ঢাকা , সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
প্রয়োজনে আমরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত: জামায়াতে আমির ট্রাম্প মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন, পদচ্যুতি দরকার: সাবেক সিআইএ পরিচালক লেবানন-ইরানে হামলাকে তুরস্কের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে: ইসরাইলকে এরদোগানের হুঁশিয়ারি ১০০ টাকা রিচার্জে সেবা মেলে মাত্র ৬২ টাকার, পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার ইরান ক্ষেপণাস্ত্র তাক করতেই হরমুজ থেকে ‘পালাল’ মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আগামী সপ্তাহ থেকে ভারতীয় ভিসা পাবেন বাংলাদেশিরা অনলাইন জুয়াই মাদরাসার ৭০ হাজার টাকা হারিয়ে শিক্ষকের আত্মহত্যা হামলার মাত্র ৫ দিনেই ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামত করলো ইরান, যোগাযোগ স্বাভাবিক পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বড় যে অস্ত্র এখন ইরানের হাতে ট্রাম্পের নৌ অবরোধের হুমকি ‘অত্যন্ত হাস্যকর’: ইরানের নৌবাহিনী প্রধান

ইউরোপের আগেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে পারে রাশিয়া, পুতিনের হুঁশিয়ারি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যখন ধাপে ধাপে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই উল্টো কৌশল নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনে আয়োজিত বিশ্ব জ্বালানি বাজার সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরোপের বাজারে রাশিয়া স্বেচ্ছায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। গতকাল সোমবার ( ৯ মার্চ) মস্কোর ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুতিন জানান, ইউরোপীয় দেশগুলো আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে রুশ হাইড্রোকার্বন, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করবে। পাশাপাশি তারা ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

পুতিন বলেন, “ইউরোপীয়রা আমাদের সামনে ঘটা করে দরজা বন্ধ করবে, সেই অপেক্ষায় আমরা বসে থাকব না।তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, ইউরোপের বাজারে সরবরাহ বন্ধ করার সম্ভাবনা এবং এর লাভক্ষতি দ্রুত যাচাই করতে হবে। রাশিয়া চাইছে, ইউরোপের কাছে নির্ভরতা কমানোর সুযোগ না দিয়ে অন্য সম্ভাবনাময় বাজারবিশেষ করে এশিয়াতে তাদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা। পুতিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই কৌশল মূলত পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং ক্রমবর্ধমান এশিয়ার বাজারে রাশিয়ার অবস্থান শক্ত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তার মতে, বিকল্প বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি রপ্তানি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এই আগাম সরে যাওয়ার পরিকল্পনা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইউরোপ এখনও বিকল্প জ্বালানি উৎসের খোঁজে হিমশিম খাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই পদক্ষেপ তাদের ওপর চাপ বাড়াবে। পুতিনের এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া যদি ইউরোপের বাজার থেকে সরাসরি সরে যায়, তাহলে জ্বালানি দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ক্রেমলিনের বৈঠকে রাশিয়ার সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইউরোপের বিকল্প বাজারে দ্রুত সরবরাহ স্থানান্তরের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকবে। এ ধরনের পদক্ষেপ ইউরোপরাশিয়া সম্পর্ককে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে। পুতিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাশিয়া নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কখন এবং কীভাবে ইউরোপের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, পুতিনের এই ঘোষণা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করার সম্ভাবনা জাগিয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজে পেতে পারলেও, রাশিয়ার এই আগাম পদক্ষেপ তাদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াতে পারে। তথ্যসূত্র : তাস

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়োজনে আমরা আবারও জীবন দিতে প্রস্তুত: জামায়াতে আমির

ইউরোপের আগেই জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করতে পারে রাশিয়া, পুতিনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় ১২:১৫:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) যখন ধাপে ধাপে রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই উল্টো কৌশল নিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনে আয়োজিত বিশ্ব জ্বালানি বাজার সংক্রান্ত এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরোপের বাজারে রাশিয়া স্বেচ্ছায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে। গতকাল সোমবার ( ৯ মার্চ) মস্কোর ক্রেমলিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুতিন জানান, ইউরোপীয় দেশগুলো আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে রুশ হাইড্রোকার্বন, বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করবে। পাশাপাশি তারা ২০২৭ সালের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

পুতিন বলেন, “ইউরোপীয়রা আমাদের সামনে ঘটা করে দরজা বন্ধ করবে, সেই অপেক্ষায় আমরা বসে থাকব না।তিনি আরও নির্দেশ দিয়েছেন, ইউরোপের বাজারে সরবরাহ বন্ধ করার সম্ভাবনা এবং এর লাভক্ষতি দ্রুত যাচাই করতে হবে। রাশিয়া চাইছে, ইউরোপের কাছে নির্ভরতা কমানোর সুযোগ না দিয়ে অন্য সম্ভাবনাময় বাজারবিশেষ করে এশিয়াতে তাদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা। পুতিনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই কৌশল মূলত পশ্চিমা বিশ্বের অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং ক্রমবর্ধমান এশিয়ার বাজারে রাশিয়ার অবস্থান শক্ত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। তার মতে, বিকল্প বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি রপ্তানি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এই আগাম সরে যাওয়ার পরিকল্পনা ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইউরোপ এখনও বিকল্প জ্বালানি উৎসের খোঁজে হিমশিম খাচ্ছে, এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার এই পদক্ষেপ তাদের ওপর চাপ বাড়াবে। পুতিনের এই হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাশিয়া যদি ইউরোপের বাজার থেকে সরাসরি সরে যায়, তাহলে জ্বালানি দাম ও সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

ক্রেমলিনের বৈঠকে রাশিয়ার সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ইউরোপের বিকল্প বাজারে দ্রুত সরবরাহ স্থানান্তরের কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। এতে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকবে। এ ধরনের পদক্ষেপ ইউরোপরাশিয়া সম্পর্ককে নতুন করে চাপে ফেলতে পারে। পুতিন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রাশিয়া নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কখন এবং কীভাবে ইউরোপের বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, পুতিনের এই ঘোষণা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করার সম্ভাবনা জাগিয়েছে। ইউরোপের দেশগুলো বিকল্প উৎস খুঁজে পেতে পারলেও, রাশিয়ার এই আগাম পদক্ষেপ তাদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াতে পারে। তথ্যসূত্র : তাস