন্ডেশন’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেও কর ফাঁকির সম্ভাবনা তদন্ত করা হচ্ছে।

আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কমিশনার আবদুর রকিব জানিয়েছেন, “সাকিবের কর ফাঁকির বিষয়ে তদন্ত চলছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬-০৭ করবর্ষ থেকে রিটার্ন দাখিল করছেন সাকিব, তবে ২০২৪-২৫ করবর্ষের রিটার্ন এখনো জমা দেননি। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি দেশে অবস্থান না করায় এ রিটার্ন দাখিল করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২৩টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে যুক্ত থাকলেও কর নথিতে দেখানো হয়েছে মাত্র ৯টি। অনেক কোম্পানির নিবন্ধন করা হয়েছে এক ঠিকানায়—যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন গোয়েন্দারা। এছাড়া ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকায় র‌্যাংকন গ্রুপ থেকে কেনা ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্যও গোপন করেছেন তিনি।

রাজনীতিতেও সাকিবের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরে ২০২৩ সালে সংসদ সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেও আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গেই তার নাম জড়িয়ে থাকে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করা এই ক্রিকেটার সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে দেশে ফিরেছিলেন বিসিবির সঙ্গে চুক্তি আলোচনার জন্য। কিন্তু আলোচনা ভেস্তে গেলে তিনি দেশ ছাড়েন।

সাকিবের কর ফাঁকি ও সম্পদ গোপন নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। তবে যে তথ্যগুলো সামনে এসেছে, তাতে একথা স্পষ্ট—মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন সাকিব ছিলেন ‘নাম্বার ওয়ান’, সম্পদ গোপনেও এবার সেই আসনেই বসেছেন তিনি।