রাত পোহালেই রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশ। দলটির দীর্ঘ প্রস্তুতির শেষে বর্তমানে সমাবেশস্থল প্রস্তুত জনসমুদ্রের জন্য। মঞ্চ থেকে শুরু করে টয়লেট, জায়ান্ট স্ক্রিন থেকে পানির কল—সবকিছুই সাজানো হয়েছে গোছানোভাবে।
শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সমাবেশস্থলে ছিলো ব্যাপক কর্মব্যস্ততা। ঢাকা ও বাইরের জেলা থেকে এরই মধ্যে ঢল নামতে শুরু করেছে জামায়াতের নেতাকর্মীদের। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দেখা গেছে মিছিলবদ্ধভাবে স্লোগান দিতে দিতে সোহরাওয়ার্দীর দিকে ছুটছেন তারা।
মাঠজুড়ে টানানো হয়েছে শত শত ব্যানার ও ফেস্টুন। বসানো হয়েছে সারি সারি চেয়ার। ভ্যাপসা গরমের মধ্যেও স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করেছেন মাঠ প্রস্তুত রাখতে—বালু ছিটানো, পানি নিষ্কাশন, ব্লিচিং পাউডার দেওয়া, জায়ান্ট স্ক্রিনে সংযোগ স্থাপন, নিরাপত্তা চৌকি বসানোসহ নানা খুঁটিনাটি কাজ করেছেন কয়েক হাজার কর্মী।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আবহাওয়ার বৈরিতার মধ্যেও আমরা প্রস্তুতির শেষ বিন্দু পর্যন্ত সচেষ্ট থেকেছি। আলহামদুলিল্লাহ, প্রায় এক মাস ধরে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা মাঠ প্রস্তুত করেছি।”
দলটির দাবি, সমাবেশে উপস্থিত হবেন অন্তত ১০ লক্ষাধিক মানুষ। সেই অনুযায়ী উদ্যানজুড়ে বসানো হয়েছে ৫০০টির বেশি অস্থায়ী টয়লেট, ১০০০ পানির কল এবং ৫০টিরও বেশি পয়েন্টে এলইডি স্ক্রিন। রাজধানীর ভেতরে ও বাইরে ৪০০টির বেশি মাইক স্থাপন করা হয়েছে। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছে দলটি।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য ৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে আটটি বিভাগের অধীনে কাজে লাগানো হয়েছে। উদ্যানের বাইরে ও ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে মনিটরিং সেল। আগতদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন জেলায় নির্ধারিত করা হয়েছে বাস ড্রপিং পয়েন্ট।
দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “যানজট বা সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা ঢাকাবাসীর কাছে আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছি। সবাই যেন নিরাপদে অংশ নিতে পারেন, আমরা সে ব্যবস্থাই করেছি।”
সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, “সাংবাদিকরাই এই আয়োজনের খবর দেশ-বিদেশে পৌঁছে দিচ্ছেন। আমরা কৃতজ্ঞ। এ আয়োজনে আপনারাও আমাদের অংশীদার।”
জাতীয় সমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি এ সমাবেশে “ঐক্যের ডাক” দেবেন এবং “কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য” গড়ে তোলার আহ্বান জানাবেন বলে জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























