যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের ৭২ ঘণ্টা শেষে মুক্তি পেয়েছেন জীবিত ২০ ইসরায়েলি জিম্মি। সোমবার দুপুরে এই সময়সীমা শেষ হয়।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর মোট ৪৮ ইসরায়েলিকে জিম্মি করেছিল ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সংগঠন হামাস। তাদের মধ্যে বাকি ২৮ জনকে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাদের মৃতদেহও ফেরত দিতে হবে হামাসকে, যদিও এই প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।

একই সময়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল তার কারাগার থেকে প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। জিম্মি ও বন্দি বিনিময়ের এই মুহূর্তে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষকে উল্লাস করতে দেখা গেছে।

ইসরায়েল সফরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “ওয়ার ইজ ওভার” — অর্থাৎ যুদ্ধ শেষ হয়েছে।

গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা দেয়, তার অন্যতম মূল প্রস্তাব ছিল জিম্মি ও বন্দি বিনিময়। এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন মিশরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে, যেখানে অন্তত ২০টি দেশের নেতারা অংশ নেবেন। এই সম্মেলনকে বলা হচ্ছে “শীর্ষ শান্তি সম্মেলন”।

মুক্তিপ্রাপ্তরা কারা
মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিপ্রাপ্ত ইসরায়েলিদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক, যারা দুই বছরেরও বেশি সময় গাজায় বন্দি ছিলেন। সোমবার তাদের গাজা উপত্যকার বাইরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে আসা হয়, পরে চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দীর্ঘ বন্দিজীবনের প্রায় পুরো সময় তারা ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলোতে কাটিয়েছেন, যেখানে ছিল তীব্র খাদ্য ও পানির সংকট। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হাতে আটক হওয়ার সময় অনেকে আহত হয়েছিলেন, কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাননি।