পাকিস্তান আফগানিস্তানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ব্যর্থ হলেও সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের মূল নিরাপত্তা উদ্বেগ—আফগান ভূখণ্ড থেকে সন্ত্রাসবাদ—প্রথমে মোকাবিলা করতে হবে।
দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সীমান্তে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ডজনখানেকের প্রাণহানির পর, ১৯ অক্টোবর কাতারে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি দৃঢ় করার লক্ষ্যে তৃতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় তুরস্কের ইস্তাম্বুলে। পাকিস্তান প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে, আলোচনাটি শুক্রবার শেষ হয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, আফগান তালেবান সরকার প্রতিশ্রুতিপ্রতি অঙ্গীকারে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান পাকিস্তানের “দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অসহযোগিতামূলক আচরণ”কে দোষারোপ করেছে। আফগান তালেবানের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক মাধ্যমে বলেন, পাকিস্তান নিজের নিরাপত্তার দায় আফগান সরকারের ওপর চাপাচ্ছে, অথচ নিজেদের কোনো দায় নিতে রাজি নয়।
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা চলছেই। ইসলামাবাদ অভিযোগ করে, আফগানিস্তান পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্যদের আশ্রয় দিচ্ছে, যা আফগান তালেবান অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি পাকিস্তান আফগান সরকারের ভারতের সহায়তাকে সমস্যা হিসেবে দেখছে। আফগানিস্তানও পাকিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী সমর্থনের অভিযোগ তুলেছে।
শুক্রবার স্পিন বোলদাক সীমান্তে গোলাগুলিতে কমপক্ষে পাঁচজন নিহত হন। এর আগে গত মাসে সংঘর্ষে ৭০-এর বেশি মানুষ নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছিল। দুই দেশ নতুন শত্রুতা শুরুর হুমকি দিয়েও উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
২০২১ সালে আফগান তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্তে বারবার গুলি বিনিময়, সীমান্ত বন্ধ ও বাণিজ্যিক অচলাবস্থা দেখা গেছে। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠক উভয় দেশের মধ্যে বিশ্বাস পুনর্গঠনের চেষ্টার শেষ প্রচেষ্টা ছিল, যা আপাতত ব্যর্থ হয়েছে।
সূত্র: এএফপি

