ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক বোমা তৈরির অভিযোগ তুলে দেশটিতে হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। অভিযোগে সমর্থন দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও, যিনি সম্প্রতি দাবি করেছেন—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একেবারে কাছাকাছি অবস্থানে পৌঁছে গেছে। তবে ট্রাম্পের গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড এর আগে জানিয়েছেন, ইরান পারমাণবিক বোমা বানাচ্ছে এমন কোনো গোয়েন্দা প্রমাণ নেই। এবার একই সুরে কথা বলেছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।
আইএইএ মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, “ইরান হয়তো পর্যাপ্ত পরিমাণে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করে রেখেছে, তবে সেটিকে কার্যকর পারমাণবিক অস্ত্রে রূপান্তর করতে এখনো অনেক প্রযুক্তিগত ধাপ এবং বিস্তৃত পরীক্ষা প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “ইরানের অতীতে কিছু কার্যকলাপ পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল ঠিকই, কিন্তু বর্তমানে তেমন কোনো উপাদান বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।”
তেহরান বরাবরই দাবি করে এসেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং এটি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনকে কেন্দ্র করে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “আইএইএ যদি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরাইলি হামলার নিন্দা না করে, তাহলে আমরা সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করব।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, গোয়েন্দা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণে যখন ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ মেলেনি, তখন সামরিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: আইএইএ, জাতিসংঘ, রয়টার্স, আল জাজিরা।

