ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের পতাকায় সাকিবের অটোগ্রাফ, ভাইরাল নেট দুনিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ তথ্যপ্রবাহ বন্ধে পলককে ‘ইন্টারনেট স্লো’ করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদের কাদের ইন্টারনেট স্লো করে দিতে বললে-পলক বলেন, নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নেই নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী কর্মী দিল্লিতে শেখ হাসিনা বিতর্ক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আস্থার সংকট? সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্র’ম’ণা’ত্ম’ক বক্তব্য ব’ন্ধ করুন : জামায়াত আমির দিল্লিতে শেখ হাসিনা বিতর্ক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন কি বাড়ছে? ১৯৯১ সালের পর নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে জামায়াত

মানুষ বোঝেই না বিরোধী দল কিসের বিরোধিতা করে: মান্না

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

এবার নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মন্তব্য করেছেন, বিরোধী দলগুলো কিসের বিরোধিতা করে এবং কোন বিষয়কে সমর্থন করে, তা মানুষ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে না বলে। তিনি বলেন, শুধু বিদেশের কোনো ঘটনা বা ইস্যুতে বিবৃতি না দিয়ে দেশের মানুষের জীবনজীবিকা, ভোটাধিকার, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান থাকা দরকার। শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিতসমাবেশ ও গণসংগীতঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নাগরিক ঐক্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করা হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশ এখন এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনগণ আস্থাশীল নয়। আবার বিরোধী দল সম্পর্কে মানুষ বোঝে না, তারা কিসের বিরোধিতা করে এবং কোন বিষয়কে সমর্থন করে। জুলাই সনদ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে যারা হেঁটে যায়, সবাইকে জিজ্ঞাসা করে দেখুনতাদের ১০ জনের ৮ জন বলতে পারবে না জুলাই সনদে কী লেখা আছে। তাহলে আগে বোঝান কী দাবিতে আমি আন্দোলন করতে চাই।

মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ এমন একটি দেশ চায়, যেখানে শান্তিতে বসবাস করা যাবে, জীবনযাপন অতটা কষ্টকর হবে না এবং মানুষ মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ধর্মের বিরুদ্ধে তাঁর কোনো বক্তব্য নেই। তবে শুধু ধর্মের কথা বলে রাজনীতি করলে হবে না; মানুষের অধিকার ও জীবন রক্ষার প্রশ্নেও রাজনৈতিক দলগুলোকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মনে করেন জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের কথা বলার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে দেশে আর কোনো ব্যক্তির একক শাসন কায়েমের সুযোগ না থাকে।

তিনি বলেন, ‘এমন একটা ব্যবস্থা চাই, যেন আর কারও ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ না থাকে।এ জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও ভাগাভাগির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা হলে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ কমবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গরিব মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ন্যায়বিচার পাওয়া। ভালো কোনো কাজ করতে গেলে সরকারি দল গ্রেপ্তার করে, মিথ্যা মামলা দেয় এবং সেই মামলায় বছরের পর বছর জেল খাটতে হয়এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। তাই এমন একটি বিচারব্যবস্থা দরকার, যেখানে আদালত স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারবে। কোনো মন্ত্রী বা ক্ষমতাবান ব্যক্তি ফোন করে আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারবেন না।

বিএনপির সমালোচনা করে মান্না বলেন, বিএনপি যদি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরোধিতা করবে কেন? গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে স্বাধীনভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা করার বিরোধিতা করার কারণও নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ছাত্রসংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দখলকেন্দ্রিক সংঘাতেরও সমালোচনা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে দখল, ব্যানারপোস্টার লাগানো এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হয়েছে। জনগণের দাবিতে আন্দোলন করার বদলে ছাত্রসংগঠনগুলো যদি নিজেদের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে সংঘাতে জড়ায়, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

ছাত্রসংগঠনগুলোকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে মারামারি ও সংঘাতের সুযোগে বড় শত্রু ঢুকে পড়বে। সে শত্রু ঢোকার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। দেশের পরিস্থিতি যত অস্থির ও অশান্ত হবে, বহিঃশক্তির জন্য তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে। তাই ছাত্রদের জনগণের স্বার্থে কী করা প্রয়োজন, তা বুঝে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের পতাকায় সাকিবের অটোগ্রাফ, ভাইরাল নেট দুনিয়ায়

মানুষ বোঝেই না বিরোধী দল কিসের বিরোধিতা করে: মান্না

আপডেট সময় ১০:৫৮:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

এবার নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মন্তব্য করেছেন, বিরোধী দলগুলো কিসের বিরোধিতা করে এবং কোন বিষয়কে সমর্থন করে, তা মানুষ স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে না বলে। তিনি বলেন, শুধু বিদেশের কোনো ঘটনা বা ইস্যুতে বিবৃতি না দিয়ে দেশের মানুষের জীবনজীবিকা, ভোটাধিকার, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে বিরোধী দলগুলোর স্পষ্ট অবস্থান থাকা দরকার। শনিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর শাহবাগে আয়োজিতসমাবেশ ও গণসংগীতঅনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নাগরিক ঐক্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করা হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশ এখন এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যখন ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনগণ আস্থাশীল নয়। আবার বিরোধী দল সম্পর্কে মানুষ বোঝে না, তারা কিসের বিরোধিতা করে এবং কোন বিষয়কে সমর্থন করে। জুলাই সনদ নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই বলে মন্তব্য করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি বলেন, ‘এই রাস্তা দিয়ে যারা হেঁটে যায়, সবাইকে জিজ্ঞাসা করে দেখুনতাদের ১০ জনের ৮ জন বলতে পারবে না জুলাই সনদে কী লেখা আছে। তাহলে আগে বোঝান কী দাবিতে আমি আন্দোলন করতে চাই।

মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ এমন একটি দেশ চায়, যেখানে শান্তিতে বসবাস করা যাবে, জীবনযাপন অতটা কষ্টকর হবে না এবং মানুষ মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ধর্মের বিরুদ্ধে তাঁর কোনো বক্তব্য নেই। তবে শুধু ধর্মের কথা বলে রাজনীতি করলে হবে না; মানুষের অধিকার ও জীবন রক্ষার প্রশ্নেও রাজনৈতিক দলগুলোকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্বপ্ন এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলে মনে করেন জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের কথা বলার অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এমন ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে দেশে আর কোনো ব্যক্তির একক শাসন কায়েমের সুযোগ না থাকে।

তিনি বলেন, ‘এমন একটা ব্যবস্থা চাই, যেন আর কারও ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ না থাকে।এ জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও ভাগাভাগির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, একজন ব্যক্তির হাতে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। যৌথ নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা হলে এক ব্যক্তির শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ কমবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, গরিব মানুষের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ন্যায়বিচার পাওয়া। ভালো কোনো কাজ করতে গেলে সরকারি দল গ্রেপ্তার করে, মিথ্যা মামলা দেয় এবং সেই মামলায় বছরের পর বছর জেল খাটতে হয়এমন পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন। তাই এমন একটি বিচারব্যবস্থা দরকার, যেখানে আদালত স্বাধীনভাবে বিচার করতে পারবে। কোনো মন্ত্রী বা ক্ষমতাবান ব্যক্তি ফোন করে আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারবেন না।

বিএনপির সমালোচনা করে মান্না বলেন, বিএনপি যদি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরোধিতা করবে কেন? গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে স্বাধীনভাবে নিয়োগের ব্যবস্থা করার বিরোধিতা করার কারণও নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ছাত্রসংগঠনগুলোর অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও দখলকেন্দ্রিক সংঘাতেরও সমালোচনা করেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি বলেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে দখল, ব্যানারপোস্টার লাগানো এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হয়েছে। জনগণের দাবিতে আন্দোলন করার বদলে ছাত্রসংগঠনগুলো যদি নিজেদের মধ্যে এসব বিষয় নিয়ে সংঘাতে জড়ায়, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

ছাত্রসংগঠনগুলোকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, নিজেদের মধ্যে মারামারি ও সংঘাতের সুযোগে বড় শত্রু ঢুকে পড়বে। সে শত্রু ঢোকার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। দেশের পরিস্থিতি যত অস্থির ও অশান্ত হবে, বহিঃশক্তির জন্য তত বেশি সুযোগ তৈরি হবে। তাই ছাত্রদের জনগণের স্বার্থে কী করা প্রয়োজন, তা বুঝে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।