কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসভ্যতার নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুললেও, এর সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রের সমন্বয় মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই এবার বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান জানালেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
ভ্যাটিকানে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘গ্লোবাল নোবেল লরিয়েটস অ্যাসেম্বলি’ সম্মেলনে অংশ নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পারমাণবিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান ড. ইউনূস। সম্মেলনের শেষ দিনে ‘হিউম্যানিটি অ্যাট দ্য থ্রেশহোল্ড’ শীর্ষক একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন তিনি।
বিশ্বের বিভিন্ন নোবেলজয়ীর স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্রে সতর্ক করে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও পারমাণবিক অস্ত্রের সমন্বয় মানবজাতির ভবিষ্যতের জন্য নজিরবিহীন হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থায় এআইয়ের ব্যবহার, সাইবার হামলার ঝুঁকি এবং তথ্যযুদ্ধ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
ঘোষণাপত্রে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা ঠেকানো, দায়িত্বশীল এআই উন্নয়ন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, জাতিসংঘের অধীনে বৈশ্বিক তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, তরুণ নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করা এবং যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মতো ছয়টি মূল নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই সময়ে মানবিক মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব না দিলে ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় সংকট হয়ে উঠতে পারে এআই ও পারমাণবিক অস্ত্রের সমন্বয়। সেই বার্তাই বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে ভ্যাটিকানের এই বৈশ্বিক সম্মেলন।

ডেস্ক রিপোর্ট 

























