ঢাকা , রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, মরে গেছে খামারের মুরগি, আমার সব শেষ মেহেন্দিগঞ্জে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে হাতুড়ির আঘাতে যুবক নিহত লংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে বন্যাদুর্গতদের মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এনসিপিকে পাবনায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা প্রবাস ফেরত হাবিব ক্যানসার থেকে বাঁচতে চান পাহাড়ি ঢল ও নদী ভাঙনে হবিগঞ্জে সাড়ে ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি বিএনপির প্রতিপক্ষ আ. লীগ, নিজেদের মধ্যে বিভেদ নয়: খায়রুল কবির খোকন বিশ্বকাপের মাঝেই মারা গেলেন বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তরুণ ফুটবলার সাইরেন বাজার আগেই ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, বহু হতাহত ভারতে আয়রন ডোমের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল

মেসিকে অনেক ভালোবাসি: আবেগাপ্লুত স্কালোনি

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৫৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর তাঁর প্রশংসায় মেতে উঠেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির মুখজুড়ে ছিল কেবলই মেসিবন্দনা। তিনি বলেন, ‘মেসি? আমি নির্বাক, একদম ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তাকে নিয়ে আমি যাই বলি না কেন, সেটাই কম মনে হবে। সে যা করছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে আমি ওর কাছে ছুটে যাই, ওকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খাই এবং বলি যে আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। মেসিকে নিয়ে নতুন করে আসলে কী বলার আছে! যেদিন সে খেলা ছেড়ে দেবে, আমরা সবাই তাকে খুব মিস করব।

স্কালোনি আরও যোগ করেন, ‘মেসি গত ২০ বছর ধরে এই একই কাজ করে আসছে, এটা ভাবাই যায় না। শুধু আর্জেন্টিনার মানুষই নয়, ফুটবল ভালোবাসেন এমন প্রতিটি মানুষ তাকে মাঠে দেখতে চান। আমাদের কেবল এই মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করে যেতে হবে। সে মাঠে যা তৈরি করে এবং সবার মাঝে যা ছড়িয়ে দেয়, তা সত্যিই অভাবনীয়।মেসি শোতে আলজেরিয়াকে ৩০ ব্যবধানে উড়িয়ে মিশন শুরু করলেও মাঠের লড়াই মোটেও সহজ ছিল না বলে জানান স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম আমাদের ভুগতে হবে। আলজেরিয়া এমন একটি দল যারা খুব ভালো ফুটবল খেলে এবং আমাদের সমস্যায় ফেলার মতো সামর্থ্য তাদের ছিল। ছেলেরা মাঠে দারুণ কাজ করেছে। আমরা ৩০ ব্যবধানে জিতলেও ম্যাচটি অনেক কঠিন ছিল। এই ফলাফল হয়তো পুরোপুরি প্রকাশ করে না যে মাঠের লড়াই কতটা তীব্র ছিল, যদিও জয়টা আমাদের প্রাপ্যই ছিল। মাঠে লাউতারো মার্টিনেজ এবং থিয়াগো আলমাদা অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করেছে, ওরাই সবচেয়ে বেশি ছুটেছে।

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের সেই স্মৃতি যে দলের মনে কিছুটা হলেও চাপ তৈরি করেছিল, তা স্বীকার করেছেন স্কালোনি, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন, বিশেষ করে এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে মানসিক strength ধরে রাখাটা খুব জরুরি ছিল। কাতারের সেই ধাক্কার কথা আমাদের মাথায় কাজ করছিল। এই জয় আমাদের আগামী ম্যাচগুলোর জন্য মনে শান্তি দেবে এবং ছেলেরা পরের ম্যাচগুলোতে নিশ্চিতভাবেই আরও ভালো ছন্দে খেলবে। প্রতিপক্ষ যখন ভালো খেলে, তখন আমাদের রক্ষণাত্মক হতে হয়। ফুটবলটা দ্বিপাক্ষিক লড়াই, আপনি সবসময় বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দাপট দেখাতে পারবেন না। তবে দল যখন কঠিন পরিস্থিতিতে একজোট হয়ে লড়াই করে, সেটাই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অতীত ইতিহাস বা পরিসংখ্যান নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি হাসিমুখে বলেন, এগুলো স্রেফ পরিসংখ্যান। আশা করি এবার এই পরিসংখ্যান বা ধারাটি ভেঙে যাবে। আমরা ভালো অবস্থানে আছি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। দলের বর্তমান আবহ নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘দলের সবাই খুব খুশি। আজ আমরা কিছু নতুন খেলোয়াড়কে মাঠে নামার সুযোগ দিতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য পরের ম্যাচটি জিতে নকআউট নিশ্চিত করা, যাতে স্কোয়াডের সবাইকে খেলার সুযোগ দেওয়া যায়। দলের প্রত্যেকেই এই বিশ্বমঞ্চে অবদান রাখতে মুখিয়ে আছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ডুবে গেছে ঘরবাড়ি, মরে গেছে খামারের মুরগি, আমার সব শেষ

মেসিকে অনেক ভালোবাসি: আবেগাপ্লুত স্কালোনি

আপডেট সময় ০৯:৫৩:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

চলতি বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের পর তাঁর প্রশংসায় মেতে উঠেছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনির মুখজুড়ে ছিল কেবলই মেসিবন্দনা। তিনি বলেন, ‘মেসি? আমি নির্বাক, একদম ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তাকে নিয়ে আমি যাই বলি না কেন, সেটাই কম মনে হবে। সে যা করছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে আমি ওর কাছে ছুটে যাই, ওকে জড়িয়ে ধরে একটা চুমু খাই এবং বলি যে আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। মেসিকে নিয়ে নতুন করে আসলে কী বলার আছে! যেদিন সে খেলা ছেড়ে দেবে, আমরা সবাই তাকে খুব মিস করব।

স্কালোনি আরও যোগ করেন, ‘মেসি গত ২০ বছর ধরে এই একই কাজ করে আসছে, এটা ভাবাই যায় না। শুধু আর্জেন্টিনার মানুষই নয়, ফুটবল ভালোবাসেন এমন প্রতিটি মানুষ তাকে মাঠে দেখতে চান। আমাদের কেবল এই মুহূর্তগুলোকে উপভোগ করে যেতে হবে। সে মাঠে যা তৈরি করে এবং সবার মাঝে যা ছড়িয়ে দেয়, তা সত্যিই অভাবনীয়।মেসি শোতে আলজেরিয়াকে ৩০ ব্যবধানে উড়িয়ে মিশন শুরু করলেও মাঠের লড়াই মোটেও সহজ ছিল না বলে জানান স্কালোনি। তিনি বলেন, ‘আমরা জানতাম আমাদের ভুগতে হবে। আলজেরিয়া এমন একটি দল যারা খুব ভালো ফুটবল খেলে এবং আমাদের সমস্যায় ফেলার মতো সামর্থ্য তাদের ছিল। ছেলেরা মাঠে দারুণ কাজ করেছে। আমরা ৩০ ব্যবধানে জিতলেও ম্যাচটি অনেক কঠিন ছিল। এই ফলাফল হয়তো পুরোপুরি প্রকাশ করে না যে মাঠের লড়াই কতটা তীব্র ছিল, যদিও জয়টা আমাদের প্রাপ্যই ছিল। মাঠে লাউতারো মার্টিনেজ এবং থিয়াগো আলমাদা অবিশ্বাস্য পরিশ্রম করেছে, ওরাই সবচেয়ে বেশি ছুটেছে।

কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে হারের সেই স্মৃতি যে দলের মনে কিছুটা হলেও চাপ তৈরি করেছিল, তা স্বীকার করেছেন স্কালোনি, ‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ সবসময়ই কঠিন, বিশেষ করে এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এই ম্যাচে মানসিক strength ধরে রাখাটা খুব জরুরি ছিল। কাতারের সেই ধাক্কার কথা আমাদের মাথায় কাজ করছিল। এই জয় আমাদের আগামী ম্যাচগুলোর জন্য মনে শান্তি দেবে এবং ছেলেরা পরের ম্যাচগুলোতে নিশ্চিতভাবেই আরও ভালো ছন্দে খেলবে। প্রতিপক্ষ যখন ভালো খেলে, তখন আমাদের রক্ষণাত্মক হতে হয়। ফুটবলটা দ্বিপাক্ষিক লড়াই, আপনি সবসময় বল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দাপট দেখাতে পারবেন না। তবে দল যখন কঠিন পরিস্থিতিতে একজোট হয়ে লড়াই করে, সেটাই সবচেয়ে ইতিবাচক দিক।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের অতীত ইতিহাস বা পরিসংখ্যান নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্কালোনি হাসিমুখে বলেন, এগুলো স্রেফ পরিসংখ্যান। আশা করি এবার এই পরিসংখ্যান বা ধারাটি ভেঙে যাবে। আমরা ভালো অবস্থানে আছি এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাব। দলের বর্তমান আবহ নিয়ে স্কালোনি বলেন, ‘দলের সবাই খুব খুশি। আজ আমরা কিছু নতুন খেলোয়াড়কে মাঠে নামার সুযোগ দিতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য পরের ম্যাচটি জিতে নকআউট নিশ্চিত করা, যাতে স্কোয়াডের সবাইকে খেলার সুযোগ দেওয়া যায়। দলের প্রত্যেকেই এই বিশ্বমঞ্চে অবদান রাখতে মুখিয়ে আছে।