কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির বহুল আলোচিত নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুর রহমান স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে নিজ নির্বাচনি এলাকায় আসলেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার দুপুরে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ঢাকায় ফিরে গেছেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের আগে তিনি দলীয় পদ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন।
দীর্ঘ আট বছর কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে জেলার ১৩টি উপজেলার ইউনিটগুলো নিজ হাতে গড়ে তোলেন ফজলুর রহমান। ২০০৭ সালের রাজনৈতিক দুর্দিনে বিএনপিতে যোগদান করে তিনি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলের হয়ে কাজ করেছেন। পতিত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে দু’বার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রাষ্ট্রযন্ত্র ও প্রতিপক্ষের নানা নির্যাতনের শিকার হন। প্রতিপক্ষ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের রোষানলে পড়ে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন দেশান্তরি জীবনও কাটাতে হয় তাকে।
ছাত্র-জনতার জুলাই আন্দোলনের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার সুযোগ পান এবং তার জনসভাগুলোতে মানুষের ঢল নামে। এসব সভায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে জামায়াত-শিবির, রাজাকার ও এনসিপির তীব্র সমালোচনা করতেন। একপর্যায়ে তার বক্তব্য জুলাই আন্দোলনের শরিকদেরও সমালোচনার মুখে পড়ে এবং ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন শুরু হয় তার বিরুদ্ধে।
এমন প্রেক্ষাপটে ২৬ আগস্ট থেকে তার দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ‘কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বক্তব্য এবং কারণ দর্শানো নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তার মুক্তিযুদ্ধের অবদান বিবেচনায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থগিতাদেশের পরও তিনি তিনবার নিজ এলাকায় এসে সভা-সমাবেশ করলে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন এবং তার দলীয় পদ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। তবে শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে ঢাকার উদ্দেশে ফিরে যাওয়ার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

ডেস্ক রিপোর্ট 
























