ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে ইউরোপের আরও ৪ দেশ, জানালেন মাখোঁ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩৮৭ বার পড়া হয়েছে

এবার ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্সসহ আরও সাত দেশ। সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন শুরুর আগে এক দিনের বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে এ স্বীকৃতির কথা ঘোষণা করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী দেশের তালিকায় অ্যান্ডোরা, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মনোকো এবং সান মারিনোর নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমরা আর দেরি করতে পারি না। ফিলিস্তিনে শান্তি ফেরানোর সময় এখনই। দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

মাখোঁ আরও বলেন, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন একই পথে চলছে। এর আগে রোববার ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যের মধ্যে চার দেশের কাছ থেকেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল ফিলিস্তিন। ১৯৮৮ সালে নিরাপত্তা পরিষদের দুই সদস্য রাশিয়া ও চীন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছিল। একই বছরে বাংলাদেশও স্বীকৃতি দেয়।

সোমবার জি-৭ জোটের সদস্য ইতালিতেও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। নাগরিকরা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির জন্য দেশটির সরকারকে চাপে রেখেছে। ফ্রান্সসহ শিল্পোন্নত জোটের তিনটি দেশই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র দেখতে চায়। জোটটির অন্য চারটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি ও ইতালি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। চলবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সোমবার জাতিসংঘে ওই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করে ফ্রান্স ও সৌদি আরব। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সরাসরি উপস্থিত থাকলেও সৌদি প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান ভার্চুয়ালি যোগ দেন। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থাৎ ১৫৮টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন বলেছেন, তাঁর দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।

জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এই পদক্ষেপকে ‘সার্কাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করে। এর আগে নেতানিয়াহু চার দেশের স্বীকৃতির পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ফিলিস্তিন কোনো রাষ্ট্র হবে না। এদিকে সোমবার মধ্য লন্ডনে ফিলিস্তিন দূতাবাসের বাইরে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটিতে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট যুক্তরাজ্যের ঘোষণার পর ভাষণ দেন। এর পরই দূতাবাসে পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা আগে ফিলিস্তিন মিশন নামে পরিচিত ছিল।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে ইউরোপের আরও ৪ দেশ, জানালেন মাখোঁ

আপডেট সময় ০৩:০৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এবার ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্সসহ আরও সাত দেশ। সোমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশন শুরুর আগে এক দিনের বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে এ স্বীকৃতির কথা ঘোষণা করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ। এ সময় তিনি ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী দেশের তালিকায় অ্যান্ডোরা, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, মনোকো এবং সান মারিনোর নাম ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমরা আর দেরি করতে পারি না। ফিলিস্তিনে শান্তি ফেরানোর সময় এখনই। দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়।

মাখোঁ আরও বলেন, স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং সুইডেন একই পথে চলছে। এর আগে রোববার ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির ঘোষণা দেয় যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও পর্তুগাল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্যের মধ্যে চার দেশের কাছ থেকেই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেল ফিলিস্তিন। ১৯৮৮ সালে নিরাপত্তা পরিষদের দুই সদস্য রাশিয়া ও চীন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছিল। একই বছরে বাংলাদেশও স্বীকৃতি দেয়।

সোমবার জি-৭ জোটের সদস্য ইতালিতেও ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। নাগরিকরা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির জন্য দেশটির সরকারকে চাপে রেখেছে। ফ্রান্সসহ শিল্পোন্নত জোটের তিনটি দেশই ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র দেখতে চায়। জোটটির অন্য চারটি দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, জার্মানি ও ইতালি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশন শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার। চলবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

সোমবার জাতিসংঘে ওই বিশেষ সম্মেলনের আয়োজন করে ফ্রান্স ও সৌদি আরব। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সরাসরি উপস্থিত থাকলেও সৌদি প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান ভার্চুয়ালি যোগ দেন। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের পক্ষে আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি অর্থাৎ ১৫৮টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন বলেছেন, তাঁর দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। তবে চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে।

জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এই পদক্ষেপকে ‘সার্কাস’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করে। এর আগে নেতানিয়াহু চার দেশের স্বীকৃতির পর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ফিলিস্তিন কোনো রাষ্ট্র হবে না। এদিকে সোমবার মধ্য লন্ডনে ফিলিস্তিন দূতাবাসের বাইরে ফিলিস্তিনি পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটিতে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হুসাম জোমলট যুক্তরাজ্যের ঘোষণার পর ভাষণ দেন। এর পরই দূতাবাসে পতাকা উত্তোলন করা হয়, যা আগে ফিলিস্তিন মিশন নামে পরিচিত ছিল।