ঢাকা , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ থেকে বাঁচতে ব্রাজিলে, গণিত অলিম্পিয়াডে স্বর্ণ গাজার কিশোরীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল শৈশব, ভেঙে দিয়েছিল ঘর। কিন্তু স্বপ্নকে হারাতে পারেনি। গাজার ধ্বংসস্তূপ পেছনে ফেলে ব্রাজিলে নতুন জীবন শুরু করা ১৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিশোরী তালা মোহাম্মদ আওয়াদ এবার গণিত অলিম্পিয়াডে জিতে নিয়েছে স্বর্ণপদক।

সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলভিত্তিক গণিত প্রতিযোগিতা ওএমএএসপি-২০২৫-এর দ্বিতীয় ধাপে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে তালা। এই সাফল্যের মাধ্যমে সে এখন প্রতিযোগিতার রাজ্য-পর্যায়ের পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

সাও পাওলোর সরকারি স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে ব্রাজিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের গণিত দক্ষতা বাড়ানো এবং একাডেমিক উৎকর্ষকে উৎসাহিত করা।

ইসরায়েলি হামলা, বাস্তুচ্যুতি এবং পুনর্বাসনের কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে নতুন দেশ, নতুন ভাষা ও সম্পূর্ণ ভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েই এই সাফল্য অর্জন করেছে তালা। ফলে তার এই স্বর্ণপদক শুধু একাডেমিক অর্জন নয়, হয়ে উঠেছে দৃঢ়তা ও আশার প্রতীক।

এক সাক্ষাৎকারে তালা জানায়, ফল প্রকাশের পর প্রথমে সে বিশ্বাসই করতে পারেনি যে স্বর্ণপদক পেয়েছে। তার ভাষায়, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং বাবা-মায়ের নিরন্তর উৎসাহই তাকে এই সাফল্যের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। ভালো ফলের আশা ছিল, তবে স্বর্ণপদক পাওয়া তার জন্য ছিল আনন্দঘন বিস্ময়।

ব্রাজিলে এসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পর্তুগিজ ভাষা শেখা এবং নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। শুরুতে সবকিছু কঠিন মনে হলেও শিক্ষক, সহপাঠী এবং পরিবারের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে সেই বাধা পেরিয়ে যায় সে।

গাজার শিশুদের উদ্দেশে তালার বার্তা, যুদ্ধ যত ভয়াবহই হোক, আশা হারানো যাবে না। স্বপ্ন ধরে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে একদিন সফল হওয়া সম্ভব।

মেয়ের এই অর্জনে আবেগাপ্লুত বাবা মোহাম্মদ আওয়াদ। তিনি বলেন, এই স্বর্ণপদক শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং যুদ্ধ তাদের পরিবার থেকে যে আনন্দ কেড়ে নিয়েছিল, তার একটি অংশ যেন ফিরিয়ে এনেছে। তার ভাষায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উঠে এসে তালার এই সাফল্য আসলে যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি শিশুর বিজয়ের প্রতীক।

পরিবারটির আশা, ব্রাজিলে সন্তানদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুললেও তারা কখনো নিজেদের ফিলিস্তিনি পরিচয় ও শিকড় ভুলবে না। আর তালার এই স্বর্ণজয় প্রমাণ করে—সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও শিক্ষা, অধ্যবসায় আর স্বপ্ন মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ, শুরু কূটনৈতিক তৎপরতা

যুদ্ধ থেকে বাঁচতে ব্রাজিলে, গণিত অলিম্পিয়াডে স্বর্ণ গাজার কিশোরীর

আপডেট সময় ০৪:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছিল শৈশব, ভেঙে দিয়েছিল ঘর। কিন্তু স্বপ্নকে হারাতে পারেনি। গাজার ধ্বংসস্তূপ পেছনে ফেলে ব্রাজিলে নতুন জীবন শুরু করা ১৫ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি কিশোরী তালা মোহাম্মদ আওয়াদ এবার গণিত অলিম্পিয়াডে জিতে নিয়েছে স্বর্ণপদক।

সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলভিত্তিক গণিত প্রতিযোগিতা ওএমএএসপি-২০২৫-এর দ্বিতীয় ধাপে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে তালা। এই সাফল্যের মাধ্যমে সে এখন প্রতিযোগিতার রাজ্য-পর্যায়ের পরবর্তী ধাপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে।

সাও পাওলোর সরকারি স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে ব্রাজিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের গণিত দক্ষতা বাড়ানো এবং একাডেমিক উৎকর্ষকে উৎসাহিত করা।

ইসরায়েলি হামলা, বাস্তুচ্যুতি এবং পুনর্বাসনের কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে নতুন দেশ, নতুন ভাষা ও সম্পূর্ণ ভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েই এই সাফল্য অর্জন করেছে তালা। ফলে তার এই স্বর্ণপদক শুধু একাডেমিক অর্জন নয়, হয়ে উঠেছে দৃঢ়তা ও আশার প্রতীক।

এক সাক্ষাৎকারে তালা জানায়, ফল প্রকাশের পর প্রথমে সে বিশ্বাসই করতে পারেনি যে স্বর্ণপদক পেয়েছে। তার ভাষায়, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং বাবা-মায়ের নিরন্তর উৎসাহই তাকে এই সাফল্যের জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। ভালো ফলের আশা ছিল, তবে স্বর্ণপদক পাওয়া তার জন্য ছিল আনন্দঘন বিস্ময়।

ব্রাজিলে এসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল পর্তুগিজ ভাষা শেখা এবং নতুন শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া। শুরুতে সবকিছু কঠিন মনে হলেও শিক্ষক, সহপাঠী এবং পরিবারের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে সেই বাধা পেরিয়ে যায় সে।

গাজার শিশুদের উদ্দেশে তালার বার্তা, যুদ্ধ যত ভয়াবহই হোক, আশা হারানো যাবে না। স্বপ্ন ধরে রেখে পড়াশোনা চালিয়ে গেলে একদিন সফল হওয়া সম্ভব।

মেয়ের এই অর্জনে আবেগাপ্লুত বাবা মোহাম্মদ আওয়াদ। তিনি বলেন, এই স্বর্ণপদক শুধু একটি পুরস্কার নয়, বরং যুদ্ধ তাদের পরিবার থেকে যে আনন্দ কেড়ে নিয়েছিল, তার একটি অংশ যেন ফিরিয়ে এনেছে। তার ভাষায়, ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে উঠে এসে তালার এই সাফল্য আসলে যুদ্ধের বিরুদ্ধে একটি শিশুর বিজয়ের প্রতীক।

পরিবারটির আশা, ব্রাজিলে সন্তানদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুললেও তারা কখনো নিজেদের ফিলিস্তিনি পরিচয় ও শিকড় ভুলবে না। আর তালার এই স্বর্ণজয় প্রমাণ করে—সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও শিক্ষা, অধ্যবসায় আর স্বপ্ন মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।