মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এবার ইরানের তুনব দ্বীপে টানা ৯০ মিনিটের সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জেরে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার ইরানের বৃহত্তর তুনব দ্বীপে দেড় ঘণ্টাব্যাপী হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড—সেন্টকম। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা কমাতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
সেন্টকম জানায়, হামলায় দ্বীপটির উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট আঘাত হানা হয়েছে। এতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে বলেও দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
অন্যদিকে, তেহরান পাল্টা দাবি করেছে— কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি এখনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে অন্তত দুটি জাহাজ থামানো হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, নতুন নৌ-অবরোধের আওতায় ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকবে।
এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে।

