গত সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলার পর কাতার আরব ও ইসলামিক নেতাদের নিয়ে একটি জরুরি সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রত্যাশা করা হয়েছিল, সম্মেলন থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তেল ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়নি।

সম্মেলনে উপস্থিত আরব মুসলিম নেতারা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রায় সব মুসলিম দেশের নেতা ও প্রতিনিধি যোগ দেন। ফিলিস্তিনিদের পক্ষে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার প্রত্যাশা ছিল, তবে যৌথ বিবৃতিতে শুধু বলা হয়েছে, “ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল যেন আর আগ্রাসন না চালাতে পারে, সেই জন্য প্রয়োজনীয় সব আইনি এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে, ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনকারী সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মরকো কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ বা বক্তব্য দেননি। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু কোনো বক্তব্য দেননি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

সম্মেলন শেষে প্রকাশিত এই যৌথ বিবৃতিকে অনেক পর্যবেক্ষক “লোক দেখানো ঐক্য” হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের বর্বরতা চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আরব নেতাদের ঐক্যের গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।