ঢাকা , রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত মধ্যরাতে তাসনিম জারার বিস্ফোরক স্ট্যাটাস দ্বিতীয়বার বিয়ের ৪ মাস না যেতে আবারও বিচ্ছেদ, যা বললেন স্ত্রী সাবিকুন্নাহার অস্ত্র কিংবা ছুরি নয়, রক্তভর্তি সিরিঞ্জ নিয়ে ছিনতাই গাজীপুরে পাঁচ খুন: ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ভয় ধরাচ্ছে নতুন হান্টাভাইরাস, যা বলছে ডব্লিউএইচও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে নামবে এনসিপি’ দেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তোলাই বিএনপির নতুন চ্যালেঞ্জ: মির্জা ফখরুল স্কুলশিক্ষার্থী নাহিদের সন্ধান চায় পরিবার পরকীয়ার জেরে যুবককে হত্যা করে পুঁতে রাখলো মাটিতে, দম্পতি আটক

বাস্তবে দেশ সবার না, যার ক্ষমতা আছে তার: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ১২:৪৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
  • ৬০৩ বার পড়া হয়েছে

এবার স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারকে অপসারণের পরেও দেশে এখনো মুক্তভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সংকোচ অনুভব হয় বলে দাবি করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বৈরাচারকে সরালাম, কিন্তু বলার জায়গায় এখনো সংকোচ অনুভব করি’। শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেটে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড কার্যালয়ে ‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বলা হয়- দল যার যার, দেশ সবার। কিন্তু বাস্তবে দেশ সবার না, যার ক্ষমতা আছে দেশটা তার’। সরকারি সহায়তা থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনো বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে থাকার কথা বললেও তাদের বাজেটে দেখা গেছে, শহুরে মধ্যবিত্তদের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ খুবই কম’।

সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘সরকার বা মালিকপক্ষের বাইরেও এখন ‘নৈতিক খবরদারি’ করতে চাওয়া একটি আগ্রাসী পাঠকগোষ্ঠী তৃতীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এরা এতটাই উগ্র যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো কথাও বলছে’। তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকরা দুর্বল হলে নাগরিক সমাজ দুর্বল হবে, ফলস্বরূপ রাজনীতি দুর্বল হবে, আর তার প্রভাবে উৎপাদনশীল অর্থনীতিও দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে করে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে’।

অনুষ্ঠানে সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র ও টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও, সেগুলোর প্রতি সরকারের তেমন আগ্রহ নেই’। দেশের আমলা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে সংস্কারবিরোধী একটি জোট গড়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে চান, ওইসব রাজনৈতিক দলের উচিত অর্থনীতি বিষয়ে তাদের চিন্তাভাবনা জনসমক্ষে তুলে ধরা’।

বইটি প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমীন নীলরমি বলেন, ‘বইটিতে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের নাম এলেও হুকুমদাতাদের নাম আসেনি’। ‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’ বইয়ের লেখক শওকত হোসেন মাসুম তার বক্তব্যে গত কয়েক দশকে ব্যাংক, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন খাতে কীভাবে লুটপাট হয়েছে, তার উদাহরণ তুলে ধরেন। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড ‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’ বইটি প্রকাশ করেছে। বইটিতে রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে খেলাপি ঋণ, অবৈধ অর্থের প্রবাহ এবং ব্যাংক-শেয়ারবাজার লুণ্ঠনের মাধ্যমে কীভাবে একটি লুটেরা ধনিকশ্রেণি গড়ে উঠেছে, তার বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি নিহত

বাস্তবে দেশ সবার না, যার ক্ষমতা আছে তার: ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

আপডেট সময় ১২:৪৪:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫

এবার স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার সরকারকে অপসারণের পরেও দেশে এখনো মুক্তভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে সংকোচ অনুভব হয় বলে দাবি করেছেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বৈরাচারকে সরালাম, কিন্তু বলার জায়গায় এখনো সংকোচ অনুভব করি’। শনিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ফার্মগেটে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড কার্যালয়ে ‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বলা হয়- দল যার যার, দেশ সবার। কিন্তু বাস্তবে দেশ সবার না, যার ক্ষমতা আছে দেশটা তার’। সরকারি সহায়তা থেকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এখনো বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তী সরকার বৈষম্যের বিরুদ্ধে থাকার কথা বললেও তাদের বাজেটে দেখা গেছে, শহুরে মধ্যবিত্তদের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বেশি ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দ খুবই কম’।

সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘সরকার বা মালিকপক্ষের বাইরেও এখন ‘নৈতিক খবরদারি’ করতে চাওয়া একটি আগ্রাসী পাঠকগোষ্ঠী তৃতীয় প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এরা এতটাই উগ্র যে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সাংবাদিকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো কথাও বলছে’। তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকরা দুর্বল হলে নাগরিক সমাজ দুর্বল হবে, ফলস্বরূপ রাজনীতি দুর্বল হবে, আর তার প্রভাবে উৎপাদনশীল অর্থনীতিও দুর্বল হয়ে পড়বে। এতে করে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে’।

অনুষ্ঠানে সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে অর্থনীতি নিয়ে শ্বেতপত্র ও টাস্কফোর্সের প্রতিবেদন তৈরি করা হলেও, সেগুলোর প্রতি সরকারের তেমন আগ্রহ নেই’। দেশের আমলা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে সংস্কারবিরোধী একটি জোট গড়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসতে চান, ওইসব রাজনৈতিক দলের উচিত অর্থনীতি বিষয়ে তাদের চিন্তাভাবনা জনসমক্ষে তুলে ধরা’।

বইটি প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমীন নীলরমি বলেন, ‘বইটিতে অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের নাম এলেও হুকুমদাতাদের নাম আসেনি’। ‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’ বইয়ের লেখক শওকত হোসেন মাসুম তার বক্তব্যে গত কয়েক দশকে ব্যাংক, শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন খাতে কীভাবে লুটপাট হয়েছে, তার উদাহরণ তুলে ধরেন। ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড ‘কেলেঙ্কারির অর্থনীতি’ বইটি প্রকাশ করেছে। বইটিতে রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে খেলাপি ঋণ, অবৈধ অর্থের প্রবাহ এবং ব্যাংক-শেয়ারবাজার লুণ্ঠনের মাধ্যমে কীভাবে একটি লুটেরা ধনিকশ্রেণি গড়ে উঠেছে, তার বিশ্লেষণ করা হয়েছে।