ঢাকা , রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা জাকসুর সিলেট সীমান্তে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ করলো বিজিবি রাঙামাটিতে গাড়ির কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মিলবে চালকের সব তথ্য অন্যায় দেখলে ইস্পাতের মতো কঠিন হবো: জামায়াত আমীর হবিগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল বাবা-ছেলের সাতটি পাসপোর্টসহ সীমান্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি আটক পশ্চিমবঙ্গে যারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছে তাদের ছাড়া হবে না: শুভেন্দু ‘গুপ্ত গুপ্ত’ স্লোগান ব্যঙ্গ করে প্রচারণায় শিবির, সেলফিতে মাতলেন নবীন শিক্ষার্থীরা আমরা শুধু আছি ভারতকে নিয়ে আর ভারত আছে আমাদের নিয়ে: ফজলুর রহমান ফ্যামিলি কার্ডের তালিকা নিয়ে অসন্তোষ ডেপুটি স্পিকার

ফজলুর রহমান ও হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে: সারজিস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫
  • ৮২৭ বার পড়া হয়েছে

এবার বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান ও হাবিবুর রহমানের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আশাহত করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাঁরা বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন না। সত্যিকার অর্থে যদি আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে বিএনপির সেন্ট্রাল অফিস থেকে এই সব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে যুবশক্তি আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অতীতে নেতাদের আদালতের হাজিরা দেওয়ার ঘটনা দেখে অনুপ্রাণিত হতেন জানিয়ে সারজিস আলম বলেছেন, ‘আজ আমি যদি বিএনপির কোনো নেতার বিরুদ্ধে অন্যায়ের নামে সত্য কথা বলি, আমার নামে ১০ কোটি টাকার মামলা করা হয়। আমরা স্তব্ধ থাকব না। আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক কিংবা এনসিপি—আমরা ছাড় দেব না।’

বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান ও হাবিবুর রহমানের প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, ‘তাঁদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আশাহত করে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাঁরা বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে না। সত্যিকার অর্থে যদি আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে বিএনপির সেন্ট্রাল অফিস থেকে এই সব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

টেবিলের আলোচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘যদি টেবিলের আলোচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে রাজপথ দখলের প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করা হয় তাহলে রাজপথ দখলে নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।’ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘নির্বাচনের ডেট ঘোষণা হয়েছে; ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে; ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, আমার যে ভাইয়েরা শহীদ হয়েছিল, রক্ত দিয়েছিল সংস্কারের জন্য, তাহলে কবরে গিয়ে তার লাশটা ফেরত দিতে হবে এই সরকারকে।’

গত এক বছরে প্রশাসনের চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রশাসনের সংস্কার এবং তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখতে চাই। একই সঙ্গে হাসিনার আমলের বিগত নির্বাচনে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ দেশের মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, ‘পৃথিবীতে আর কোনো দেশে এই ধরনের মিডিয়া আছে কি না, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। যেখানে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ডিজিএফআই নিউজ লিখে পাঠায় এবং মিডিয়া তা প্রকাশ করে। মিডিয়ায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন এজেন্সি নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করে। এজেন্সি ছবি তুলে পাঠায়, সেটা মিডিয়া প্রকাশ করে। ফলে মিডিয়া এখন জনগণের কণ্ঠস্বর না হয়ে বিভিন্ন এজেন্সির মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে।’

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে কেন দিল্লি-পিন্ডির স্লোগান দিতে হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘৫৪ বছর পরও স্বাধীন দেশে কেন দিল্লি-পিন্ডির স্লোগান দিতে হচ্ছে আমার বাংলাদেশে? এ জন্য আমি মনে করি না, আমাদের মধ্যে কোনো আইডেনটিটি ক্রাইসিস আছে, তবে আমাদের মধ্যে হীনমন্যতা আছে। এই হীনমন্যতা বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে।’ তাহের বলেন, ‘আমরা নেতারা মনে করি, ক্ষমতায় আসতে হলে অন্যদের সহযোগিতা লাগবে। বিদেশি কোনো শক্তির সহায়তা লাগবে। জুলাইয়ে যুবকেরা প্রমাণ করেছে, আমাদের শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা লড়াই করতে জানি, ঐক্যবদ্ধ হতে জানি, জীবন দিতে জানি। শুধু পরাজয় জানি না।’

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘জুলাই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ফ্যাসিবাদের কবর দিতে হয়। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) শিখিয়েছে কীভাবে শেখ হাসিনাকে বিদায় দিতে হয়। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে আয়নাঘর ধ্বংস করতে হয়।’ এ্যানি আরও বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্যের বিকল্প নেই। সেটি হতে হবে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়। যাকে ভাঙা যাবে না, মচকানো যাবে না। লোভের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের প্রয়োজনে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অপরাধী গ্রেপ্তার না হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের ঘোষণা জাকসুর

ফজলুর রহমান ও হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে: সারজিস

আপডেট সময় ১১:৩২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৫

এবার বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান ও হাবিবুর রহমানের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আশাহত করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাঁরা বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন না। সত্যিকার অর্থে যদি আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে বিএনপির সেন্ট্রাল অফিস থেকে এই সব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে যুবশক্তি আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। অতীতে নেতাদের আদালতের হাজিরা দেওয়ার ঘটনা দেখে অনুপ্রাণিত হতেন জানিয়ে সারজিস আলম বলেছেন, ‘আজ আমি যদি বিএনপির কোনো নেতার বিরুদ্ধে অন্যায়ের নামে সত্য কথা বলি, আমার নামে ১০ কোটি টাকার মামলা করা হয়। আমরা স্তব্ধ থাকব না। আওয়ামী লীগ হোক, বিএনপি হোক কিংবা এনসিপি—আমরা ছাড় দেব না।’

বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান ও হাবিবুর রহমানের প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, ‘তাঁদের বক্তব্য শিক্ষার্থীদের আশাহত করে। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তাঁরা বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করে না। সত্যিকার অর্থে যদি আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকে, তাহলে বিএনপির সেন্ট্রাল অফিস থেকে এই সব নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

টেবিলের আলোচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘যদি টেবিলের আলোচনায় সংস্কার বাস্তবায়নের পথ নিশ্চিত করা না হয়, তাহলে রাজপথ দখলের প্রস্তুতি নিতে হবে। যদি সংস্কার নিয়ে টালবাহানা করা হয় তাহলে রাজপথ দখলে নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।’ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘নির্বাচনের ডেট ঘোষণা হয়েছে; ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে; ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। যদি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হয়, আমার যে ভাইয়েরা শহীদ হয়েছিল, রক্ত দিয়েছিল সংস্কারের জন্য, তাহলে কবরে গিয়ে তার লাশটা ফেরত দিতে হবে এই সরকারকে।’

গত এক বছরে প্রশাসনের চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রশাসনের সংস্কার এবং তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকায় দেখতে চাই। একই সঙ্গে হাসিনার আমলের বিগত নির্বাচনে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ দেশের মিডিয়ার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাসনাত বলেন, ‘পৃথিবীতে আর কোনো দেশে এই ধরনের মিডিয়া আছে কি না, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ। যেখানে ক্যান্টনমেন্ট থেকে ডিজিএফআই নিউজ লিখে পাঠায় এবং মিডিয়া তা প্রকাশ করে। মিডিয়ায় রাষ্ট্রের বিভিন্ন এজেন্সি নগ্নভাবে হস্তক্ষেপ করে। এজেন্সি ছবি তুলে পাঠায়, সেটা মিডিয়া প্রকাশ করে। ফলে মিডিয়া এখন জনগণের কণ্ঠস্বর না হয়ে বিভিন্ন এজেন্সির মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে।’

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশে কেন দিল্লি-পিন্ডির স্লোগান দিতে হচ্ছে—এমন প্রশ্ন তুলে সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘৫৪ বছর পরও স্বাধীন দেশে কেন দিল্লি-পিন্ডির স্লোগান দিতে হচ্ছে আমার বাংলাদেশে? এ জন্য আমি মনে করি না, আমাদের মধ্যে কোনো আইডেনটিটি ক্রাইসিস আছে, তবে আমাদের মধ্যে হীনমন্যতা আছে। এই হীনমন্যতা বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলে দিতে হবে।’ তাহের বলেন, ‘আমরা নেতারা মনে করি, ক্ষমতায় আসতে হলে অন্যদের সহযোগিতা লাগবে। বিদেশি কোনো শক্তির সহায়তা লাগবে। জুলাইয়ে যুবকেরা প্রমাণ করেছে, আমাদের শক্তি সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা লড়াই করতে জানি, ঐক্যবদ্ধ হতে জানি, জীবন দিতে জানি। শুধু পরাজয় জানি না।’

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘জুলাই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে ফ্যাসিবাদের কবর দিতে হয়। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট) শিখিয়েছে কীভাবে শেখ হাসিনাকে বিদায় দিতে হয়। জুলাই আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে আয়নাঘর ধ্বংস করতে হয়।’ এ্যানি আরও বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্যের বিকল্প নেই। সেটি হতে হবে ইস্পাত কঠিন দৃঢ়। যাকে ভাঙা যাবে না, মচকানো যাবে না। লোভের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের প্রয়োজনে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।’