কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দেয়ালে ‘গুপ্ত সাংবাদিক’ লেখা ঘিরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা এ ধরনের লেখার প্রতিবাদ জানালে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন, যাদের প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতার কোনো যোগ্যতা বা সংশ্লিষ্টতা নেই। এ বিষয়টি নিয়েই দেয়ালে এমন লেখা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সভাপতি ইমন বলেন, ছাত্রদল সবসময় শিক্ষামূলক ও সচেতনতামূলক ওয়াল রাইটিং করে। ‘গুপ্ত সাংবাদিক’ ধরনের কোনো লেখা আমাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, ফারহান নামের এক শিক্ষার্থী দাবি করেন, গতকাল রাতে যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে, তার মূল কারণ ছিল এই ‘গুপ্ত সাংবাদিক’ লেখা। আমার ধারণা, ছাত্রদলের ছেলেরা ইচ্ছাকৃতভাবে এটি লিখেছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের আরেক সদস্য ভিন্ন মত দেন। তিনি বলেন, শিবিরের কিছু ছেলে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। প্রকৃত সাংবাদিকতা না করে এমন ভুয়া পরিচয়ের প্রতিবাদ হিসেবেই এসব লেখা দেওয়া হয়েছে।
প্রেস ক্লাবের প্রকাশনা সম্পাদক খালেদ বলেন, আমাদেরকে বেশ কয়েকদিন ধরেই বিনা কারণে ওরা হুমকি দিয়ে আসছে। আজকে আমাদের সভাপতিকে গুরুতর আহত করেছে। এর আগে আমাকে মারার হুমকি দিয়েছে। আমরা হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।
কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রেস ক্লাবের সভাপতি কাজী নাফিজ আব্দুল্লাহ বলেন, ছাত্রদলের ছেলেরা গুপ্ত সাংবাদিক, গুপ্ত শিবিরসহ নানান কিছু দেয়ালে লেখার কর্মসূচি পালন করছিল। তখন আমাকে তারা দেখে উস্কানিমূলক কথা বলে হামলা চালায়। অতীতে ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে এমন সহিংসতা চালিয়েছে এখন ছাত্রদলও ওদের মতো আচরণ করতেছে। ক্যাম্পাসে একজন শিক্ষার্থী নিরাপদ না হলে তাহলে সে কোথায় নিরাপদ? প্রিন্সিপাল আমাদের বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে বলেন, কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট 



















