ঢাকা , সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মুক্তি পাওয়া ৪ আওয়ামী নেতাকে বরণ করতে গিয়ে কারাফটকে আটক আরও ৪ কর্মী এসএসসির ফল জানার আগেই বিদায় নিল কাজী রেজা সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ভারতের হাইকমিশনার রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, পররাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর শোক আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি: সৌদিতে ২ সন্তান হারিয়ে দিশেহারা পরিবার মন খুলে গান গাওয়া যায়, নাম্বার দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধ শেষ করে নিজেদের বিজয় ঘোষণা করতে চান ট্রাম্প ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন মির্জা ফখরুল, মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সীমান্তে আটক ভারতীয় নাগরিককে পুলিশের নিকট হস্তান্তর

আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি: সৌদিতে ২ সন্তান হারিয়ে দিশেহারা পরিবার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলেছিল-‘মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করবো।আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কি সর্বনাশ হলো বাবা আমার।এভাবেই আহাজারি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নিহত সুমন ও মোহনের মা ময়না খাতুন।সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন এবং সুমনদের বাড়িতে শোকের মাতম বিরাজ করছে।

এর আগে রোববার দুপুর ২টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই ভাই নিহত হন। এ ছাড়া এই গ্রামের আরও দুইজন এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।  ময়না খাতুন বলেন, ‘কালকে মেজো ব্যাটার সঙ্গে সকালে কথা কইছি।ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও, সুস্থ থাকো।যখন আগুন লেগছে, তখন ওই ফায়ার সার্ভিস আসছিল না। তখন ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। দিয়ে বলেমারো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ‘হামার দুই বাবা হামার বুকে এনে দেও বাবা। আমার বাবাদেরকে দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু বাবা। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে মোহন বলতেছিল– ‘এসে বিয়া করমু মা। মেয়াটিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেনবিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গাফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামানিক ও সুমন প্রামানিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মুক্তি পাওয়া ৪ আওয়ামী নেতাকে বরণ করতে গিয়ে কারাফটকে আটক আরও ৪ কর্মী

আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি: সৌদিতে ২ সন্তান হারিয়ে দিশেহারা পরিবার

আপডেট সময় ১১:৫২:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বড় ছাওয়াল গেছে সাত বছর হচ্ছে, আর মেজো ছাওয়াল গেছে দুই বছর। কোনোদিনও ছুটিতে আসেনি। ছাওয়ালটা বলেছিল-‘মা, কষ্ট করে খেয়ে দেনা শোধ করছি কেবল। বাড়ির কাজটা শুরু করছি, বাড়ি এসে বিল্ডিংয়ের কাজটা শেষ করবো।আমার বাবার আর বাড়ি আসা হলো না। কি সর্বনাশ হলো বাবা আমার।এভাবেই আহাজারি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নিহত সুমন ও মোহনের মা ময়না খাতুন।সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামে মোহন এবং সুমনদের বাড়িতে শোকের মাতম বিরাজ করছে।

এর আগে রোববার দুপুর ২টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দুই ভাই নিহত হন। এ ছাড়া এই গ্রামের আরও দুইজন এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন।  ময়না খাতুন বলেন, ‘কালকে মেজো ব্যাটার সঙ্গে সকালে কথা কইছি।ভালোই আছি মা, তুমি ভাত খাও, সুস্থ থাকো।যখন আগুন লেগছে, তখন ওই ফায়ার সার্ভিস আসছিল না। তখন ছাওয়াল ভয়েস ম্যাসেজ দিছে। দিয়ে বলেমারো, দুইডা কথা কমু মা, আমি আর কথা কমু না নে মা। আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ‘হামার দুই বাবা হামার বুকে এনে দেও বাবা। আমার বাবাদেরকে দেখে আমি কলিজা শান্তি করমু বাবা। বড় কষ্টের ছাওয়াল, আমার দুই ধনক আমার বুকে এনে দে বাবা রে মোহন বলতেছিল– ‘এসে বিয়া করমু মা। মেয়াটিয়ে দেখো না, আমি ১০টা দেখে একটা বিয়ে করমু মা।নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। মরদেহ ফিরিয়ে আনতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সৌদি আরবের রিয়াদের সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার নিহতরা হলেনবিশা ইউনিয়নের ডুবাই গ্রামের মৃত বাদলের ছেলে সুমন (৩৫) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৭), কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামের গাফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন প্রামানিক ও সুমন প্রামানিক, একই গ্রামের জান্নারের ছেলে রুবেল হোসেন (৩০) ও ফজলুর প্রামাণিকের ছেলে কলি প্রামাণিক (৩৫), পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮), বিশা গ্রামের আজহারের ছেলে সাগর (৩১) ও একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল (৩৪) এবং উদনপৈ গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩২)