ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সরকার পতন চাই না, আমরা চাই সরকার যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে: মামুনুল অনেকে ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যাকুল: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী সম্পত্তি ভাগের পর মায়ের ঠাঁই হলো জরাজীর্ণ ঘরে, পায়ে শিকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রয়াত প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, তোপের মুখে পুলিশি পাহারায় স্কুল ছাড়লেন প্রধান শিক্ষক দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী শিশু হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে গৃহকর্ত্রীকে খুন, কে এই লাইলী অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নে বাধা, ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার ‘মাইন’ ঘিরে ৩৬ ঘণ্টা ধরে আতঙ্ক, দেখা নেই নিষ্ক্রিয়কারী দলের যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২ পাইলট

অনেকে ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যাকুল: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:০১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

অনেকে মাত্র ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় দখলে ব্যাকুল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

তিনি বলেন, জুলাই আসলে ৩৬ দিনের নয়, জুলাই ১৭ বছরের। যেদিন দেশে গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে, সেদিনই জুলাইয়ের সূচনা হয়েছে।

 

রোববার (০৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অগ্নিঝরা জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে একেকজন একেকটা বয়ান দিচ্ছে। জুলাইয়ের কৃতিত্ব ১৮ কোটি মানুষের। তবে এই দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক জুলাই যোদ্ধা স্বীকৃতির আওতায় আসেননি। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একইসঙ্গে গত ১৭ বছরের আন্দোলনে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও যথাযথ মূল্যায়নের জন্য শিগগিরই নতুন অধিদপ্তর চালু করা হবে।

 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জুলাইয়ে চিকিৎসকদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়াকে দুঃখজনক উল্লেখ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, জুলাইয়ে অনেক হাসপাতালে আহত রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার যারা সাহস করে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা চিকিৎসকের শপথ ভঙ্গ করে আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান এখনো যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ বিষয়ে সরকার নিশ্চয়ই কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই একদিনে আসেনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নতুন দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। গত ১৭ বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে এবং জুলাইয়ে এসে তা পূর্ণতা পেয়েছে।

 

ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ এমন কোনো গণআন্দোলন নেই, যেখানে চিকিৎসকদের অবদান ছিল না। ভবিষ্যতে জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি বা দখলদারিত্বের কোনো সুযোগ যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য চিকিৎসকসহ সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অগ্নিঝরা জুলাইয়ের গণআন্দোলনে চিকিৎসকদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে সভায় বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অসংখ্য চিকিৎসক নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েছেন। আবার অনেকে নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। জুলাইয়ের এই অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান নথিভুক্ত করা, শহীদ ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, জুলাইয়ের চিকিৎসকদের ভূমিকা ইতিহাসে সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের ন্যায়সঙ্গত পদায়ন ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করার দাবি জানান চিকিৎসকরা।

 

গণঅভ্যুত্থানে কারা নির্যাযিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম সভাপতিত্বে আরও বক্তব্যে রাখেন- বিএমইউ প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক যাকারিয়া আল আজিজ বলেন, অধ্যাপক মাযহার শাহীন, বিএনপির স্বাস্থ্য বিয়ষক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম, সহ-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক সহ অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহেদ আলম, শহীদ ডা. মো. কবিরুল ইসলামের সহধর্মিণী শামসুন নাহার শেলী, শহীদ ডা. সজীব সরকারের পিতা হালিম সরকার বকুল প্রমুখ।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকার পতন চাই না, আমরা চাই সরকার যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে না ওঠে: মামুনুল

অনেকে ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যাকুল: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:০১:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

অনেকে মাত্র ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় দখলে ব্যাকুল বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান।

তিনি বলেন, জুলাই আসলে ৩৬ দিনের নয়, জুলাই ১৭ বছরের। যেদিন দেশে গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে, সেদিনই জুলাইয়ের সূচনা হয়েছে।

 

রোববার (০৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘অগ্নিঝরা জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের কৃতিত্ব নিয়ে একেকজন একেকটা বয়ান দিচ্ছে। জুলাইয়ের কৃতিত্ব ১৮ কোটি মানুষের। তবে এই দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব হিসেবে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে জুলাই অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক জুলাই যোদ্ধা স্বীকৃতির আওতায় আসেননি। তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। একইসঙ্গে গত ১৭ বছরের আন্দোলনে গুম ও হত্যার শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ ও যথাযথ মূল্যায়নের জন্য শিগগিরই নতুন অধিদপ্তর চালু করা হবে।

 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জুলাইয়ে চিকিৎসকদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়াকে দুঃখজনক উল্লেখ করেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, জুলাইয়ে অনেক হাসপাতালে আহত রোগীদের চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার যারা সাহস করে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন তাদেরও চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা চিকিৎসকের শপথ ভঙ্গ করে আহতদের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করেছেন, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাইয়ে চিকিৎসকদের অবদান এখনো যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এ বিষয়ে সরকার নিশ্চয়ই কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, জুলাই একদিনে আসেনি। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার নতুন দায়িত্ব তৈরি হয়েছে। গত ১৭ বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জুলাইয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে এবং জুলাইয়ে এসে তা পূর্ণতা পেয়েছে।

 

ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসের ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনসহ এমন কোনো গণআন্দোলন নেই, যেখানে চিকিৎসকদের অবদান ছিল না। ভবিষ্যতে জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তি বা দখলদারিত্বের কোনো সুযোগ যেন সৃষ্টি না হয়, সেজন্য চিকিৎসকসহ সব গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অগ্নিঝরা জুলাইয়ের গণআন্দোলনে চিকিৎসকদের অবদান অনস্বীকার্য উল্লেখ করে সভায় বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে অসংখ্য চিকিৎসক নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়েছেন। আবার অনেকে নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও আহত আন্দোলনকারীদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। জুলাইয়ের এই অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জুলাইয়ের আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদান নথিভুক্ত করা, শহীদ ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান, জুলাইয়ের চিকিৎসকদের ভূমিকা ইতিহাসে সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত ও নির্যাতিত চিকিৎসকদের ন্যায়সঙ্গত পদায়ন ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করার দাবি জানান চিকিৎসকরা।

 

গণঅভ্যুত্থানে কারা নির্যাযিত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম সভাপতিত্বে আরও বক্তব্যে রাখেন- বিএমইউ প্রো-ভিসি অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক যাকারিয়া আল আজিজ বলেন, অধ্যাপক মাযহার শাহীন, বিএনপির স্বাস্থ্য বিয়ষক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম, সহ-পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক সহ অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবির লাবু, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাহেদ আলম, শহীদ ডা. মো. কবিরুল ইসলামের সহধর্মিণী শামসুন নাহার শেলী, শহীদ ডা. সজীব সরকারের পিতা হালিম সরকার বকুল প্রমুখ।