ঢাকা , শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
চট্টগ্রামে নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, সিসিটিভিতে ৭ যুবক জিপিএস ব্যবহার ছাড়াই মার্কিন ঘাঁটিতে নিখুঁত হামলা চালান ইরানি পাইলটরা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারকে নতুন ঘর দেবেন প্রধানমন্ত্রী মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ড. ইউনূসের চেয়ে ‘হাজারগুণ ভালো’ দেশ চালাচ্ছেন তারেক রহমান: কাদের সিদ্দিকী সকাল না হতেই মর্মান্তিক দুই দুর্ঘটনা, ঝরে গেল ১৫ প্রাণ মৃত্যুর পর যদি সন্তানেরা না করে, তাই জীবিত অবস্থায় নিজের চল্লিশার আয়োজন করলেন বৃদ্ধ অন্ধকারে মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠক, আসল মানুষ কিনা প্রশ্ন পেজেশকিয়ানের সিঙ্গারার লোভ দেখিয়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের মিছিলে নিলেন যুবলীগ নেতা মসজিদের ইমামকে ওমরাহ উপহার, আবেগে ভাসল বিদায়ের মুহূর্ত

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক ব্যবসার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে আইন পাস

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১০০ বার পড়া হয়েছে

এবার সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ব্যবসার করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত বিলে প্রযুক্তিনির্ভর মাদকসংক্রান্ত অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না। এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সাইবার স্পেসের বিভিন্ন রিসোর্স, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারবে। সংশোধিত আইনে সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রাখার পাশাপাশি মাদকপ্রবণ এলাকায় পৃথক মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে। এ ছাড়া, প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ, বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ দমনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে নওফেলের বাসভবনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা, সিসিটিভিতে ৭ যুবক

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মাদক ব্যবসার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে আইন পাস

আপডেট সময় ০৯:৪৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

এবার সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ব্যবসার করলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত বিলে প্রযুক্তিনির্ভর মাদকসংক্রান্ত অপরাধকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ইলেকট্রনিক যোগাযোগব্যবস্থা বা অন্য কোনো ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা মনঃপ্রভাবকারী পদার্থ কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, প্রস্তাব, বিজ্ঞাপন, যোগাযোগ, সহায়তা বা অন্য কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ছাড়া, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার বা ব্যবহারের চেষ্টা করেও এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক হবে না। এ ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। যদি কোনো অপরাধ আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়, তবে অপরাধীকে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।

আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল সাইবার স্পেসের বিভিন্ন রিসোর্স, ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, ওয়ালেট, ভার্চুয়াল অ্যাসেট ও ক্রিপ্টোকারেন্সি জব্দ, অপসারণ, বাজেয়াপ্ত বা রাষ্ট্রের অনুকূলে জব্দ করার নির্দেশ দিতে পারবে। সংশোধিত আইনে সাধারণ আদালতের এখতিয়ার বহাল রাখার পাশাপাশি মাদকপ্রবণ এলাকায় পৃথক মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহাল করা হয়েছে। এ ছাড়া, প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধ, বিশেষ করে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ দমনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং ডগ স্কোয়াড গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।