একটি ক্লিক, একটি ইনবক্স— আর তারপরই হাতে পৌঁছে যাচ্ছে ধারালো অস্ত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে টিকটককে ব্যবহার করে প্রকাশ্যেই চলছে দেশি-বিদেশি অস্ত্রের বেচাকেনা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে এমন অনলাইন বাণিজ্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছদ্মনামে পরিচালিত একাধিক টিকটক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা হচ্ছে সুইচ গিয়ার, চাইনিজ কুড়াল, তলোয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র। কমেন্ট বক্সে ক্রেতারা দাম জানতে চাইছেন, আর লেনদেনের বাকি আলোচনা হচ্ছে ইনবক্সে।
‘ব্লেড জোন হাব’ নামে একটি টিকটক অ্যাকাউন্টে যোগাযোগ করলে অল্প সময়েই বিক্রেতার সাড়া মেলে। দুটি ধারালো অস্ত্র অর্ডার দেওয়ার পর অগ্রিম ডেলিভারি চার্জ পরিশোধ করতে বলা হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নির্ধারিত স্থানে মোটরসাইকেলে এসে অস্ত্র দুটি বুঝিয়ে দেন দুই তরুণ। কথোপকথনের একপর্যায়ে তারা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও সংগ্রহ করে দেওয়ার সক্ষমতার ইঙ্গিত দেন।
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, অন্তত সাতটি টিকটক অ্যাকাউন্ট একই ধরনের অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িত। এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর সঙ্গে এসব অনলাইন চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অনলাইনে অস্ত্র বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর ওপর সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট নজরদারি করছে। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে এমন অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্য শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্যই নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























