ঢাকা , রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১০ ছাত্রদল নেতাকে বেধ’ড়’ক পি’টি’য়ে হাসপাতালে পাঠাল নি’ষি’দ্ধ ছাত্রলীগ তারা দুজন আমার লাইফের পার্ট: শাকিব খান শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের পতাকায় সাকিবের অটোগ্রাফ, ভাইরাল নেট দুনিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ তথ্যপ্রবাহ বন্ধে পলককে ‘ইন্টারনেট স্লো’ করার নির্দেশ ওবায়দুল কাদের কাদের ইন্টারনেট স্লো করে দিতে বললে-পলক বলেন, নেত্রীর পারমিশনটা নিয়ে নেই নতুন দায়িত্ব পেলেন ৬ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী কর্মী দিল্লিতে শেখ হাসিনা বিতর্ক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আস্থার সংকট? সোশ্যাল মিডিয়ায় আক্র’ম’ণা’ত্ম’ক বক্তব্য ব’ন্ধ করুন : জামায়াত আমির

বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী কর্মী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

প্রেম, বিয়ে কিংবা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করে নারীদের চীনে নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে গত কয়েক মাসে ছয়জন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাশাপাশি কম্বোডিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশেও চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে নারী পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ব্র্যাকের তথ্য বলছে, গত সাত বছরে নির্যাতন, শোষণ ও প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ৭০ হাজার নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। একই সময়ে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহও দেশে ফিরেছে।

চীনে নারী পাচারের অভিযোগে গত বছরের ৭ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্যান গোউয়ে ও ইয়াং জিকু নামের দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, রানী আক্তার ও মালিনা মারাক নামের দুই নারীকে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে চীনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা। বিমানবন্দরে ওই দুই নারী চীনে যেতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।

এরপর একই অভিযোগে গত ২৮ মে হু জানজুন ও জিয়াং লিজি নামের আরও দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদেশি নাগরিকরা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামের নারীদের সঙ্গে পরিচিত হন। দীর্ঘদিন যোগাযোগের পর বাংলাদেশে এসে পরিবারের আস্থা অর্জন করে বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করা হয়। পরে তাদের বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে নেওয়ার পর অনেক নারীকে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

শুধু প্রেম বা বিয়ের ফাঁদ নয়, ভালো চাকরির প্রলোভনেও নারী পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরা এক নারী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, মাসে এক লাখ টাকা বেতনে কাস্টমার কেয়ারে চাকরির কথা বলে তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। বিদেশ যাওয়ার জন্য তার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও ডলার নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

সৌদি আরবেও চাকরির প্রলোভনে গিয়ে এক বাংলাদেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে আটকে রেখে মারধর, খাদ্যবঞ্চনা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসা, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি নাগরিকের পরিচয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীদের দ্রুত আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেম, বিয়ে কিংবা চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দূতাবাস ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে নারীদের সচেতন করাও জরুরি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ ছাত্রদল নেতাকে বেধ’ড়’ক পি’টি’য়ে হাসপাতালে পাঠাল নি’ষি’দ্ধ ছাত্রলীগ

বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন ৭০ হাজার নারী কর্মী

আপডেট সময় ১১:১৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

প্রেম, বিয়ে কিংবা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি নারীদের বিদেশে পাচারের অভিযোগ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে চীনা নাগরিকদের সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করে নারীদের চীনে নেওয়ার চেষ্টা নিয়ে গত কয়েক মাসে ছয়জন চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার হয়েছেন। পাশাপাশি কম্বোডিয়া, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশেও চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভনে নারী পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, স্থানীয় দালালদের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ব্র্যাকের তথ্য বলছে, গত সাত বছরে নির্যাতন, শোষণ ও প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় ৭০ হাজার নারী কর্মী বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন। একই সময়ে প্রায় ৮০০ নারী কর্মীর মরদেহও দেশে ফিরেছে।

চীনে নারী পাচারের অভিযোগে গত বছরের ৭ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্যান গোউয়ে ও ইয়াং জিকু নামের দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, রানী আক্তার ও মালিনা মারাক নামের দুই নারীকে প্রেম ও বিয়ের সম্পর্কের মাধ্যমে চীনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন তারা। বিমানবন্দরে ওই দুই নারী চীনে যেতে অস্বীকৃতি জানালে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসে।

এরপর একই অভিযোগে গত ২৮ মে হু জানজুন ও জিয়াং লিজি নামের আরও দুই চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদেশি নাগরিকরা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রামের নারীদের সঙ্গে পরিচিত হন। দীর্ঘদিন যোগাযোগের পর বাংলাদেশে এসে পরিবারের আস্থা অর্জন করে বিয়ের সম্পর্ক তৈরি করা হয়। পরে তাদের বিদেশে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে নেওয়ার পর অনেক নারীকে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

শুধু প্রেম বা বিয়ের ফাঁদ নয়, ভালো চাকরির প্রলোভনেও নারী পাচারের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরা এক নারী বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। তার অভিযোগ, মাসে এক লাখ টাকা বেতনে কাস্টমার কেয়ারে চাকরির কথা বলে তাকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। বিদেশ যাওয়ার জন্য তার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ অনুযায়ী, কম্বোডিয়ায় পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও ডলার নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে নির্যাতন এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তায় দেশে ফেরেন।

সৌদি আরবেও চাকরির প্রলোভনে গিয়ে এক বাংলাদেশি নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাকে আটকে রেখে মারধর, খাদ্যবঞ্চনা ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে যাওয়ার আগে ভিসা, নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি নাগরিকের পরিচয় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে বিদেশে নির্যাতনের শিকার নারীদের দ্রুত আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রেম, বিয়ে কিংবা চাকরির প্রলোভনে নারী পাচার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দূতাবাস ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে নারীদের সচেতন করাও জরুরি।