ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনা দেশে ঢোকার ১৩তম দিনে খুন হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ৬২৫ বার পড়া হয়েছে

এবার গণতান্ত্রিক ও ইসলামী বিশ্বের স্বীকৃতি অর্জন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত গড়ে তোলা, মুজিব শাসনামলে (১৯৭২-১৯৭৫) গুম–খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিভিষিকা থেকে মুক্তি, দিল্লিকে উপেক্ষা করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির কারণে আধিপত্যবাদীরা জিয়াউর রহমানকে কখনো মেনে নিতে পারেনি। ফলে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন তিনি। তাদের ষড়যন্ত্র নীরবে এগোচ্ছিল—তারা অপেক্ষা করছিল শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যার্পনের জন্য।

অবশেষে ১৭ মে ১৯৮১ দিল্লি শেখ হাসিনাকে ঢাকায় পাঠায়। মাত্র ১২ দিন পরই, ৩০ মে ১৯৮১ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাকশাল উচ্ছেদের সময় শেখ হাসিনা, তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া এবং বোন শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। সেখান থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আশ্রয়ে তারা নয়াদিল্লিতে ছয় বছর অবস্থান করেন।

এদিকে মুজিব আমলে পৃথিবীর অধিকাংশ প্রভাবশালী দেশের স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছিল—বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র নাকি ভারতের অধীন কোনো অঞ্চল? ঢাকা কি দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়? তা নিয়েও ধোঁয়াশা ছিল।

জহির রায়হানের গুম হওয়ার মাধ্যমে ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ দেশে গুমের সংস্কৃতি চালু হয়। আর ২ জানুয়ারী ১৯৭৫ সিরাজ সিকদারকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে হত্যা ইতিহাস বিচার বর্হিভূত হত্যার কলঙ্ক জনক অধ্যায় রচিত হয়। হাজার হাজার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা, আওয়ামী লুটপাটের কারণে সৃষ্ট ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ কৃত্রিম দুর্ভিক্ষে রাস্তায় লাশের স্তুপ, কাক আর কুকুরের সাথে মানুষের খাবারের টানাটানির চিত্র, বাসন্তির জাল পরার চিত্র আর এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বাকশাল পতনের পর খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও ইসলামী বিশ্বের স্বীকৃতি অর্জনে ভূমিকা রাখে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়ে বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মর্যাদা লাভ করে। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেন। মুজিব আমলে সীমাহীন লুটপাট, ভারতের লুণ্ঠন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে পরিচিত হয়।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনা দেশে ঢোকার ১৩তম দিনে খুন হয় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান

আপডেট সময় ০৪:১৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

এবার গণতান্ত্রিক ও ইসলামী বিশ্বের স্বীকৃতি অর্জন, দেশের অর্থনৈতিক ভিত গড়ে তোলা, মুজিব শাসনামলে (১৯৭২-১৯৭৫) গুম–খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিভিষিকা থেকে মুক্তি, দিল্লিকে উপেক্ষা করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির কারণে আধিপত্যবাদীরা জিয়াউর রহমানকে কখনো মেনে নিতে পারেনি। ফলে তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন তিনি। তাদের ষড়যন্ত্র নীরবে এগোচ্ছিল—তারা অপেক্ষা করছিল শেখ হাসিনার বাংলাদেশে প্রত্যার্পনের জন্য।

অবশেষে ১৭ মে ১৯৮১ দিল্লি শেখ হাসিনাকে ঢাকায় পাঠায়। মাত্র ১২ দিন পরই, ৩০ মে ১৯৮১ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাকশাল উচ্ছেদের সময় শেখ হাসিনা, তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া এবং বোন শেখ রেহানা পশ্চিম জার্মানিতে ছিলেন। সেখান থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আশ্রয়ে তারা নয়াদিল্লিতে ছয় বছর অবস্থান করেন।

এদিকে মুজিব আমলে পৃথিবীর অধিকাংশ প্রভাবশালী দেশের স্বীকৃতি পায়নি বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছিল—বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র নাকি ভারতের অধীন কোনো অঞ্চল? ঢাকা কি দিল্লি থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়? তা নিয়েও ধোঁয়াশা ছিল।

জহির রায়হানের গুম হওয়ার মাধ্যমে ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ দেশে গুমের সংস্কৃতি চালু হয়। আর ২ জানুয়ারী ১৯৭৫ সিরাজ সিকদারকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে হত্যা ইতিহাস বিচার বর্হিভূত হত্যার কলঙ্ক জনক অধ্যায় রচিত হয়। হাজার হাজার বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যা, আওয়ামী লুটপাটের কারণে সৃষ্ট ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ কৃত্রিম দুর্ভিক্ষে রাস্তায় লাশের স্তুপ, কাক আর কুকুরের সাথে মানুষের খাবারের টানাটানির চিত্র, বাসন্তির জাল পরার চিত্র আর এক দলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

১৫ আগস্ট ১৯৭৫ বাকশাল পতনের পর খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও ইসলামী বিশ্বের স্বীকৃতি অর্জনে ভূমিকা রাখে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়ে বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের মর্যাদা লাভ করে। অর্থনীতির ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমান নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করেন। মুজিব আমলে সীমাহীন লুটপাট, ভারতের লুণ্ঠন ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে বাংলাদেশ ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে পরিচিত হয়।