ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার পাকিস্তানের নিজস্ব প্রযুক্তির ইলেক্ট্রো-অপটিক্যাল স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ চট্টগ্রামে যুবদল কর্মীকে গুলি কনটেন্ট ক্রিয়েটর হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার সমন্বয়কের কাছে চাঁদা দাবি ও জমি দখলের চেষ্টা হুইলচেয়ারে ট্রাইব্যুনালে এসে দীপু মনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অসুস্থ স্বামী অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন এ কে ফজলুল হক: প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: আটক সন্দেহভাজনের পরিচয় শনাক্ত মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ, পূর্বাভাস আইএমএফ’র ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে কুড়িগ্রামে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে আহত ৬

জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মাহমুদুল ছিলেন আওয়ামী লীগে!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • ৭৯ বার পড়া হয়েছে

এবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে সময়ের সঙ্গে পরিচয়ের পরিবর্তন নতুন কোনো বিষয় নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে মাহমুদুল হাসানের নাম ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিও সেই বাস্তবতার আরেকটি উদাহরণ।

জানা যায়, ২০১২২০১৩ সালে তিনি American International University-Bangladesh (এআইইউবি)-তে এমবিএ প্রোগ্রামে শিক্ষকতা করতেন। সে সময় তার পরিচিতি ছিল একজন শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তা হিসেবে। তিনি পিএপি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের কর্ণধার। সেই সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু তার প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলেও অনেকের কাছে তিনি উল্লেখ করতেন।

এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে কিছু প্রকল্পের টেন্ডার পাওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে। এসব কারণে তাকে অনেকেই তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখতেন। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালে ব্যক্তির অবস্থানও যে বদলে যেতে পারেমাহমুদুল হাসানের সাম্প্রতিক ভূমিকা সেই আলোচনাকেই আবার সামনে এনেছে। এখন তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানএর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠির মাধ্যমে মন্ত্রী পদমর্যাদার সরকারি দায়িত্ব চাওয়ার বিষয়টিও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেব্যক্তিগত উদ্যোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সীমারেখা কোথায় হওয়া উচিত। রাজনীতির বাস্তবতায় ব্যক্তির অবস্থান পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। তবে জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ পদ বা দায়িত্ব নিয়ে যখন আলোচনা তৈরি হয়, তখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটিও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। তাই এ ধরনের ঘটনা কেবল ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের এমপির গাড়িতে হামলা: বিএনপি-ছাত্রদলের ৩ নেতা বহিষ্কার

জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মাহমুদুল ছিলেন আওয়ামী লীগে!

আপডেট সময় ০৩:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

এবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে সময়ের সঙ্গে পরিচয়ের পরিবর্তন নতুন কোনো বিষয় নয়। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে মাহমুদুল হাসানের নাম ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিও সেই বাস্তবতার আরেকটি উদাহরণ।

জানা যায়, ২০১২২০১৩ সালে তিনি American International University-Bangladesh (এআইইউবি)-তে এমবিএ প্রোগ্রামে শিক্ষকতা করতেন। সে সময় তার পরিচিতি ছিল একজন শিক্ষাবিদ ও উদ্যোক্তা হিসেবে। তিনি পিএপি ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের কর্ণধার। সেই সময়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু তার প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলেও অনেকের কাছে তিনি উল্লেখ করতেন।

এছাড়া তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মুজিববর্ষ উপলক্ষে কিছু প্রকল্পের টেন্ডার পাওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে। এসব কারণে তাকে অনেকেই তৎকালীন ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই দেখতেন। তবে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলালে ব্যক্তির অবস্থানও যে বদলে যেতে পারেমাহমুদুল হাসানের সাম্প্রতিক ভূমিকা সেই আলোচনাকেই আবার সামনে এনেছে। এখন তিনি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানএর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠির মাধ্যমে মন্ত্রী পদমর্যাদার সরকারি দায়িত্ব চাওয়ার বিষয়টিও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেব্যক্তিগত উদ্যোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের সীমারেখা কোথায় হওয়া উচিত। রাজনীতির বাস্তবতায় ব্যক্তির অবস্থান পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। তবে জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ পদ বা দায়িত্ব নিয়ে যখন আলোচনা তৈরি হয়, তখন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নটিও স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে। তাই এ ধরনের ঘটনা কেবল ব্যক্তিকে ঘিরে নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে।