ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে এনসিপি নেতাদের উপর হামলা, চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তীব্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫
  • ৬৭০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র এক প্রতিনিধিদল আজ ৯ জুলাই (বুধবার) দুপুরে ভয়াবহ হামলার শিকার হন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৫ কার্যালয়ে গিয়ে তারা কৃষি মার্কেট থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বৈধ দোকানদারদের পুনর্বহালের দাবি জানাতে গেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন মোহাম্মদ মোস্তাকিম, অ্যাডভোকেট লুৎফুল কবির সুজন, জাবেদ, শাওন ও সানীসহ আরও অনেকে। হামলায় তারা গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এনসিপি সূত্র বলছে, কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরপরই একটি চক্র, যার নেতৃত্বে ছিল চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মাহবুব আলম, অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালায়। মাহবুবের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ওই প্রতিনিধিদের একটি কক্ষে আটকে রেখে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। আহতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও এনেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা বলছেন, মাহবুব ও তার বাহিনী মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, ফুটপাত ও ময়লার গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে নানা খাত থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলে থাকে। আগেও এই চক্রের বিরুদ্ধে জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে, কিন্তু তখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পাঁচ আগস্টের ঘটনার পর মোহাম্মদপুরে নতুন করে গড়ে ওঠা এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দাপট ও আইনের নিরবতায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কৃষি মার্কেটে আগে কাউন্সিলর আসিফের মাধ্যমে চাঁদা আদায় হলেও বর্তমানে মাহবুবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন গ্রুপটি পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে দাবি এনসিপি নেতাদের।

এই হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। দলটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে মোহাম্মদপুরবাসীদের সঙ্গে নিয়ে চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে এনসিপি নেতাদের উপর হামলা, চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ তীব্র

আপডেট সময় ১২:৩৩:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই ২০২৫

ঢাকার মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অবৈধ চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র এক প্রতিনিধিদল আজ ৯ জুলাই (বুধবার) দুপুরে ভয়াবহ হামলার শিকার হন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৫ কার্যালয়ে গিয়ে তারা কৃষি মার্কেট থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বৈধ দোকানদারদের পুনর্বহালের দাবি জানাতে গেলে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন মোহাম্মদ মোস্তাকিম, অ্যাডভোকেট লুৎফুল কবির সুজন, জাবেদ, শাওন ও সানীসহ আরও অনেকে। হামলায় তারা গুরুতর আহত হন এবং বর্তমানে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এনসিপি সূত্র বলছে, কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরপরই একটি চক্র, যার নেতৃত্বে ছিল চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মাহবুব আলম, অতর্কিতে সশস্ত্র হামলা চালায়। মাহবুবের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ওই প্রতিনিধিদের একটি কক্ষে আটকে রেখে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। আহতদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও এনেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়রা বলছেন, মাহবুব ও তার বাহিনী মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট, ফুটপাত ও ময়লার গাড়ি চালানো থেকে শুরু করে নানা খাত থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলে থাকে। আগেও এই চক্রের বিরুদ্ধে জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে, কিন্তু তখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পাঁচ আগস্টের ঘটনার পর মোহাম্মদপুরে নতুন করে গড়ে ওঠা এই চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দাপট ও আইনের নিরবতায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কৃষি মার্কেটে আগে কাউন্সিলর আসিফের মাধ্যমে চাঁদা আদায় হলেও বর্তমানে মাহবুবের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা নতুন গ্রুপটি পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে বলে দাবি এনসিপি নেতাদের।

এই হামলার নিন্দা জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। দলটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রশাসন যদি ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে মোহাম্মদপুরবাসীদের সঙ্গে নিয়ে চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে তীব্র গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।