ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অনেকে ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যাকুল: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী সম্পত্তি ভাগের পর মায়ের ঠাঁই হলো জরাজীর্ণ ঘরে, পায়ে শিকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগের প্রয়াত প্রতিমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের অভিযোগ, তোপের মুখে পুলিশি পাহারায় স্কুল ছাড়লেন প্রধান শিক্ষক দেশের মানুষ যাতে শান্তিতে থাকতে পারে, সেটিই প্রধান লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী শিশু হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে গৃহকর্ত্রীকে খুন, কে এই লাইলী অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নে বাধা, ‘ভাইরাল মিজান’ গ্রেপ্তার ‘মাইন’ ঘিরে ৩৬ ঘণ্টা ধরে আতঙ্ক, দেখা নেই নিষ্ক্রিয়কারী দলের যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নেভাতে গিয়ে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২ পাইলট ১০ টাকার চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছেন মুক্তার গাজী

শিশু হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে গৃহকর্ত্রীকে খুন, কে এই লাইলী

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা করে প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ করেন লাইলী আক্তার। মাসখানেক আগে জামিনে ছাড়া পান তিনি।

 

পরে এক নারীকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে পলিথিনের প্যাকেটে করে গুম করেন লাইলী। এমন অভিযোগে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে লাইলী আক্তারকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ফরিদা ইয়াসমিন দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন।

 

দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে একাই থাকতেন ফরিদা। বাড়ির একটি কক্ষ লাইলী আক্তারকে ভাড়া দেওয়া হয়। শনিবার বাড়ির পেছন থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১ আগস্ট ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন লাইলী। গত শুক্রবার রাতে বাসায় একাই ছিলেন ফরিদা। এই সুযোগে ভাড়াটিয়া লাইলী কৌশলে তার সহযোগী চাঁপানগর গ্রামের আমির হোসেন, সোহেল রানা এবং রবিউল ইসলামকে ডেকে আনে। তারা ঘরে ঢুকে ফরিদাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

 

এরপর লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে পলিথিন ব্যাগে মুড়ে বাড়ির পেছনে ও ডোবায় ফেলে রাখে। বাসা থেকে ৭ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় ঘাতকরা।

 

শনিবার সকাল থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে ছোট মেয়ে মরিয়ম ও স্বজনরা খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। বিকেলে ভুক্তভোগীর ভাগ্নে মামুন ও স্বজনরা বাসায় এসে ভাড়াটিয়া লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। এ ছাড়া লাইলীর ঘরের বারান্দা পানি দিয়ে ধোয়ামোছা করতে দেখে তাদের সন্দেহ আরো বাড়ে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা একটি বস্তায় পলিথিনে মোড়ানো খণ্ড-বিখণ্ড লাশ দেখতে পান তারা। এ সময় লাইলীকে আটক করলে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন।

 

পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ফাহিমা নামের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করে খালে পুঁতে রেখেছিল লাইলী ও তার প্রেমিক আমির হোসেন। নিহত শিশুটি আমির হোসেনের মেয়ে। এই মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর মাত্র এক মাস আগে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন লাইলী।

 

১৩ প্যাকেট লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেছেন নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মফিজুল ইসলাম।

 

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, গ্রেপ্তার প্রধান আসামি লাইলী আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বর্ণালংকার ও টাকার লোভেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অনেকে ২৯ বছর বয়সেই রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে ব্যাকুল: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

শিশু হত্যা মামলায় জামিনে বেরিয়ে গৃহকর্ত্রীকে খুন, কে এই লাইলী

আপডেট সময় ১১:০৯:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় শিশুকে হত্যা করে প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগ করেন লাইলী আক্তার। মাসখানেক আগে জামিনে ছাড়া পান তিনি।

 

পরে এক নারীকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে পলিথিনের প্যাকেটে করে গুম করেন লাইলী। এমন অভিযোগে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে লাইলী আক্তারকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ফরিদা ইয়াসমিন দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন।

 

দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে একাই থাকতেন ফরিদা। বাড়ির একটি কক্ষ লাইলী আক্তারকে ভাড়া দেওয়া হয়। শনিবার বাড়ির পেছন থেকে পলিথিনে মোড়ানো লাশের ৯টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১ আগস্ট ফরিদা ইয়াসমিনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন লাইলী। গত শুক্রবার রাতে বাসায় একাই ছিলেন ফরিদা। এই সুযোগে ভাড়াটিয়া লাইলী কৌশলে তার সহযোগী চাঁপানগর গ্রামের আমির হোসেন, সোহেল রানা এবং রবিউল ইসলামকে ডেকে আনে। তারা ঘরে ঢুকে ফরিদাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

 

এরপর লাশ খণ্ড-বিখণ্ড করে পলিথিন ব্যাগে মুড়ে বাড়ির পেছনে ও ডোবায় ফেলে রাখে। বাসা থেকে ৭ লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় ঘাতকরা।

 

শনিবার সকাল থেকে ফরিদা ইয়াসমিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে ছোট মেয়ে মরিয়ম ও স্বজনরা খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। বিকেলে ভুক্তভোগীর ভাগ্নে মামুন ও স্বজনরা বাসায় এসে ভাড়াটিয়া লাইলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কথাবার্তায় অসংগতি ধরা পড়ে। এ ছাড়া লাইলীর ঘরের বারান্দা পানি দিয়ে ধোয়ামোছা করতে দেখে তাদের সন্দেহ আরো বাড়ে। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা একটি বস্তায় পলিথিনে মোড়ানো খণ্ড-বিখণ্ড লাশ দেখতে পান তারা। এ সময় লাইলীকে আটক করলে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন।

 

পুলিশ জানায়, ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর অনৈতিক সম্পর্ক দেখে ফেলায় ফাহিমা নামের এক শিশুকে গলা কেটে হত্যা করে খালে পুঁতে রেখেছিল লাইলী ও তার প্রেমিক আমির হোসেন। নিহত শিশুটি আমির হোসেনের মেয়ে। এই মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর মাত্র এক মাস আগে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন লাইলী।

 

১৩ প্যাকেট লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেছেন নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মফিজুল ইসলাম।

 

দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান এবং সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন জানান, গ্রেপ্তার প্রধান আসামি লাইলী আক্তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। স্বর্ণালংকার ও টাকার লোভেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।