ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লেবাননে ইসরাইলি হামলার পর শান্তি আলোচনা ‘অযৌক্তিক’: ইরান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

এবার যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাওয়াঅযৌক্তিকবলে মন্তব্য করেছে ইরান। ইসরাইলের এই বিধ্বংসী হামলায় কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান এখন পাল্টা আঘাতের হুমকি দিচ্ছে। খবর রয়টার্সের। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইল ইতিমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করে যুদ্ধবিরতির বেশ কিছু শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দিয়ে চুক্তির অবমাননা করছে। গালিবাফ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।

পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যা ইরান ও মার্কিন উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও মানতে চাইছে না ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বলছে, তারা ইরানে মার্কি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও এটা লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না। নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়ে বলেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে।

ইসরাইলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা ভেবেছিলেন যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননও রয়েছে, কিন্তু আসলে তা নয়।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ও বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানী বৈরুতসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি বিমান বাহিনী জানায়, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি।

লেবাননে ইসরাইলের এই অব্যাহত হামলার কারণে এখন যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শান্তি আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির গভীরে থাকা সব পরমাণু উপাদান খনন করে সরিয়ে ফেলবে।তবে গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমিনুর শাহ গ্রেপ্তার

লেবাননে ইসরাইলি হামলার পর শান্তি আলোচনা ‘অযৌক্তিক’: ইরান

আপডেট সময় ১২:১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

এবার যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসরাইলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনা চালিয়ে যাওয়াঅযৌক্তিকবলে মন্তব্য করেছে ইরান। ইসরাইলের এই বিধ্বংসী হামলায় কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান এখন পাল্টা আঘাতের হুমকি দিচ্ছে। খবর রয়টার্সের। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইসরাইল ইতিমধ্যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও জোরদার করে যুদ্ধবিরতির বেশ কিছু শর্ত লঙ্ঘন করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধের শর্ত দিয়ে চুক্তির অবমাননা করছে। গালিবাফ বলেন, ‘এমন পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অযৌক্তিক।

পাকিস্তানের মধ্যস্থাতায় গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যা ইরান ও মার্কিন উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এবং তাদের মিত্ররা যুদ্ধবিরতিতে একমত হয়েছে। যা লেবানন ও অন্যসব রণাঙ্গনে কার্যকর হবে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হিজবুল্লাহ এই যুদ্ধবিরতি মেনে নিলেও মানতে চাইছে না ইসরাইল। যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর বলছে, তারা ইরানে মার্কি হামলা বাতিলের সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও এটা লেবাননের ওপর কার্যকর হবে না। নেতানিয়াহু হুঙ্কার দিয়ে বলেন, লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকবে।

ইসরাইলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। হাঙ্গেরি সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় ইরানিরা ভেবেছিলেন যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবাননও রয়েছে, কিন্তু আসলে তা নয়।মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত ও বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানী বৈরুতসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। ইসরাইলি বিমান বাহিনী জানায়, মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে লেবাননজুড়ে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে তারা। হামলায় ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি।

লেবাননে ইসরাইলের এই অব্যাহত হামলার কারণে এখন যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শান্তি আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক দূরত্ব দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং মজুত করা ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের ইঙ্গিত দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির গভীরে থাকা সব পরমাণু উপাদান খনন করে সরিয়ে ফেলবে।তবে গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার রাখে।