ঢাকা , সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সংস্কারের জন্ম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল আমি শুধু ধর্ষণ করছি, রামিসাকে মারছে ডলার: সোহেল রানা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে কোরআন তিলাওয়াত, বিশ্বজুড়ে প্রশংসা ফেসবুক লাইভে এসে ১০ কোটি টাকার হিসাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ অন্তর্বর্তী সরকারের উন্নয়ন বরাদ্দের টাকায় ৭৭টি আসন কিনেছে জামায়াত-এনসিপি: রাশেদ খান এবার হজে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৪১ বাংলাদেশির সৌভাগ্যের মৃত্যু ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ, টিয়ারশেল-সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ফিলিস্তিনকে সমর্থন জানিয়ে ইসরাইল দিবস প্যারেডে যোগ দিলেন না মামদানি আমরাও ভারতের জমি দখল করে রেখেছি: নেপালের প্রধানমন্ত্রী দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে না গেলে কয়টা ভোট পাইত?: প্রশ্ন মনিরার 

জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউট ১৩ দিন ধরে বন্ধ, চিকিৎসার বদলে আবাসিক আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫
  • ৪০৬ বার পড়া হয়েছে

দেশের একমাত্র আধুনিক সরকারি চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল’ গত ১৩ দিন ধরে কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠান এখন আর হাসপাতাল নয়, রূপ নিয়েছে এক ধরনের আবাসিক হোটেলে, যেখানে অবস্থান করছেন ‘জুলাই আন্দোলনে’ আহত কয়েকজন ব্যক্তি।

এই আহতদের জন্য নিয়মিত খাবার সরবরাহ করছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, তবে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে আছে।

জাগো নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে একটি ‘ভুল বোঝাবুঝির’ সূত্র ধরে ওই আন্দোলনকারীরা চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর হামলা চালিয়ে হাসপাতাল দখলে নেন। এরপর থেকে চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কেউ নিরাপত্তার অভাবে আর সেখানে কাজে যোগ দিচ্ছেন না।

চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চেষ্টা চালালেও তেমন কোনো সফলতা আসেনি।

৪ জুন থেকে জরুরি বিভাগ চালু হলেও মূল চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ। এ অবস্থায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়, যারা আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানায়, তাদের অধিকাংশের হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই, এবং চিকিৎসা সন্তোষজনকভাবে চলছে।

তবে আহতরা হাসপাতাল ছাড়তে রাজি হননি। বরং তারা রিলিজের কাগজ ছিঁড়ে ফেলে, এবং হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন।
তাদের বক্তব্য, ঢাকায় থাকার অন্য কোনো জায়গা নেই, ফলে হাসপাতালই এখন তাদের আশ্রয়স্থল

আহতদের একটি অংশ দাবি করছে, তারা হাসপাতালে থেকেই সরকারকে চাপ দিতে চান, যাতে তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি সমস্যা থাকায় তারা গ্রেপ্তার এড়াতে হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কেউ কেউ নিয়োগ, টেন্ডার ও আর্থিক তদবিরেও জড়িয়ে পড়েছেন, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, কেউ কেউ বিদেশে চিকিৎসা নিয়েও হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকেই অজুহাত তৈরি করে হাসপাতালে থাকার সুযোগ নিচ্ছেন।

সরকার বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে সময় নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে।
ঈদের আগে আহতদের অনেকেই বাড়ি ফিরে গেলেও রিলিজ নেননি, এবং জানিয়েছেন সুবিধামতো সময়ে তারা আবার ফিরে আসবেন

এদিকে, চিকিৎসা বঞ্চিত হাজারো সাধারণ রোগী ও হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাওয়ার দাবিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সংস্কারের জন্ম দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: মির্জা ফখরুল

জাতীয় চক্ষু ইনস্টিটিউট ১৩ দিন ধরে বন্ধ, চিকিৎসার বদলে আবাসিক আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত

আপডেট সময় ০৯:০৭:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

দেশের একমাত্র আধুনিক সরকারি চক্ষু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল’ গত ১৩ দিন ধরে কার্যত বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠান এখন আর হাসপাতাল নয়, রূপ নিয়েছে এক ধরনের আবাসিক হোটেলে, যেখানে অবস্থান করছেন ‘জুলাই আন্দোলনে’ আহত কয়েকজন ব্যক্তি।

এই আহতদের জন্য নিয়মিত খাবার সরবরাহ করছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার, তবে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে আছে।

জাগো নিউজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ মে একটি ‘ভুল বোঝাবুঝির’ সূত্র ধরে ওই আন্দোলনকারীরা চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর হামলা চালিয়ে হাসপাতাল দখলে নেন। এরপর থেকে চিকিৎসক, নার্সসহ হাসপাতালের কেউ নিরাপত্তার অভাবে আর সেখানে কাজে যোগ দিচ্ছেন না।

চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার চেষ্টা চালালেও তেমন কোনো সফলতা আসেনি।

৪ জুন থেকে জরুরি বিভাগ চালু হলেও মূল চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ। এ অবস্থায় একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়, যারা আহতদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে জানায়, তাদের অধিকাংশের হাসপাতালে থাকার প্রয়োজন নেই, এবং চিকিৎসা সন্তোষজনকভাবে চলছে।

তবে আহতরা হাসপাতাল ছাড়তে রাজি হননি। বরং তারা রিলিজের কাগজ ছিঁড়ে ফেলে, এবং হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালককে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখেন।
তাদের বক্তব্য, ঢাকায় থাকার অন্য কোনো জায়গা নেই, ফলে হাসপাতালই এখন তাদের আশ্রয়স্থল

আহতদের একটি অংশ দাবি করছে, তারা হাসপাতালে থেকেই সরকারকে চাপ দিতে চান, যাতে তাদের দাবি মেনে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনি সমস্যা থাকায় তারা গ্রেপ্তার এড়াতে হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কেউ কেউ নিয়োগ, টেন্ডার ও আর্থিক তদবিরেও জড়িয়ে পড়েছেন, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, কেউ কেউ বিদেশে চিকিৎসা নিয়েও হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকেই অজুহাত তৈরি করে হাসপাতালে থাকার সুযোগ নিচ্ছেন।

সরকার বিষয়টিকে সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচনা করে সময় নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করছে।
ঈদের আগে আহতদের অনেকেই বাড়ি ফিরে গেলেও রিলিজ নেননি, এবং জানিয়েছেন সুবিধামতো সময়ে তারা আবার ফিরে আসবেন

এদিকে, চিকিৎসা বঞ্চিত হাজারো সাধারণ রোগী ও হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে পাওয়ার দাবিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধান দেখা যাচ্ছে না।