সুদানের পশ্চিমাঞ্চলীয় দারফুরের এল-ফাশার শহরে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি শিবিরে আধা সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) এর ড্রোন ও আর্টিলারি হামলায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার (১১ অক্টোবর) সংঘটিত এ হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী ও এল-ফাশার প্রতিরোধ কমিটি।
প্রতিবেদনে জানা যায়, দার আল-আরকাম নামের ওই শিবিরে আরএসএফ দুটি ড্রোন হামলা ও আট দফায় আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করে। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনেক মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এল-ফাশার উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী এবং দারফুর অঞ্চলে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বশেষ প্রধান শহর। গত ১৮ মাস ধরে আরএসএফ শহরটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে তাদের হামলা আরও তীব্র হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, সেনাবাহিনী ও আরএসএফের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এল-ফাশার এখন “খোলা আকাশের নিচে কবরস্থান”। চার লাখেরও বেশি মানুষ সেখানে আটকা পড়ে আছেন, খাবার ও ওষুধ প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
এদিকে আরএসএফের হামলা থেকে হাসপাতাল, মসজিদ ও আশ্রয়কেন্দ্রও রেহাই পাচ্ছে না। সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস চিকিৎসা কেন্দ্রের ওপর হামলা বন্ধ ও মানবিক সহায়তা পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফোল্কার তুর্ক এ হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
সূত্র: ডয়েছে ভেলে (Deutsche Welle)

