ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল আগেই, মা’ম’লা হলেও থামেনি ফেরদৌস স্টিলের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১০:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি প্রায় ছয় মাস আগেই সরকারি পরিদর্শনে ধরা পড়েছিল। শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন না করা এবং অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়েও ওভারটাইম না দেওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া যায়।

এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার নোটিশ দেয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। যথাযথ জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। এর এক মাসের মধ্যেই ওই কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হলো।

দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকালে ‘এমটি রাসি’ নামে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জাহাজের ব্যালাস্ট এলাকায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল। বিষাক্ত এই গ্যাসে আক্রান্ত হয়েই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দুজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধারে গিয়ে একে একে আরও শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ফোরম্যানসহ কয়েকজনও অচেতন হয়ে পড়েন।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না।

তবে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল এবং গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়েই শ্রমিকরা কাজে নেমেছিলেন।

দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল আগেই, মা’ম’লা হলেও থামেনি ফেরদৌস স্টিলের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ

আপডেট সময় ১০:৫২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজে নিরাপত্তা ঘাটতির বিষয়টি প্রায় ছয় মাস আগেই সরকারি পরিদর্শনে ধরা পড়েছিল। শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার ঘাটতি, ঝুঁকি মূল্যায়ন না করা এবং অতিরিক্ত সময় কাজ করিয়েও ওভারটাইম না দেওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগও পাওয়া যায়।

এসব বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে একাধিকবার নোটিশ দেয় কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর। যথাযথ জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ও ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়। এর এক মাসের মধ্যেই ওই কারখানায় বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যু হলো।

দুর্ঘটনাটি ঘটে গতকাল সকালে ‘এমটি রাসি’ নামে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, জাহাজের ব্যালাস্ট এলাকায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল। বিষাক্ত এই গ্যাসে আক্রান্ত হয়েই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দুজন শ্রমিক অচেতন হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধারে গিয়ে একে একে আরও শ্রমিক গ্যাসে আক্রান্ত হন। পরে নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও ফোরম্যানসহ কয়েকজনও অচেতন হয়ে পড়েন।

এদিকে দুর্ঘটনার সময় জরুরি চিকিৎসা ও উদ্ধারব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না।

তবে নিরাপত্তা ঘাটতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছিল এবং গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র নিয়েই শ্রমিকরা কাজে নেমেছিলেন।

দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।