হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দিল্লির উদ্বেগকে অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ কোনোভাবেই সন্ত্রাসবাদ বা বিচ্ছিন্নতাবাদে বিশ্বাস করে না এবং কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আশ্রয় দেওয়া হবে না। তবে একজন রাজনৈতিক নেতা ব্যক্তিগতভাবে বক্তব্য দিতেই পারেন, কিন্তু কোনো সরকারই এ ধরনের বক্তব্যকে সমর্থন করবে না।
বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা আগে ভারতে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিতেন, এখন তিনি সংবাদমাধ্যমেও বক্তব্য দিচ্ছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট উসকানি রয়েছে। আদালতের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে পাশের দেশে বসে তিনি যদি অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেন, সেটার বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই আপত্তি জানাব।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমরা শেখ হাসিনাকে ফেরত চাইছি, কিন্তু ভারত তাকে ফেরত পাঠাচ্ছে না, তার বক্তব্যও বন্ধ করছে না। উল্টো তারা আমাদের কিছু নসিহত করছে।”
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নির্বাচন কেমন হবে, সেটা নিয়ে আমরা প্রতিবেশীদের উপদেশ চাই না। এই সরকার একটি অত্যন্ত ভালো ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যা গত ১৫ বছর ছিল না। অথচ ওই সময় ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি শোনা যায়নি। এখন আমরা যখন একটি ভালো নির্বাচনের দিকে যাচ্ছি, তখন নসিহত করা হচ্ছে—এটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।”
ভারতের ‘সেভেন সিস্টারস’ নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ কখনোই এমন কোনো অবস্থান নেবে না, যা প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে যায়।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “ভারত সব সময় মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ভূমিকাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

ডেস্ক রিপোর্ট 



















