‘মা আর মনে হয় দেখা হবে না। সবাই দোয়া করো। ছোট ভাই সুমন প্রামাণিক আগুনে পুড়ে এরই মধ্যে মারা গেছে’। গতকাল সোমবার (৯ আগস্ট) দুপুরে মৃত্যুর ঠিক আগে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমোতে এমনই অডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গন্ডগোহালী গ্রামের মহন প্রমাণিক।
একই গ্রামের ৬৮ বছর বয়সী কারিমা খাতুন। স্বামীকে হারিয়েছেন অনেক আগেই। একমাত্র সন্তানকে গেত ৫ বছর আগে পাঠিয়েছিলেন মরুর দেশ সৌদি আরবে। উপার্জনের টাকাতেই চলতো সংসার। কিন্তু হঠাৎই গতকাল দুপুরের পর মোবাইল ফোনে পান একমাত্র ছেলে কলিম উদ্দিনের মৃত্যুর খবর। এরপর থেকেই বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কারখানাটিতে আগুন লাগে। আগুনে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁয়। বাকি ৩ জনের বাড়ি নাটোরে। নিহতরা হলেন– পারকাসুন্দা গ্রামের মৃত তমেজ উদ্দিনের ছেলে জালাল উদ্দিন (৩৮), ডুবাই গ্রামের বাদলের ছেলে সুমন হোসেন (৩৩), সোহেল রানা (৪১) ও একই গ্রামের চঞ্চলের ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ (২৮), গন্ডগোহালী গ্রামের গফফার প্রামাণিকের ছেলে মহন প্রামানিক (৩৮) ও সুমন প্রামানিক (২৮), একই গ্রামের জান্নাত আলীর ছেলে রুবেল হোসেন (২৮), ফজলুর প্রামানিকের ছেলে কলিম উদ্দিন প্রামানিক (১৯), সাতনগর গ্রামের সাগর হোসেন (২১), উদয়নপুর গ্রামের ময়েন শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩৬), মাদবপুর গ্রামের মজনু মিয়ার ছেলে মজিদুল ইসলাম (৩৫), মধ্য বোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ¦ হোসেন (২১), খরসতি গ্রামের মহিদুল ইসলাম (৩৯)।
এদিকে, সৌদি আরবে সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এক শোক বার্তায় মন্ত্রী বলেন, সৌদি আরবে কর্মরত এই প্রবাসীদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে তিনি গভীর শোকাহত। নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ডেস্ক রিপোর্ট 























