ঢাকা , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
ক্রীড়াঙ্গনে নী’র’ব বি’প্ল’ব! ১০০ দিনেই যুক্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার খেলোয়াড় এবার খেলছেন না নেইমার আর্জেন্টিনার জার্সি পরে এলে ফি অর্ধেক নেওয়ার ঘোষণা দিলেন চিকিৎসক তিন দিনের সফরে ঢাকায় তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সরকার পতনের পর আ. লীগ নেতাদের সঙ্গে কয়েক ধাপে মিটিং হান্নান মাসউদের সিআইডি প্রধানের দায়িত্ব পাওয়ার তিন দিনের মাথায় অবসরের আবেদন কারাগারে গান-কবিতার আড্ডা, আইভীর কবিতায় সুর দেন মমতাজ আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত ৬, শোকের ছায়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘জনগণ ভাবছে সরকার ভোট নয়, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে নির্বাচিত’ যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের

শেষ বলে হাতছাড়া জয়, সুপার ওভারে ১ রানে হার — মিরপুরে নাটকীয় টাই ম্যাচে সিরিজ সমতায় বাংলাদেশ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

 

ইনিংসের শেষ বলে ক্যাচ! দৌড়ে গিয়ে গ্লাভস মেলালেন সোহান—জয়ের মুহূর্ত যেন চোখের সামনে। কিন্তু ধরতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশ জিতল না, ওয়েস্ট ইন্ডিজও নয়—ম্যাচ গড়াল বিরল এক টাইয়ে। পরে সুপার ওভারে সুযোগ হাতছাড়া করে ১ রানে হারল বাংলাদেশ। সিরিজও এখন ১-১ সমতায়।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এক অনন্য রেকর্ড গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ—পুরো ৫০ ওভারই বল করল স্পিনাররা। ওয়ানডে ইতিহাসে এই কৃতিত্ব প্রথমবারের মতো। পরিকল্পনা সফলও হয়েছে তাদের; বাংলাদেশকে ২১৩ রানে থামিয়ে দিয়েছে ক্যারিবীয়রা। জবাবে নিজেদের ইনিংসেও লড়াই করেছে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেই হোপের অপরাজিত ৫৩ রানে ম্যাচ টাই হয়।

টস জিতে আগে ব্যাট করে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৯৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল। সাইফ হাসান (৬), তাওহীদ হৃদয় (১২), নাজমুল শান্ত (১৫) ও মাহিদুল অঙ্কন (১৭) ফিরলে চাপ বাড়ে। কিছুটা ভরসা দেন সৌম্য সরকার—৮৯ বলে ৪৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

পরবর্তীতে মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেনের ব্যাটে ভর করে দুইশ ছাড়ায় বাংলাদেশ। রিশাদ ১৪ বলে ৩৯ রানের দারুণ ক্যামিও খেলেন—তিনটি করে চার ও ছক্কা। সোহান ২৪ বলে ২৩ এবং মিরাজ ৫৮ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন।

জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই বিপদে পড়ে—প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় দল। ১০৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে গেলে ম্যাচ বাংলাদেশ দিকেই হেলে যায়। এরপর শেই হোপ ও জাস্টিন গ্রেভসের ৪৪ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে অতিথিরা। গ্রেভস ২৬ রানে রানআউট হলে আবার ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

শেষ ওভারে ৩ রান দরকার ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বল হাতে ছিলেন সাইফ হাসান। এক উইকেট তুলে নেন, শেষ বলে ক্যাচও আসে খেরি পেরির ব্যাট থেকে—কিন্তু দৌড়ে যাওয়া সোহান তা তালুবন্দি করতে পারেননি। ফলে ম্যাচ টাই হয়।

সুপার ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১ রানের লক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ দারুণ এক ক্যাচ ধরলেও অন্যটি ফেলে দেয় দল। জবাবে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১ বলে ৫ রান পেলেও (ওয়াইড ও নো বল মিলিয়ে), জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি।

অধিনায়ক মিরাজ ছাড়া বাংলাদেশের চার স্পিনারই উইকেট পান—রিশাদ ৩টি, নাসুম ও তানভীর ২টি করে, সাইফ ১টি। মিরাজ ১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন। মুস্তাফিজ দেন ৪০ রান ৮ ওভারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে গুড়াকেশ মোতি নেন ৩ উইকেট, আকিল হোসেন ও আলিস আথানজে নেন ২টি করে।

মিরপুরে স্পিনের রাজত্বে নাটকীয় এক টাই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ—তবে সিরিজ এখনো বেঁচে আছে, সমতায় ১-১।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রীড়াঙ্গনে নী’র’ব বি’প্ল’ব! ১০০ দিনেই যুক্ত ১ লাখ ৬৮ হাজার খেলোয়াড়

শেষ বলে হাতছাড়া জয়, সুপার ওভারে ১ রানে হার — মিরপুরে নাটকীয় টাই ম্যাচে সিরিজ সমতায় বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৯:৪৫:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫

 

ইনিংসের শেষ বলে ক্যাচ! দৌড়ে গিয়ে গ্লাভস মেলালেন সোহান—জয়ের মুহূর্ত যেন চোখের সামনে। কিন্তু ধরতে পারেননি তিনি। বাংলাদেশ জিতল না, ওয়েস্ট ইন্ডিজও নয়—ম্যাচ গড়াল বিরল এক টাইয়ে। পরে সুপার ওভারে সুযোগ হাতছাড়া করে ১ রানে হারল বাংলাদেশ। সিরিজও এখন ১-১ সমতায়।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে এক অনন্য রেকর্ড গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ—পুরো ৫০ ওভারই বল করল স্পিনাররা। ওয়ানডে ইতিহাসে এই কৃতিত্ব প্রথমবারের মতো। পরিকল্পনা সফলও হয়েছে তাদের; বাংলাদেশকে ২১৩ রানে থামিয়ে দিয়েছে ক্যারিবীয়রা। জবাবে নিজেদের ইনিংসেও লড়াই করেছে বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ, কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেই হোপের অপরাজিত ৫৩ রানে ম্যাচ টাই হয়।

টস জিতে আগে ব্যাট করে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ৯৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দল। সাইফ হাসান (৬), তাওহীদ হৃদয় (১২), নাজমুল শান্ত (১৫) ও মাহিদুল অঙ্কন (১৭) ফিরলে চাপ বাড়ে। কিছুটা ভরসা দেন সৌম্য সরকার—৮৯ বলে ৪৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ইনিংসটি সাজান তিনি।

পরবর্তীতে মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান ও রিশাদ হোসেনের ব্যাটে ভর করে দুইশ ছাড়ায় বাংলাদেশ। রিশাদ ১৪ বলে ৩৯ রানের দারুণ ক্যামিও খেলেন—তিনটি করে চার ও ছক্কা। সোহান ২৪ বলে ২৩ এবং মিরাজ ৫৮ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন।

জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতেই বিপদে পড়ে—প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় দল। ১০৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে গেলে ম্যাচ বাংলাদেশ দিকেই হেলে যায়। এরপর শেই হোপ ও জাস্টিন গ্রেভসের ৪৪ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফেরে অতিথিরা। গ্রেভস ২৬ রানে রানআউট হলে আবার ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ।

শেষ ওভারে ৩ রান দরকার ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বল হাতে ছিলেন সাইফ হাসান। এক উইকেট তুলে নেন, শেষ বলে ক্যাচও আসে খেরি পেরির ব্যাট থেকে—কিন্তু দৌড়ে যাওয়া সোহান তা তালুবন্দি করতে পারেননি। ফলে ম্যাচ টাই হয়।

সুপার ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১১ রানের লক্ষ্য দেয়। বাংলাদেশের পক্ষে রিশাদ দারুণ এক ক্যাচ ধরলেও অন্যটি ফেলে দেয় দল। জবাবে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১ বলে ৫ রান পেলেও (ওয়াইড ও নো বল মিলিয়ে), জয় ছিনিয়ে আনতে পারেনি।

অধিনায়ক মিরাজ ছাড়া বাংলাদেশের চার স্পিনারই উইকেট পান—রিশাদ ৩টি, নাসুম ও তানভীর ২টি করে, সাইফ ১টি। মিরাজ ১০ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে উইকেটহীন ছিলেন। মুস্তাফিজ দেন ৪০ রান ৮ ওভারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে গুড়াকেশ মোতি নেন ৩ উইকেট, আকিল হোসেন ও আলিস আথানজে নেন ২টি করে।

মিরপুরে স্পিনের রাজত্বে নাটকীয় এক টাই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত হারের তেতো স্বাদ পেল বাংলাদেশ—তবে সিরিজ এখনো বেঁচে আছে, সমতায় ১-১।