অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা করে প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ করেন লাইলী আক্তার। মাসখানেক আগে জামিনে ছাড়া পান তিনি।
পরে এক নারীকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে পলিথিনের প্যাকেটে করে গুম করেন লাইলী। এমন অভিযোগে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে লাইলী আক্তারকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ফরিদা ইয়াসমিন দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন।
দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে একাই থাকতেন ফরিদা। বাড়ির একটি কক্ষ লাইলী আক্তারকে ভাড়া দেওয়া হয়। শনিবার বাড়ির পেছন থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১ আগস্ট ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন লাইলী। গত শুক্রবার রাতে বাসায় একাই ছিলেন ফরিদা। এই সুযোগে ভাড়াটিয়া লাইলী কৌশলে তার সহযোগী চাঁপানগর গ্রামের আমির হোসেন, সোহেল রানা এবং রবিউল ইসলামকে ডেকে আনে। তারা ঘরে ঢুকে ফরিদাকে কুপিয়ে হত্যা করে।
এরপর লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে পলিথিন ব্যাগে মুড়ে বাড়ির পেছনে ও ডোবায় ফেলে রাখে। বাসা থেকে ৭ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় ঘাতকরা।
শনিবার সকাল থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে ছোট মেয়ে মরিয়ম ও স্বজনরা খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। বিকেলে ভুক্তভোগীর ভাগ্নে মামুন ও স্বজনরা বাসায় এসে ভাড়াটিয়া লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। এ ছাড়া লাইলীর ঘরের বারান্দা পানি দিয়ে ধোয়ামোছা করতে দেখে তাদের সন্দেহ আরো বাড়ে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা একটি বস্তায় পলিথিনে মোড়ানো খণ্ড-বিখণ্ড লাশ দেখতে পান তারা। এ সময় লাইলীকে আটক করলে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ফাহিমা নামের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করে খালে পুঁতে রেখেছিল লাইলী ও তার প্রেমিক আমির হোসেন। নিহত শিশুটি আমির হোসেনের মেয়ে। এই মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর মাত্র এক মাস আগে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন লাইলী।
১৩ প্যাকেট লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেছেন নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মফিজুল ইসলাম।
দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, গ্রেপ্তার প্রধান আসামি লাইলী আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বর্ণালংকার ও টাকার লোভেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 


















