ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাবেক এমপি আনার হত্যার পরিকল্পনাকারী শিমুলের জামিন আওয়ামী লীগের পর বিএনপির দখলে, শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদে গুঁড়িয়ে গেল অবৈধ স্থাপনা ৫ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে, দাবি শুভেন্দু অধিকারীর তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হাফিজুর আবারও কারাগারে ভাইরাল সেই ‘সুন্দরী’ নারী আসামি, সামনে এলো আসল পরিচয় ঋণের কিস্তি পরিশোধের দুশ্চিন্তা, গলায় ফাঁস দিয়ে প্রাণ দিলেন প্রবাসীর স্ত্রী রাজধানীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা ব্রাজিলের জালে ৭ বা তার বেশি গোল দিতে পেরেছে যারা পুলিশে যোগদানের ২০ বছর পর প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে এসআইয়ের মৃত্যু ইসরায়েলে ছোড়া ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেনি যুক্তরাষ্ট্র

আওয়ামী লীগের পর বিএনপির দখলে, শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদে গুঁড়িয়ে গেল অবৈধ স্থাপনা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০১:২৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার উত্তরায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অন্তত ২০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে গড়ে উঠা বিএনপির কার্যালয়, দোকানপাট ও বসতঘর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টে সরকার পতনের আগে ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। পরে সেটি বিএনপির দখলে চলে যায়। অভিযোগ আছে, মাঝ থেকে রাজউকের আসাধু কর্মকর্তারা ফায়দা নিয়েছেন।

 

সোমবার (৮ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ২৪ নম্বর সড়কের ১৭/বি নম্বর প্লটের ওই জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

 

উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান। এ সময় রাজউকের অথরাইজড অফিসার এস এম এহসানুল ইমাম, তুরাগ থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত ফোর্সসহ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজউকের ওই খালি জায়গায় প্রায় অর্ধশত দোকান নির্মাণ করা হয়েছিল। চায়ের দোকান, টেইলার্সের ট্রেনিং সেন্টার, গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন, বাসা-বাড়িও ছিল।

 

স্থানীয়রা এশিয়া পোস্টকে বলেন, এখানে প্রতি কাঠা জমির মূল্য দুই থেকে তিন কোটি টাকা। রাজউক পাঁচ কাঠার প্লট ও প্রায় পাঁচ কাঠার মতো খাস জায়গা দখল মুক্ত করেছে। যার আনুমানিক মূল্য অন্তত ২০ কোটি টাকা।

 

জানা গেছে, তুরাগ থানা বিএনপির সদস্য ও ৫৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আমির হোসেনের নেতৃত্বে এখানে দলীয় কার্যালয় করা হয়। তিনি ও তার লোকজনের কব্জায় ছিল এই জমি।

 

এখানে ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান করছিলেন মো. দুলাল। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে ছিল। সরকার পতনের পর বিএনপির লোকজন দখলে নেয়। এখানে বিএনপির দুটি অফিস ছিল, একটিতে কার্যক্রম চললেও আরেকটি তালাবদ্ধ থাকত।

 

ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল বলেন, দোকানের ভাড়ার টাকা এই এলাকার কাশেম নামের একজন দিতে হয়। তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলাম।

 

ওই এলাকার বিএনপির কর্মী মো. আশিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির নেতারা এখানে দখল নিয়ে অফিস করেছে। কিন্তু আমাদের এমপি সাহেব পারমিশন দেননি।

 

তিনি বলেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের দখলে ছিল। ৫ আগস্টের পর ভেঙে ফেলা হয়েছিল। পরে বিএনপির লোকজন এখানে অফিস করছে। তবে, অফিসে কেউ কোনো দিন বসেনি।

 

একই এলাকার আরেক বিএনপি কর্মী ওমর আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগে আওয়ামী লীগের অফিস ছিল, পালিয়ে যাওয়ার পর আমরা দখল করছি।

 

এখানকার দোকান থেকে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোকানপাটের বিষয়ে আমি জানি না। স্থানীয় যুবলীগের নাছিরের ভাই আলী খাইতেছে, তিনিই জানেন।

 

ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি দোকান থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে তোলা হতো।

 

এ বিষয়ে তুরাগ থানা বিএনপির সদস্য আমির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে আমি এখানে ধানের শীষের পক্ষে অফিসে করেছি। আমার কোনো ব্যক্তিগত কাজে না। ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য অফিস করেছি।

 

তিনি বলেন, রাজউকের লোকজন আমাদের কিছুই জানায় নি। হটাৎ এসে ভেঙে দিয়েছে। কিছু লোকজন আছে তারা দখল করে খাওয়ার জন্য তারা রাজউককে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে।

 

রাউজকের অথরাইজড অফিসার এস এম এহসানুল ইমাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটা রাজউকের জায়গা। আমরা দখলমুক্ত করেছি।

 

রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, রাজউকের পাঁচ কাঠার খালি প্লট এবং তার পাশের গ্রিন জোনে (খাস জমি) অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠা দোকানপাট ও ঘর-বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযান শেষে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, অভিযানের শুরুতে লোকজন আমাদেরকে প্রশ্ন করেছেন। আমাদের বৈধতা জানতে চেয়েছেন। তাদেরকে বুঝিয়ে বলার পর তারা বুঝতে পেরেছেন। তারপর তারা সহযোগিতা করেছে।

 

তিনি বলেন, যারা দখলে ছিল, তাদের মূল বক্তব্য ছিল- আপনারা রাজউক থেকে এসেছেন, বুঝে নিলে রাজউককেই বুঝিয়ে দিতে হবে। তারপর আমরা যখন রাজউকের স্টেট শাখাকে বুঝিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছি। তখন তারা বুঝতে পেরেছেন।

 

রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান বলেন, আমরা ডিমারগেশন করে খুঁটি দিয়ে জায়গাগুলো আলাদা করে স্টেট শাখাকে বুঝিয়ে দিয়েছি। যাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদেরকে লিজ দেওয়ার সুযোগ আছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। তাদেরকে রাজউক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে বলেছি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক এমপি আনার হত্যার পরিকল্পনাকারী শিমুলের জামিন

আওয়ামী লীগের পর বিএনপির দখলে, শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদে গুঁড়িয়ে গেল অবৈধ স্থাপনা

আপডেট সময় ০১:২৪:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ঢাকার উত্তরায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অন্তত ২০ কোটি টাকা মূল্যের জমিতে গড়ে উঠা বিএনপির কার্যালয়, দোকানপাট ও বসতঘর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ৫ আগস্টে সরকার পতনের আগে ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। পরে সেটি বিএনপির দখলে চলে যায়। অভিযোগ আছে, মাঝ থেকে রাজউকের আসাধু কর্মকর্তারা ফায়দা নিয়েছেন।

 

সোমবার (৮ জুন) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ২৪ নম্বর সড়কের ১৭/বি নম্বর প্লটের ওই জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

 

উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান। এ সময় রাজউকের অথরাইজড অফিসার এস এম এহসানুল ইমাম, তুরাগ থানা পুলিশসহ অতিরিক্ত ফোর্সসহ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজউকের ওই খালি জায়গায় প্রায় অর্ধশত দোকান নির্মাণ করা হয়েছিল। চায়ের দোকান, টেইলার্সের ট্রেনিং সেন্টার, গ্যাস সিলিন্ডারের গোডাউন, বাসা-বাড়িও ছিল।

 

স্থানীয়রা এশিয়া পোস্টকে বলেন, এখানে প্রতি কাঠা জমির মূল্য দুই থেকে তিন কোটি টাকা। রাজউক পাঁচ কাঠার প্লট ও প্রায় পাঁচ কাঠার মতো খাস জায়গা দখল মুক্ত করেছে। যার আনুমানিক মূল্য অন্তত ২০ কোটি টাকা।

 

জানা গেছে, তুরাগ থানা বিএনপির সদস্য ও ৫৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি আমির হোসেনের নেতৃত্বে এখানে দলীয় কার্যালয় করা হয়। তিনি ও তার লোকজনের কব্জায় ছিল এই জমি।

 

এখানে ভাড়া নিয়ে চায়ের দোকান করছিলেন মো. দুলাল। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দখলে ছিল। সরকার পতনের পর বিএনপির লোকজন দখলে নেয়। এখানে বিএনপির দুটি অফিস ছিল, একটিতে কার্যক্রম চললেও আরেকটি তালাবদ্ধ থাকত।

 

ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দুলাল বলেন, দোকানের ভাড়ার টাকা এই এলাকার কাশেম নামের একজন দিতে হয়। তার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছিলাম।

 

ওই এলাকার বিএনপির কর্মী মো. আশিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিএনপির নেতারা এখানে দখল নিয়ে অফিস করেছে। কিন্তু আমাদের এমপি সাহেব পারমিশন দেননি।

 

তিনি বলেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাদের দখলে ছিল। ৫ আগস্টের পর ভেঙে ফেলা হয়েছিল। পরে বিএনপির লোকজন এখানে অফিস করছে। তবে, অফিসে কেউ কোনো দিন বসেনি।

 

একই এলাকার আরেক বিএনপি কর্মী ওমর আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, আগে আওয়ামী লীগের অফিস ছিল, পালিয়ে যাওয়ার পর আমরা দখল করছি।

 

এখানকার দোকান থেকে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোকানপাটের বিষয়ে আমি জানি না। স্থানীয় যুবলীগের নাছিরের ভাই আলী খাইতেছে, তিনিই জানেন।

 

ভাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি দোকান থেকে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা করে তোলা হতো।

 

এ বিষয়ে তুরাগ থানা বিএনপির সদস্য আমির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, নির্বাচনের আগে আমি এখানে ধানের শীষের পক্ষে অফিসে করেছি। আমার কোনো ব্যক্তিগত কাজে না। ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য অফিস করেছি।

 

তিনি বলেন, রাজউকের লোকজন আমাদের কিছুই জানায় নি। হটাৎ এসে ভেঙে দিয়েছে। কিছু লোকজন আছে তারা দখল করে খাওয়ার জন্য তারা রাজউককে দিয়ে এই কাজ করিয়েছে।

 

রাউজকের অথরাইজড অফিসার এস এম এহসানুল ইমাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটা রাজউকের জায়গা। আমরা দখলমুক্ত করেছি।

 

রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, রাজউকের পাঁচ কাঠার খালি প্লট এবং তার পাশের গ্রিন জোনে (খাস জমি) অবৈধভাবে দখল করে গড়ে উঠা দোকানপাট ও ঘর-বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযান শেষে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান এশিয়া পোস্টকে বলেন, অভিযানের শুরুতে লোকজন আমাদেরকে প্রশ্ন করেছেন। আমাদের বৈধতা জানতে চেয়েছেন। তাদেরকে বুঝিয়ে বলার পর তারা বুঝতে পেরেছেন। তারপর তারা সহযোগিতা করেছে।

 

তিনি বলেন, যারা দখলে ছিল, তাদের মূল বক্তব্য ছিল- আপনারা রাজউক থেকে এসেছেন, বুঝে নিলে রাজউককেই বুঝিয়ে দিতে হবে। তারপর আমরা যখন রাজউকের স্টেট শাখাকে বুঝিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছি। তখন তারা বুঝতে পেরেছেন।

 

রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শান্তা রহমান বলেন, আমরা ডিমারগেশন করে খুঁটি দিয়ে জায়গাগুলো আলাদা করে স্টেট শাখাকে বুঝিয়ে দিয়েছি। যাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে তাদেরকে লিজ দেওয়ার সুযোগ আছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। তাদেরকে রাজউক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে বলেছি।