ঢাকা , শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর স্মার্টফোনের ন্যূনতম দাম ২৫০০ টাকার মধ্যে আনতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ‘স্থায়ী শান্তি’ আসবে না: রাশিয়া হাজার চেষ্টা করলেও আ.লীগ হতে পারবেন না: বিএনপিকে জামায়াত আমির আজহারী ও জারার ছবি ব্যবহার করে যৌন উত্তেজক ওষুধের বিজ্ঞাপন, গ্রেপ্তার ১০ নিজেদের সক্ষমতার সামান্যই ব্যবহার করেছে ইরান, নিচ্ছে পাল্টা হামলার প্রস্তুতি জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মূলে কাজ করতে হবে: মির্জা ফখরুল ৭২-এর সংবিধান মোতাবেক শেখ হাসিনা এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রী: ব্যারিস্টার ফুয়াদ ‘যেই বিএনপির জন্ম হয়েছে গণভোটের মাধ্যমে, তারাই আজ গণভোটকে অস্বীকার করছে’

আড়তদারি নয়, বৈধ B2B মডেল: ভুল তথ্য দিয়ে ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি বিপদে—অভিযোগ এজেন্সিগুলোর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৫৯৮ বার পড়া হয়েছে

এয়ার টিকিট বিক্রিতে “আড়তদারি” শব্দটির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত B2B (Business-to-Business) মডেলকে একই জিনিস হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন দেশের শীর্ষ ট্রাভেল এজেন্সি ও শিল্পসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, “আড়তদারি” মূলত অনিয়ন্ত্রিত, অনুমোদনহীন, অবৈধ দালালচক্রের মাধ্যমে কমিশনভিত্তিক টিকিট বেচাকেনাকে বোঝায়, যেখানে কোনো আইনগত কাঠামো, হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা বা দায়বদ্ধতা থাকে না। এই প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে এবং পুরো শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করে।

অন্যদিকে B2B হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি নিয়মিত ব্যবসায়িক ব্যবস্থা, যেখানে বড় ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট এজেন্সিগুলোকে প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, API, চুক্তিভিত্তিক ভাড়া, নির্দিষ্ট কমিশন, ট্যাক্স চালান ও পূর্ণ হিসাবরক্ষণসহ সেবা প্রদান করে। এই মডেল IATA, এয়ারলাইন, GDS ও আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ইকোসিস্টেমে বহু দশক ধরে প্রচলিত এবং এটি সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মবদ্ধ।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দাবি—এই দুটি ভিন্নধর্মী কাঠামোকে এক করে দেখানো শুধু অজ্ঞতা নয়, বরং নীতিনির্ধারকদের ভুলভাবে প্রভাবিত করে পুরো ট্রাভেল শিল্পকে বিপদে ফেলার সমান। তাঁদের অভিযোগ, শিল্পের ভেতরেই কিছু মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সরকারকে ভুল বুঝিয়ে B2B মডেলকে আড়তদারি হিসেবে প্রচার করছে, যা বাস্তবতা ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত।

এজেন্সিগুলো সতর্ক করে বলেছে—
যদি B2B-কে ভুল ব্যাখ্যা করে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে হাজার হাজার এজেন্সি, তাদের কর্মচারী এবং দেশের পুরো এয়ার টিকিট বাজার বড় ধরনের সংকটে পড়বে। বিশ্বজুড়ে সকল দেশেই B2B প্ল্যাটফর্ম বৈধভাবে পরিচালিত হয়; বাংলাদেশে এটি বন্ধ বা সীমিত করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাবে দেশীয় এজেন্টরা।

তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন—
আড়তদারি বন্ধ করা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু আড়তদারি ও B2B–কে একই জিনিস হিসেবে ধরে সিদ্ধান্ত নিলে তা হবে ভুল নীতিনির্ধারণ, যা যাত্রী, এজেন্সি, এয়ারলাইন, এমনকি সরকারের রাজস্ব—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের মতে, B2B বন্ধ হলে বাজারে অস্বাভাবিক ক্ষমতা কেন্দ্রিকরণ হবে, অর্থাৎ ১০–১৫টি এজেন্সির হাতে পুরো বাজার চলে যাবে। তখন টিকিটের দাম কমার বদলে বাড়ারই সম্ভাবনা বেশি।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর উদ্বেগ

এজেন্সিগুলোর দাবি, আড়তদারি বন্ধ করতে গিয়ে যদি B2B–কে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে—

  • হাজারো ছোট এজেন্সি ব্যবসা হারাবে,

  • বাজারে প্রতিযোগিতা কমবে,

  • নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হবে,

  • শ্রমিক ও মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাদের মতে, “আড়তদারি প্রতারণা—এটা বন্ধ হোক। কিন্তু B2B হলো স্বাভাবিক বাজার কাঠামো; এটি বন্ধ করা মানে শিল্পকে ধ্বংস করা।”

বিশ্বের কোথাও B2B নিষিদ্ধ নয়

ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র—সব দেশেই B2B টিকিটিং সাপ্লাই চেইন চালু আছে। যেখানে বড় এজেন্সি থেকে ছোট এজেন্সিতে টিকিট যায়, আর তারাই যাত্রীকে সেবা দেয়। এটাই বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করে, যার কারণে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দাবি, আড়তদারি ও B2B একই বিষয় নয়—এ দুটোকে এক করা একটি ভুল ধারণা, যা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে, সমাধান হলো—


আড়তদারি বন্ধ করতে হবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের B2B সাপ্লাই চেইন বজায় রাখতে হবে, যাতে বাজার স্থিতিশীল থাকে ও যাত্রীর স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ, পূজা চেরির বাবা গ্রেপ্তার

আড়তদারি নয়, বৈধ B2B মডেল: ভুল তথ্য দিয়ে ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রি বিপদে—অভিযোগ এজেন্সিগুলোর

আপডেট সময় ০৩:৫৮:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

এয়ার টিকিট বিক্রিতে “আড়তদারি” শব্দটির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত B2B (Business-to-Business) মডেলকে একই জিনিস হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন দেশের শীর্ষ ট্রাভেল এজেন্সি ও শিল্পসংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা।

তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, “আড়তদারি” মূলত অনিয়ন্ত্রিত, অনুমোদনহীন, অবৈধ দালালচক্রের মাধ্যমে কমিশনভিত্তিক টিকিট বেচাকেনাকে বোঝায়, যেখানে কোনো আইনগত কাঠামো, হিসাব-নিকাশের স্বচ্ছতা বা দায়বদ্ধতা থাকে না। এই প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে এবং পুরো শিল্পের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করে।

অন্যদিকে B2B হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত একটি নিয়মিত ব্যবসায়িক ব্যবস্থা, যেখানে বড় ট্রাভেল প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট এজেন্সিগুলোকে প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম, API, চুক্তিভিত্তিক ভাড়া, নির্দিষ্ট কমিশন, ট্যাক্স চালান ও পূর্ণ হিসাবরক্ষণসহ সেবা প্রদান করে। এই মডেল IATA, এয়ারলাইন, GDS ও আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ইকোসিস্টেমে বহু দশক ধরে প্রচলিত এবং এটি সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মবদ্ধ।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দাবি—এই দুটি ভিন্নধর্মী কাঠামোকে এক করে দেখানো শুধু অজ্ঞতা নয়, বরং নীতিনির্ধারকদের ভুলভাবে প্রভাবিত করে পুরো ট্রাভেল শিল্পকে বিপদে ফেলার সমান। তাঁদের অভিযোগ, শিল্পের ভেতরেই কিছু মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সরকারকে ভুল বুঝিয়ে B2B মডেলকে আড়তদারি হিসেবে প্রচার করছে, যা বাস্তবতা ও বৈশ্বিক মানদণ্ডের সম্পূর্ণ বিপরীত।

এজেন্সিগুলো সতর্ক করে বলেছে—
যদি B2B-কে ভুল ব্যাখ্যা করে সীমাবদ্ধ করা হয়, তবে হাজার হাজার এজেন্সি, তাদের কর্মচারী এবং দেশের পুরো এয়ার টিকিট বাজার বড় ধরনের সংকটে পড়বে। বিশ্বজুড়ে সকল দেশেই B2B প্ল্যাটফর্ম বৈধভাবে পরিচালিত হয়; বাংলাদেশে এটি বন্ধ বা সীমিত করা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা হারাবে দেশীয় এজেন্টরা।

তারা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন—
আড়তদারি বন্ধ করা অবশ্যই জরুরি, কিন্তু আড়তদারি ও B2B–কে একই জিনিস হিসেবে ধরে সিদ্ধান্ত নিলে তা হবে ভুল নীতিনির্ধারণ, যা যাত্রী, এজেন্সি, এয়ারলাইন, এমনকি সরকারের রাজস্ব—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞদের মতে, B2B বন্ধ হলে বাজারে অস্বাভাবিক ক্ষমতা কেন্দ্রিকরণ হবে, অর্থাৎ ১০–১৫টি এজেন্সির হাতে পুরো বাজার চলে যাবে। তখন টিকিটের দাম কমার বদলে বাড়ারই সম্ভাবনা বেশি।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর উদ্বেগ

এজেন্সিগুলোর দাবি, আড়তদারি বন্ধ করতে গিয়ে যদি B2B–কে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে—

  • হাজারো ছোট এজেন্সি ব্যবসা হারাবে,

  • বাজারে প্রতিযোগিতা কমবে,

  • নতুন সিন্ডিকেট তৈরি হবে,

  • শ্রমিক ও মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাদের মতে, “আড়তদারি প্রতারণা—এটা বন্ধ হোক। কিন্তু B2B হলো স্বাভাবিক বাজার কাঠামো; এটি বন্ধ করা মানে শিল্পকে ধ্বংস করা।”

বিশ্বের কোথাও B2B নিষিদ্ধ নয়

ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র—সব দেশেই B2B টিকিটিং সাপ্লাই চেইন চালু আছে। যেখানে বড় এজেন্সি থেকে ছোট এজেন্সিতে টিকিট যায়, আর তারাই যাত্রীকে সেবা দেয়। এটাই বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করে, যার কারণে টিকিটের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দাবি, আড়তদারি ও B2B একই বিষয় নয়—এ দুটোকে এক করা একটি ভুল ধারণা, যা নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে, সমাধান হলো—


আড়তদারি বন্ধ করতে হবে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের B2B সাপ্লাই চেইন বজায় রাখতে হবে, যাতে বাজার স্থিতিশীল থাকে ও যাত্রীর স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।