ঢাকা , সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
এবার যাত্রী না নামিয়ে কোনো বাস ফেরীতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী এবার বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে জমি দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ! ইসরায়েলকে সাহায্যকারী যেকোনো আরব রাষ্ট্রের পরিণতি হবে ভয়াবহ: মোহসেন রেজাই হামের আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ছাড়ালো ৫০ হাজার মোনামি ‘ফুল টাইম পেইড এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করেছেন: কাদের যমুনা সেতু আমরা করেছি, পদ্মা সেতুর উদ্যোগও আমরাই নিয়েছিলাম: সড়কমন্ত্রী সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো: ধর্মমন্ত্রী মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর হামে প্রাণ হারানো শিশুদের নিয়ে সাকিবের আবেগঘন বার্তা পাকিস্তানের সঙ্গে জ্ঞান বিনিময় আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে: শিক্ষামন্ত্রী

রংপুর জাপার দুর্গ দখলে নিতে সক্রিয় বিএনপি-জামায়াত

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:১৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১৯ বার পড়া হয়েছে

 

 

রংপুর মানেই ‘লাঙ্গলের’ দুর্গ! বিগত দিনে নির্বাচনের পরিসংখ্যান তাই বলছে। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বিশেষ করে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলীয় কোন্দল এবং আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এখন পুরোপুরি কোনঠাসা। রংপুর জেলার সামগ্রিক ভোটের হিসাব-নিকাশ আর রাজনৈতিক চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।

 

এমন বাস্তব পরিস্থিতিতে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাপার দুর্গ বলে খ্যাত রংপুর জেলার ছয় আসনই নিজেদের দখলে নিতে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তিন দলের প্রার্থীই প্রতিদিন মিছিল, সভা ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের মাঠ সরগরম করে রেখেছেন।

 

 

এ ক্ষেত্রে সঙ্কটে পল্লীবন্ধুর জাপা। তবে শেষ পর্যন্ত জাপা নির্বাচনে অংশ নিলে ছয় আসনেই কোথাও ত্রিমুখী, আবার কোথাও চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

রংপুর নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার ছয় আসনে মোট ভোটার ২৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৮২৪, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৮৬০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২১ জন।

 

রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সম্ভাব্য প্রার্থী আনিছুর রহমান (লাকু) জনকণ্ঠকে বলেন, বিএনপি জনগণের দল। জামায়াতের ভোট ব্যাংক নির্দিষ্ট। তাছাড়া ভোটের মাঠে জামায়াত তেমন সুবিধা করতে পারবে না। একই সঙ্গে এনসিপি তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল, তারা এখনো সংগঠিত হতে পারেনি। অতীতে জাতীয় পার্টি থাকলেও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তারা একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে। এই নির্বাচনে রংপুরে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণসহ অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি সারা বাংলাদেশে এবার ধানের শীষের জোয়ার বইবে এবং সেই সঙ্গে রংপুরের মানুষও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

 

এদিকে, রংপুর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা এদেশের সবচাইতে বেশি মজলুম দল। আওয়ামী লীগ আমলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করে সবচাইতে বেশি জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমরা। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতির ইতিহাস আমাদের নাই। মানুষ মজলুমদের পাশে থাকে। সবার শাসন এদেশের মানুষ দেখেছে। সবাই এবার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে উৎসুক হয়ে আছে। আমরা নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।

 

 

রংপুর-১ (গংগাচড়া উপজেলা- সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ ওয়ার্ড) ॥ রংপুর -১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গংগাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, গংগাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সদস্য মোকারম হোসেন সুজন, জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সক্রিয় সদস্য ও সফল উদ্যোক্তা কেএম রিদওয়ানুল বারী জীয়ন।

 

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন রংপুর মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রায়হান সিরাজী। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী হয়েছেন এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু। এনসিপির তৎপরতা থাকলেও এখনও তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। কৌশলগত কারণে জাপার সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে এখনও অনুপস্থিত। তবে শেষ পর্যন্ত জাপা নির্বাচনে এলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

রংপুর ২ (তারাগঞ্জ- বদরগঞ্জ) ॥ রংপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির বদরগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাডঃ মোঃ গোলাম রছুল বকুল। এছাড়াও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, অধ্যাপক আজিজুল হক ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নারীনেত্রী সাহেদা হাসান ।

 

 

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সদ্য কারামুক্ত জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। কারামুক্ত হয়ে জামায়াতের এই প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা এলাকায় জনসভা করে ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে হারাম একটি পয়সাও পেটে ঢুকাব না। জনগণের কল্যাণে সরকারি সব বরাদ্দ ব্যয় করা হবে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থীর নাম ঘোষণা দিয়েছে মওলানা মো. আশরাফ আলীর।

 

এলাকার ভোটারদের মতে, এবার এই আসনে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচন করতে পারলে তখন ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।

রংপুর-৩ (সাবেক সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকা) ॥ রংপুর-৩ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকু, মহানগর বিএনপির আহবায়ক শামসুজ্জামান শামু ও রিটা রহমান। রিটা রহমান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 

 

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। তিনি জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য। অন্যদিকে নতুন দল হওয়ায় এনসিপির এই আসনে প্রার্থী কে হবে তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল।

 

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গণসংযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত থেকে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। এই আসনেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

 

রংপুর ৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) ॥ রংপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এমদাদ উদ্দিন ভরসা ও রংপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মো. আফছার আলী। এই আসনে এমদাদ উদ্দিন ভরসার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনেকটাই নিশ্চিত। তিনি প্রতিনিয়ত গ্রামে গঞ্জে গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন।

 

নতুনদের দল এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লড়াকু যোদ্ধা আখতার হোসেন এই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। প্রতিদিন গ্রামগঞ্জে গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টায় ব্যস্ত তরুণ ছাত্রনেতা আখতার হোসেন।

 

এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন রংপুর মহানগর আমীর এটিএম আজম খান। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী জাহিদ হোসেন। সচেতন মহল মনে করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।

 

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) ॥ রংপুর-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন (পাইকার), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাজেদুর রহমান রানা। তিন প্রার্থীই সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করাসহ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হয়েছেন রংপুর জেলা আমীর ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। প্রতিদিন তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হওয়াসহ সামাজিক কর্মকা-ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী অধ্যাপক গোলজার হোসেন। তবে জনগণ মনে করছেন, জনপ্রিয়তার হিসাব-নিকাশে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।

রংপুর ৬ (পীরগঞ্জ) ॥ আলোচিত আসন রংপুর-৬। পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি। তবে এবারে এই আসনের চিত্র সম্পূর্ণই পাল্টে গেছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রতিদিন গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসারীনের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি ও রংপুর জেলা জামায়াতের সুরা এবং কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন।

 

 

তিনি প্রতিনিয়ত তার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন এই আসনে সমান সমান লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির। তবে জাপা নির্বাচনে এলে চিত্র পাল্টেও যেতে পারে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

এবার যাত্রী না নামিয়ে কোনো বাস ফেরীতে উঠতে পারবে না: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

রংপুর জাপার দুর্গ দখলে নিতে সক্রিয় বিএনপি-জামায়াত

আপডেট সময় ১২:১৫:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

 

 

রংপুর মানেই ‘লাঙ্গলের’ দুর্গ! বিগত দিনে নির্বাচনের পরিসংখ্যান তাই বলছে। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। বিশেষ করে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর দলীয় কোন্দল এবং আওয়ামী লীগের মিত্র জাতীয় পার্টি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এখন পুরোপুরি কোনঠাসা। রংপুর জেলার সামগ্রিক ভোটের হিসাব-নিকাশ আর রাজনৈতিক চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।

 

এমন বাস্তব পরিস্থিতিতে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাপার দুর্গ বলে খ্যাত রংপুর জেলার ছয় আসনই নিজেদের দখলে নিতে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও নবগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তিন দলের প্রার্থীই প্রতিদিন মিছিল, সভা ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটের মাঠ সরগরম করে রেখেছেন।

 

 

এ ক্ষেত্রে সঙ্কটে পল্লীবন্ধুর জাপা। তবে শেষ পর্যন্ত জাপা নির্বাচনে অংশ নিলে ছয় আসনেই কোথাও ত্রিমুখী, আবার কোথাও চতুর্মুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

 

রংপুর নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর জেলার ছয় আসনে মোট ভোটার ২৫ লাখ ৯৪ হাজার ৭১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লাখ ৯৩ হাজার ৮২৪, নারী ভোটার ১৩ লাখ ৮৬০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২১ জন।

 

রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও সম্ভাব্য প্রার্থী আনিছুর রহমান (লাকু) জনকণ্ঠকে বলেন, বিএনপি জনগণের দল। জামায়াতের ভোট ব্যাংক নির্দিষ্ট। তাছাড়া ভোটের মাঠে জামায়াত তেমন সুবিধা করতে পারবে না। একই সঙ্গে এনসিপি তরুণদের নতুন রাজনৈতিক দল, তারা এখনো সংগঠিত হতে পারেনি। অতীতে জাতীয় পার্টি থাকলেও জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তারা একটি নামসর্বস্ব দলে পরিণত হয়েছে। এই নির্বাচনে রংপুরে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। আমরা বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণসহ অবিরাম কাজ করে যাচ্ছি। আমি মনে করি সারা বাংলাদেশে এবার ধানের শীষের জোয়ার বইবে এবং সেই সঙ্গে রংপুরের মানুষও সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।

 

এদিকে, রংপুর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক গোলাম রব্বানী জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা এদেশের সবচাইতে বেশি মজলুম দল। আওয়ামী লীগ আমলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করে সবচাইতে বেশি জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমরা। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতির ইতিহাস আমাদের নাই। মানুষ মজলুমদের পাশে থাকে। সবার শাসন এদেশের মানুষ দেখেছে। সবাই এবার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে উৎসুক হয়ে আছে। আমরা নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ক্ষেত্রে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা হবে।

 

 

রংপুর-১ (গংগাচড়া উপজেলা- সিটি কর্পোরেশনের ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭ ও ৮ ওয়ার্ড) ॥ রংপুর -১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী গংগাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, গংগাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সদস্য মোকারম হোসেন সুজন, জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, উপজেলা বিএনপির সক্রিয় সদস্য ও সফল উদ্যোক্তা কেএম রিদওয়ানুল বারী জীয়ন।

 

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন রংপুর মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক রায়হান সিরাজী। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী হয়েছেন এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু। এনসিপির তৎপরতা থাকলেও এখনও তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। কৌশলগত কারণে জাপার সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটের মাঠে এখনও অনুপস্থিত। তবে শেষ পর্যন্ত জাপা নির্বাচনে এলে এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

রংপুর ২ (তারাগঞ্জ- বদরগঞ্জ) ॥ রংপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির বদরগঞ্জ উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক এ্যাডঃ মোঃ গোলাম রছুল বকুল। এছাড়াও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, অধ্যাপক আজিজুল হক ও বিএনপির মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নারীনেত্রী সাহেদা হাসান ।

 

 

এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন সদ্য কারামুক্ত জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। কারামুক্ত হয়ে জামায়াতের এই প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতা এলাকায় জনসভা করে ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচিত হলে হারাম একটি পয়সাও পেটে ঢুকাব না। জনগণের কল্যাণে সরকারি সব বরাদ্দ ব্যয় করা হবে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থীর নাম ঘোষণা দিয়েছে মওলানা মো. আশরাফ আলীর।

 

এলাকার ভোটারদের মতে, এবার এই আসনে মূলত বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি নির্বাচন করতে পারলে তখন ত্রিমুখী লড়াই হতে পারে।

রংপুর-৩ (সাবেক সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকা) ॥ রংপুর-৩ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আনিসুর রহমান লাকু, মহানগর বিএনপির আহবায়ক শামসুজ্জামান শামু ও রিটা রহমান। রিটা রহমান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

 

 

এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। তিনি জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের টিম সদস্য। অন্যদিকে নতুন দল হওয়ায় এনসিপির এই আসনে প্রার্থী কে হবে তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী আমিরুজ্জামান পিয়াল।

 

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে গণসংযোগ এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত থেকে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। এই আসনেও মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।

 

রংপুর ৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) ॥ রংপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী কাউনিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এমদাদ উদ্দিন ভরসা ও রংপুর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মো. আফছার আলী। এই আসনে এমদাদ উদ্দিন ভরসার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনেকটাই নিশ্চিত। তিনি প্রতিনিয়ত গ্রামে গঞ্জে গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন।

 

নতুনদের দল এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের লড়াকু যোদ্ধা আখতার হোসেন এই আসন থেকে প্রার্থী হয়েছেন। প্রতিদিন গ্রামগঞ্জে গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টায় ব্যস্ত তরুণ ছাত্রনেতা আখতার হোসেন।

 

এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন রংপুর মহানগর আমীর এটিএম আজম খান। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী জাহিদ হোসেন। সচেতন মহল মনে করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে।

 

রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) ॥ রংপুর-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে আছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোতাহারুল ইসলাম নিক্সন (পাইকার), উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাজেদুর রহমান রানা। তিন প্রার্থীই সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করাসহ গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হয়েছেন রংপুর জেলা আমীর ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী। প্রতিদিন তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হওয়াসহ সামাজিক কর্মকা-ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী অধ্যাপক গোলজার হোসেন। তবে জনগণ মনে করছেন, জনপ্রিয়তার হিসাব-নিকাশে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।

রংপুর ৬ (পীরগঞ্জ) ॥ আলোচিত আসন রংপুর-৬। পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি। তবে এবারে এই আসনের চিত্র সম্পূর্ণই পাল্টে গেছে। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। তিনি প্রতিদিন গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসারীনের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি ও রংপুর জেলা জামায়াতের সুরা এবং কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা নুরুল আমিন।

 

 

তিনি প্রতিনিয়ত তার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন এই আসনে সমান সমান লড়াই হবে জামায়াত ও বিএনপির। তবে জাপা নির্বাচনে এলে চিত্র পাল্টেও যেতে পারে।