ভারতে প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত হচ্ছে। শিক্ষাসচিব বিনীত জোশীকে অপসারণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তবে এই পদক্ষেপেও বিক্ষোভ থামেনি। বরং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা।

এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজপথে নেমেছেন অধিকারকর্মী ও সাধারণ মানুষও।

দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ছড়িয়ে পড়েছে মুম্বাই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু, চেন্নাইসহ ভারতের বড় বড় শহরে। মুম্বাইয়ে পুলিশের একটি গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী আন্দোলনকারীর ছবি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৬ আগস্ট পর্যন্ত পাঁচজনের বেশি মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। তবে তাতেও থামেনি বিক্ষোভ।

এক আন্দোলনকারী রিয়া আহির অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের আচরণ ছিল অন্যায্য। তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে তার দায় পুলিশকেই নিতে হবে।

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, আলোচনার দরজা এখনো খোলা রয়েছে। সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি। তবে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবির প্রশ্নে কোনো আপস হবে না। তিনি বলেন, সরকার চাইলে যন্তর মন্তর বা কনস্টিটিউশন ক্লাবের মতো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে পারে।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার আদালত গঠন এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন সময়ের দাবি। এদিকে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেসও। দলটির নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংসের জন্য মোদি সরকারই দায়ী।