ঢাকা , সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন’ স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখতে চায় গাজাবাসী ‘জুলাইয়ের চেতনা’ দিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপল পেরু, বহু হতাহত মার্কিন ‘লুকাস’ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান ‘জুলাই আন্দোলন ছিল দেশের যুবসমাজ ও সর্বস্তরের জনগণের সম্মিলিত সংগ্রাম’ জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধ্বংসাবশেষ পড়ল ইসরায়েলে জামায়াতের উত্থান বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি: নুর বিতর্ক এড়াতে আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালে সাত দেশের রেফারি আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালের আগে জানা গেল আবহাওয়া পরিস্থিতি, ম্যাচ কি পেছাবে?

‘পিচ্চিদের কাঁদাতে ভালোই লাগে’ লিখে নির্যাতনের ভিডিও পোস্ট শিক্ষকের

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৪:০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

এবার মাদরাসায় পড়তে আসা একটি শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করছিলেন এক শিক্ষক। আর সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিজেই পোস্ট করেন তিনি। আর ভিডিও পোস্টটিতে পাশবিক মন্তব্য করে একটি শিরোনামও দেন ইমরান হোসেন নামের ওই মাদরাসা শিক্ষক। সেখানে তিনি লিখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগেঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের একটি মাদরাসার। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন মাদরাসাটির সাবেক সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়।

সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। ভিডিওটি তিনি নিজেই পোস্ট করেছেন বলে জানান ওই শিক্ষক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদরাসাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককেও দুই মাসে আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ভিডিওটি তিনি চাকরিতে থাকার সময় ধারণ করেছিলেন বলে তাদের ধারণা। ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশু শিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। গত ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গত শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।

মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে প্রায় দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারানোর পর তিনি পূর্বে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। মঞ্জুর আহমেদ জানান, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন এবং মাদরাসাটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসংগতি লক্ষ করা যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়।

এদিকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনার পর গতকাল এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রায়পুরে অবস্থান করছেন না। মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনাকে সমর্থন দিয়ে ট্রাম্প বললেন, ‘মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন’

‘পিচ্চিদের কাঁদাতে ভালোই লাগে’ লিখে নির্যাতনের ভিডিও পোস্ট শিক্ষকের

আপডেট সময় ০৪:০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

এবার মাদরাসায় পড়তে আসা একটি শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করছিলেন এক শিক্ষক। আর সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিজেই পোস্ট করেন তিনি। আর ভিডিও পোস্টটিতে পাশবিক মন্তব্য করে একটি শিরোনামও দেন ইমরান হোসেন নামের ওই মাদরাসা শিক্ষক। সেখানে তিনি লিখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগেঘটনাটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের একটি মাদরাসার। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন মাদরাসাটির সাবেক সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায়।

সমালোচনার মুখে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক গতকাল শনিবার (১৮ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা চান। ভিডিওটি তিনি নিজেই পোস্ট করেছেন বলে জানান ওই শিক্ষক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদরাসাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককেও দুই মাসে আগে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। ভিডিওটি তিনি চাকরিতে থাকার সময় ধারণ করেছিলেন বলে তাদের ধারণা। ভিডিওতে দেখা যায়, কান্নারত এক শিশু শিক্ষার্থীর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় শিশুটির কান্না আরও বেড়ে যায়। সে হাত দিয়ে বেতটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও শিক্ষক থামেননি। গত ১৬ জুলাই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষক ভিডিওটি মুছে দেওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টটি ডিলিট করে দেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গত শনিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভিডিও বার্তায় ইমরান হোসেন বলেন, ‘ভিডিওটি আমিই ধারণ করেছি এবং আমিই প্রকাশ করেছি। ছোট বাবুটি আমার কাছে পরীক্ষা দিতে এসেছিল। আমি তাকে কিছু প্রশ্ন করি। উত্তর দিতে না পেরে সে কান্না শুরু করে। আমি তার কান্না থামানোর জন্য দুষ্টামি করে মুখে লাঠি ধরেছিলাম। আমি তাকে বেত্রাঘাত করিনি বা ধমকও দিইনি। বিষয়টি এভাবে দেখা হবে, আমি ভাবিনি। আমার ভুল হয়েছে। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।

মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে প্রায় দুই মাস আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারানোর পর তিনি পূর্বে ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। মঞ্জুর আহমেদ জানান, ইমরান একজন টিকটকার ছিলেন এবং মাদরাসাটিতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শুরু থেকেই তার আচরণে নানা অসংগতি লক্ষ করা যায়। শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, অকারণে শাস্তি প্রদান এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া শিক্ষার্থীদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগে তাকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়।

এদিকে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনার পর গতকাল এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রায় দুই মাস আগে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রায়পুরে অবস্থান করছেন না। মাদ্রাসাটিও বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের সদস্যদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।