ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনায় জবির কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:৫৭:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় নতুন কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনকে আরও গতিশীল ও আন্দোলনমুখী করতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসছেন তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে এখন ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম নাম বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। এর আগে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ গুলোতে যখন ছাত্রদলের ভরাডুবি চলছে ঠিক সেই সময়ই টিম-৬ (বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিভাগ) এর টিমলিডার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক কে সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়লাভ করানোর পাশাপাশি হল সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ছাত্রদল প্যানেল থেকে জয়লাভ করানোর মাধ্যমে তিনি তার মেধা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ দেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষালয় স্থাপন, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক কাজেও তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রবীণদের সম্মাননা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কাজগুলো তাঁকে সংগঠনে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

রাজনৈতিক জীবনে জিয়া উদ্দিন বাসিতকে ব্যাপক প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং পুলিশের অভিযানের সময় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘকাল পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও রামপুরা এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে তাঁর সাহসী ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গুম ও সপরিবারে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা যায়।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথের ত্যাগী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সভাপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনের টকশোতে দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো যুক্তি দিয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে কে হচ্ছেন ছাত্রদলের পরবর্তী সভাপতি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের সভাপতি পদে আলোচনায় জবির কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত

আপডেট সময় ১১:৫৭:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় নতুন কমিটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংগঠনকে আরও গতিশীল ও আন্দোলনমুখী করতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান শিগগিরই নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নতুন কমিটির শীর্ষ পদগুলোতে কারা আসছেন তা নিয়ে সংগঠনের ভেতরে-বাইরে এখন ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। সভাপতি পদে আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম নাম বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত। এর আগে তিনি সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ গুলোতে যখন ছাত্রদলের ভরাডুবি চলছে ঠিক সেই সময়ই টিম-৬ (বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম বিভাগ) এর টিমলিডার হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে আইয়ুবুর রহমান তৌফিক কে সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়লাভ করানোর পাশাপাশি হল সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে ছাত্রদল প্যানেল থেকে জয়লাভ করানোর মাধ্যমে তিনি তার মেধা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ দেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের জন্য নেতৃত্ব বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক প্রশিক্ষণের আয়োজন করেন। এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষালয় স্থাপন, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক কাজেও তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রবীণদের সম্মাননা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো মানবিক কাজগুলো তাঁকে সংগঠনে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

রাজনৈতিক জীবনে জিয়া উদ্দিন বাসিতকে ব্যাপক প্রতিকূলতা ও নির্যাতনের মোকাবিলা করতে হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন এবং পুলিশের অভিযানের সময় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘকাল পঙ্গুত্ব বরণ করেছিলেন। গত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও রাজধানীর সায়েন্সল্যাব ও রামপুরা এলাকায় ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে তাঁর সাহসী ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে গুম ও সপরিবারে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও দলীয় সূত্রে জানা যায়।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, রাজপথের ত্যাগী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিত সভাপতি পদের দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিশেষ করে টেলিভিশনের টকশোতে দলের আদর্শ ও রাজনৈতিক বিষয়গুলো যুক্তি দিয়ে উপস্থাপনের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক ইমেজ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে কে হচ্ছেন ছাত্রদলের পরবর্তী সভাপতি।