ঢাকা , রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই বিএনপি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে: অলি আহমদ আইনের মারপ্যাঁচে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিলে গণবিস্ফোরণ হবে: মঞ্চ ২৪ দাবি না মানলে ৮ দফা এক দফায় পরিণত হবে: জামায়াতের আমির কমলাপুর রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানাজা কাল সকাল ১০টায় সারাদেশে এখন জনমনে আতঙ্ক, মানুষের নিরাপত্তা নেই: নাহিদ ইসলাম মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়ালে পাকিস্তানে মহাবিপর্যয় নেমে আসবে: রাজা নাসির আব্বাস ভারতীয় পণ্যে ১০০ শতাংশ মার্কিন শুল্কারোপের শঙ্কা, ঘুম হারাম রপ্তানিকারকদের এবার রাজধানীর বাড্ডায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন

পাচার হওয়ার অর্থ দরিদ্রদের কল্যাণে তহবিল করবে সরকার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১১:১৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫
  • ৭৮৯ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতের ভাঙনের পেছনে অন্যতম বড় নাম হয়ে উঠেছে এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ উঠেছে, এই একটি গ্রুপই ছয়টি ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণের নামে লুট করেছে কয়েক লাখ কোটি টাকা। শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই আত্মসাৎ করা হয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার কোটি টাকার উৎস শনাক্ত হয়েছে।

এই আর্থিক লুটপাটে এস আলম গ্রুপের পাশাপাশি নাম উঠে এসেছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ীরও। সালমান এফ রহমান ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের মতো প্রভাবশালীরা দেশ-বিদেশে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য। এসব অর্থের উৎস নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, এবং এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের নামে থাকা শেয়ার ও বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এ সকল সম্পদ থেকে গঠিত হবে একটি বিশেষ তহবিল, যা দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। একইসাথে, ব্যাংকগুলো থেকে লুট হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফেরত দেওয়া হবে যাতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে এ পর্যন্ত জব্দ করা সম্পদের মূল্য এক লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর বাইরে বিদেশে পাচার করা হয়েছে আরও দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ। বৈদেশিক বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্পদের মধ্যে ১৬৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ অ্যাটাচমেন্ট হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ অর্থ উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান। একইসাথে, তিনি অভিযোগ করেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ বৈধ সীমার বাইরে গিয়ে ৬৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ই-মানি তৈরি করেছে, যা ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী গুরুতর অনিয়ম এবং কার্যত অর্থনীতিতে জালিয়াতির শামিল। তার ভাষায়, ‘এক টাকা ব্যাংকে রেখে এক টাকার ই-মানি তৈরি করার নিয়ম থাকলেও তারা তার চেয়ে অতিরিক্ত ই-মানি সৃষ্টি করেছে।’

তবে আশার কথা, পাচার করা অর্থ ফেরত পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের কয়েকটি দেশ। গভর্নর জানান, আইনি কাঠামো তৈরি করে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এসব অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থিক খাত ঘুরে দাঁড়াবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে আগুন, ৪৫টি ঘর পুড়ে ছাই

পাচার হওয়ার অর্থ দরিদ্রদের কল্যাণে তহবিল করবে সরকার

আপডেট সময় ১১:১৪:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মে ২০২৫

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতের ভাঙনের পেছনে অন্যতম বড় নাম হয়ে উঠেছে এস আলম গ্রুপ। অভিযোগ উঠেছে, এই একটি গ্রুপই ছয়টি ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণের নামে লুট করেছে কয়েক লাখ কোটি টাকা। শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই আত্মসাৎ করা হয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি অর্থ, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৭০ হাজার কোটি টাকার উৎস শনাক্ত হয়েছে।

এই আর্থিক লুটপাটে এস আলম গ্রুপের পাশাপাশি নাম উঠে এসেছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ীরও। সালমান এফ রহমান ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের মতো প্রভাবশালীরা দেশ-বিদেশে গড়ে তুলেছেন অবৈধ সম্পদের সাম্রাজ্য। এসব অর্থের উৎস নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার, এবং এখন পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের নামে থাকা শেয়ার ও বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, এ সকল সম্পদ থেকে গঠিত হবে একটি বিশেষ তহবিল, যা দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। একইসাথে, ব্যাংকগুলো থেকে লুট হওয়া অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ফেরত দেওয়া হবে যাতে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা যায়।

জানা গেছে, দেশের অভ্যন্তরে এ পর্যন্ত জব্দ করা সম্পদের মূল্য এক লাখ ত্রিশ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এর বাইরে বিদেশে পাচার করা হয়েছে আরও দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদ। বৈদেশিক বিভিন্ন স্থানে থাকা সম্পদের মধ্যে ১৬৪ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ অ্যাটাচমেন্ট হয়েছে। এ ছাড়া দেশের ভেতরে ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, এ অর্থ উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান। একইসাথে, তিনি অভিযোগ করেন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ বৈধ সীমার বাইরে গিয়ে ৬৫০ কোটি টাকার অতিরিক্ত ই-মানি তৈরি করেছে, যা ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী গুরুতর অনিয়ম এবং কার্যত অর্থনীতিতে জালিয়াতির শামিল। তার ভাষায়, ‘এক টাকা ব্যাংকে রেখে এক টাকার ই-মানি তৈরি করার নিয়ম থাকলেও তারা তার চেয়ে অতিরিক্ত ই-মানি সৃষ্টি করেছে।’

তবে আশার কথা, পাচার করা অর্থ ফেরত পাঠাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের কয়েকটি দেশ। গভর্নর জানান, আইনি কাঠামো তৈরি করে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এসব অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থিক খাত ঘুরে দাঁড়াবে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে।